সিএনজি অটোরিকশার ভাড়া বৃদ্ধি ও চলাচল বন্ধের প্রতিবাদে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) প্রায় পাঁচ ঘণ্টার অবস্থান কর্মসূচির পর ক্যাম্পাসে স্থায়ীভাবে চারটি চক্রাকার বাস চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) থেকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) জিরো পয়েন্ট থেকে ১ নম্বর গেট রুটে এসব বাস চলাচল করবে।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাত ১টার দিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সামনে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-আমীন এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।
এর আগে গ্যাস সংকটের কথা বলে সোমবার সকাল থেকে ১ নম্বর গেট থেকে জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত সিএনজি অটোরিকশার ভাড়া বাড়িয়ে দেন চালকেরা। এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে চালকদের বাগবিতণ্ডার পর সন্ধ্যায় ওই রুটে সিএনজি চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে ১ নম্বর গেটে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী আটকা পড়েন বলে জানান শিক্ষার্থীরা।
এর প্রতিবাদে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্টের প্রধান ফটকে তালা দিয়ে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করে চাকসু। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসসহ বিভিন্ন যানবাহনের চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরাও অংশ নেন।
প্রায় পাঁচ ঘণ্টা অবস্থানের পর রাত ১টার দিকে আন্দোলনস্থলে উপস্থিত হন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-আমীন। তিনি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং জিরো পয়েন্ট থেকে ১ নম্বর গেট পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য স্থায়ীভাবে চারটি চক্রাকার বাস চালুর ঘোষণা দেন।
চাকসুর যোগাযোগ ও আবাসন বিষয়ক সম্পাদক মো. ইসহাক ভূঁঞা বলেন, “আমাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসন চারটি বাস চালুর আশ্বাস দিয়েছে। আমরা আশা করি, আগামীকাল সকাল থেকেই বাসগুলো চলাচল করবে।”
উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-আমীন বলেন, “আজ যেসব শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্টে আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন, তাদের সবার একটাই দাবি ছিল—ক্যাম্পাসে স্থায়ীভাবে চক্রাকার বাস চালু করতে হবে। আগামীকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জিরো পয়েন্ট মোড় থেকে ১ নম্বর গেট রুটে স্থায়ীভাবে চারটি বাস চালুর ব্যবস্থা করেছে। এই বাসগুলো চক্রাকারে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের ব্যবস্থা করবে।”
এর আগে চাকসুর নেতারা অভিযোগ করেন, সিএনজি চালকেরা সিন্ডিকেট করে শিক্ষার্থীদের জিম্মি করছেন। ভাড়া বৃদ্ধি ও হঠাৎ সিএনজি চলাচল বন্ধের সমস্যার সমাধানের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য কার্যকর বিকল্প পরিবহন ব্যবস্থা চালুর দাবি জানিয়েছিলেন তারা।






