ঢাকা   সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Logorb
রেডিও বার্তা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
খুঁজছি: বিভাগীয় প্রধান

অস্ত্র-রামদা নিয়ে মহড়া দেওয়া ১৯ জনের পরিচয় শনাক্ত, প্রায় সবাই বিএনপির নেতাকর্মী

Authorরেডিও বার্তা অনলাইন

প্রকাশ: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৩৪ পিএম

অস্ত্র-রামদা নিয়ে মহড়া দেওয়া ১৯ জনের পরিচয় শনাক্ত, প্রায় সবাই বিএনপির নেতাকর্মী

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ছাত্রশিবিরের এক নেতাকে ছাত্রদল নেতার থাপ্পড় দেওয়ার জেরে গতকাল শনিবার দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা, ধস্তাধস্তি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ওই সময় ক্যাম্পাসের বিভিন্ন প্রবেশপথে রামদাসহ দেশীয় অস্ত্র হাতে মহড়া দিতে দেখা যায় একাধিক ব্যক্তিকে। পরে ভিডিও ফুটেজ দেখে তাদের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় সবাই বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মী।

এ ঘটনায় ক্যাম্পাসে এখনও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা জোরদারসহ বহিরাগত প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ ছাড়া ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে কাজ শুরু করেছে প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটি। ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দেবেন তারা। প্রতিবেদন জমা হলে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

এরই মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনার সময় ছাত্রদল প্রধান ফটকে অবস্থান নিলে তাদের সঙ্গে স্থানীয় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ধারালো দেশীয় অস্ত্রসহ মহড়া দিতে দেখা যায়। ওই ঘটনার ভিডিও ফুটেজ ও ছবি বিশ্লেষণ করে ক্যাম্পাস সংলগ্ন বিভিন্ন এলাকার অন্তত ১৯ জন অস্ত্রধারীর পরিচয় পাওয়া গেছে।

ঘটনার ভিডিও ও ছবিতে দেখা যায়, অস্ত্রধারীদের মধ্যে ছিল পদমদী গ্রামের বিএনপি কর্মী মনোওয়ার, যুবদলের হামিম, সানওয়ার ও রাজিব, পদমদীর বিএনপি কর্মী ইমন বিশ্বাস, শীতলডাঙার শিমুল, জাঙ্গালিয়া পশ্চিমপাড়ার শাহজাহান খন্দকারের ছেলে সাগর খন্দকার, আনন্দনগরের নাহিদ ও বাধন, শেখপাড়ার জিম মন্ডল, নিবিড় মন্ডল, সাইফুল, হিমেস, তৌহিদ, রাতুল জোর্দার ও সোহাগ, ডিএম কলেজ ছাত্রদলের সেক্রেটারি হৃদয়, ছাত্রদল কর্মী মদনডাঙা হাই স্কুলের এসএসসি ২৬ ব্যাচের রাইসুল এবং দশম শ্রেণির মিকদাদ।

এ বিষয়ে পদমদী গ্রামের বিএনপি কর্মী মনোওয়ার হোসেন বলেন, ‘ঘটনার সময়ে সেখানে গিয়েছিলাম আমি কিন্তু ক্যাম্পাসের ভেতরে প্রবেশ করিনি। স্থানীয় জামায়াত নেতাকর্মীরা উসকানি দেওয়ায় আমরা তাদের ধাওয়া দিয়েছিলাম। ওখানে কয়েকটি ইউনিয়নের বিএনপি-যুবদলের নেতাকর্মীরা ছিল। আমিও ছিলাম।’

হাতে অস্ত্র থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ওখানে আমাদের হাতে লাঠি ছিল, কোনও অস্ত্র ছিল না। ওখানে আমাদের পাঁচ-সাতটা ইউনিয়নের যুবদল, ছাত্রদল, বিএনপির নেতাকর্মী ছিল, হয়তো এর মধ্যে কেউ হতে পারে অথবা ক্যাম্পাসের ছাত্রদলেরও হতে পারে। আমি তো সবাইকে চিনি না।’

তবে পরিচয় শনাক্ত হওয়া অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি নিয়ে জানতে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মাসুদ রুমি মিথুনের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

শাখা ছাত্রদলের সদস্যসচিব রাফিজ আহমেদ বলেন, ‘আমরা কোনও বহিরাগত নিয়ে আসিনি। এ বিষয়ে জানি না। ওটা বিক্ষুব্ধ জনতা হয়তো আসতে পারে। সম্পূর্ণ ঘটনার বিষয়ে প্রশাসন তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। পুরো ঘটনা তদন্তের জন্য আমরা প্রশাসনের ওপর আস্থা রাখছি। তদন্ত কমিটি সমস্ত ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।’

ঘটনার পর থমথমে ক্যাম্পাস, বাড়তি নিরাপত্তা জোরদার

এদিকে দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় ক্যাম্পাসে এখনও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। নিরাপত্তা নিশ্চিতে ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকসহ সকল প্রবেশপথে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া ক্যাম্পাসে বহিরাগত প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ বিষয়ে অবগত করে শনিবার মধ্যরাত থেকে ক্যাম্পাসে মাইকিং করা হচ্ছে। এ ছাড়া হলগুলোতেও বাড়তি নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

রবিবার সরেজমিনে দেখা যায়, বহিরাগতদের প্রবেশ ঠেকাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রবেশপথে পরিচয়পত্র যাচাই করা হচ্ছে। প্রক্টরিয়াল বডি শিক্ষার্থীদের আইডি কার্ড দেখে ক্যাম্পাসে প্রবেশের অনুমতি দিচ্ছে। সংঘর্ষের ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যেও আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের কম উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।

এদিন ক্যাম্পাসে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের কোনও তৎপরতা দেখা না গেলেও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের আড্ডা দিতে দেখা যায়। অন্যদিকে প্রধান ফটকে স্থানীয় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের অবস্থানের পাশাপাশি মোটরসাইকেল শোডাউন চলতে দেখা গেছে। এ সময় তারা জামায়াত-শিবিরবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দেন।

সার্বিক বিষয়ে প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, ‘গতকাল রাত থেকে পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নিয়ে পুরো ক্যাম্পাস টহল দেওয়া হয়েছে। আজ নিরাপত্তা জোরদার এবং বহিরাগতদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কেউ যেন আইন নিজের হাতে তুলে না নেয়, সে বিষয়েও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

ইবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশিদ বলেন, ‘অস্ত্রসহ বহিরাগত প্রবেশের বিষয়টি অনুসন্ধান করা হচ্ছে। আহতদের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রশাসনের অনুরোধে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’

তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ড. মোহাম্মদ সেলিম বলেন, ‘আমরা কাজ শুরু করেছি। ঘটনার তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করছি। সংশ্লিষ্ট সব জায়গায় চিঠি দিয়েছি। বহিরাগতদের প্রবেশসহ ঘটনার সার্বিক বিষয় নিয়ে তদন্ত করা হবে।’

উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, ‘ঘটনার তদন্তে কমিটি গঠন এবং তাদের ৭২ ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রশাসন সবসময় কঠোর ও সচেতন রয়েছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই।’

নিয়োগ চলছে
সংবাদকর্মী আবশ্যক
রেডিও বার্তা টিমে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ুন
পরবর্তী সংবাদ আসছে...
লিংক কপি হয়েছে!
Radio Barta App Screen 1
Radio Barta App Screen 2
রেডিও বার্তার সব নিউজ পেতে ডাউনলোড করুন মোবাইল অ্যাপ
ক্লিক করুন