জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বললেন, বিএনপিকে আলাদাভাবে মূল্যায়ন করা হলেও আমরা দলটির কোনো অন্যায়ে বিন্দুমাত্র ছাড় দেবো না। তাদের সব অন্যায়ের প্রতিবাদ করবো আমরা। চাঁদাবাজি করলে চাঁদাবাজ বলবো। বিগত ছয় মাসে বিএনপি জনআকাঙ্ক্ষা থেকে দূরে সরে গেছে। এভাবে চলতে থাকলে পাঁচ বছর ক্ষমতায় স্থায়ী হতে পারবে না তারা।
এনসিপির পটুয়াখালী জেলা শাখার আয়োজনে মল্লিকা পার্টি সেন্টারে গতকাল মঙ্গলবার বিকালে অনুষ্ঠিত সাংগঠনিক সমন্বয় সভা ও রাজনৈতিক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
দেশে বিদ্যুৎ, গ্যাস, জ্বালানির যে জাতীয় সংকট চলছে আমরা তাতে বিএনপিকে সহযোগিতা করতে চাই উল্লেখ করে সারজিস আলম বলেন, কিন্তু উচ্চমূল্যে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি কিনে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। আবার কয়েকদিন আগে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন কেউ যদি অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করে আইনগতভাবে তা প্রতিহত করা হবে। এই অরাজকতা তাদের দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা, অযোগ্যতাকে বড় বড় পদে পদায়নের জন্য তারা সৃষ্টি করছে। নিজেরা অরাজকতা তৈরি করে বিরোধীদলের ওপরে দায় চাপিয়ে তাদের দমন করার যে রাজনীতি করা হচ্ছে, তা এই বাংলাদেশে চলবে না। জনগণের এই দুর্বিষহ কষ্টের বিষয়গুলো নিয়ে লুটপাটের রাজনীতি করা হলে জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে তা প্রতিহত করবে।
ইতালিতে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা-প্রতিবাদ জানিয়ে সারজিস আলম বলেন, অভিনেত্রী বাঁধনকে সরকারিভাবে আইনগত সহায়তার প্রদানের পাশাপাশি বর্তমান সরকারকে ওই অপরাধীদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে হবে। ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য আওয়ামী লীগ ১৪০০ মানুষকে হত্যা করেছিল। বর্তমানে আওয়ামী লীগ একটি ক্লোজড চ্যাপ্টার। তাদের বাংলাদেশে পতন হয়েছে, ভারতে গিয়ে দাফন হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বিএনপিকে লাগাম টেনে ধরতে হবে। বিএনপি যদি ভোটের সমঝোতার জন্য খুনি ও স্বৈরাচারদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়ার চিন্তাভাবনা করে তাহলে হিতে বিপরীত হবে। এক্ষেত্রে কোনো সংকট তৈরি হলে সব দলের ওপর দিয়েই যাবে এবং বিএনপি যেহেতু ক্ষমতায়; সংকটের অগ্রভাগ তাদেরকেই মোকাবিলা করতে হবে। বিএনপি ও বিচার বিভাগ যদি এই বিষয়গুলোতে শাস্তি নিশ্চিত না করে, তাহলে শহিদ পরিবার ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের নিয়ে আমাদের আবারও রাজপথে নামতে হতে পারে।






