স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানাকে ইঙ্গিত করে জাতীয় সংসদের হুইপ এ. বি. এম. আশরাফ উদ্দিন নিজান বলেছেন, সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সময় খেয়াল রাখতে হবে, কথায় যেন অন্য কেউ আঘাতপ্রাপ্ত না হন। একই সঙ্গে বক্তব্য অশালীন না হওয়ার বিষয়েও সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে মাদক, দুর্নীতি ও আইনশৃঙ্খলাসহ বিভিন্ন বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
হুইপ বলেন, ‘আমি যখন কথা বলব, তখন লক্ষ্য রাখতে হবে আমার কথায় অন্য কেউ যেন আঘাতপ্রাপ্ত না হন। আমি যেমন যেকোনো কথা বলতে পারব, আবার মনে রাখতে হবে আমার বক্তব্য যেন অশালীন না হয়। সে রকম কথা মাঝে-মধ্যে সংসদে হয় না—এটা বলা যাবে না।’
এর আগে সংসদে সরকারের সমালোচনা করে রুমিন ফারহানার দেওয়া বক্তব্যের প্রতিবাদে শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে ঝাড়ু মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আশরাফ উদ্দিন নিজান বলেন, ‘রুমিন ফারহানার বক্তব্যে কেউ সংক্ষুব্ধ হয়েছেন, আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন। কিন্তু বিরোধী দলীয় নেতা ১০ সেপ্টেম্বর বক্তব্য দিয়েছেন, সংসদ নেতাও বক্তব্য দিয়েছেন। সংসদ নেতা বলেছেন, আমাদের সহ্য করতে হবে। গণতন্ত্রের নামই হলো ধৈর্য।’
তিনি আরও বলেন, ‘নেতা যখন ধৈর্য ধরার কথা বলেছেন, আমি মনে করি আমাদের যারা সংক্ষুব্ধ হয়েছেন, তাঁদেরও এই ধৈর্য রাখতে হবে। এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য।’
দেশের চলমান জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট প্রসঙ্গে হুইপ বলেন, ‘এখন জাতীয়ভাবেই গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট চলছে। আমরা বারবার বলছি, ফ্যাসিস্টরা ৩৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছে—হাতিরঝিলে এর জন্য ১০০ কোটি টাকা খরচ করে উৎসব করেছে। এসব কথা বলে এখন আর কোনো লাভ নেই।’
তিনি বলেন, ‘এই যে সংকট, সেটা জনগণকে আমরা বলে দিতে চাই। এই সংকট থেকে উত্তরণের পথ বের করতে হবে। সেই লক্ষ্যেই আমরা কাজ করছি।’
দেশে মাদকের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আশরাফ উদ্দিন নিজান বলেন, ‘মাদক সুপরিকল্পিত উপায়ে আমাদের এখানে আনা হয়। ঘরে ঘরে মাদকের থাবা। এখান থেকে জাতিকে বাঁচাতে হবে। সেজন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রধান অগ্রাধিকার মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ।’
বৈঠকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর ও বিজয়নগর) আসনের সংসদ সদস্য খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নাদিয়া পাঠান পাপন এবং জেলা বিএনপির সহসভাপতি এ. বি. এম. মোমিনুল হকসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।






