দেশের বিচারিক ইতিহাসে ট্রাইব্যুনালে এক বড় ঘটনা ঘটে গেছে আজ। দিনভর দেশি-বিদেশি গণমাধ্যম কর্মীদের ভীড়, জনাকীর্ণ আদালতে রায়ের অপেক্ষা। এরপর আড়াই ঘণ্টার রায়ের পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল- ১ চব্বিশের জুলাই আন্দোলনে ছাত্র জনতার ওপর হত্যাযজ্ঞ চালানোর দায়ে শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছেন।
রায়ের পর চঞ্চল হয়ে ওঠে পুরো ট্রাইব্যুনাল, কিন্তু সন্ধ্যার পরই সেখানে নেমে এল নিস্তব্ধতা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ছাড়া পুরো ট্রাইব্যুনাল যেনো এক নীরব ইতিহাসের কথা বলছে। যেই ট্রাইব্যুনালে ১৯৭৩ সালের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য আইন করেছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান, সেই আইনেই শেখ হাসিনার ফাঁসি দেখল পুরো বিশ্ব।
শুধু তাই নয়, একাত্তরে যুদ্ধাপরাধের বিচারের জন্য শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ সরকার ২০১০ সালে যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন করেছিল, ছাত্র-জনতার আন্দোলনের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ সরকারের চালানো দমন পীড়নকে ‘গণহত্যা’ বিবেচনা করে এই আদালতেই বিচারের উদ্যোগ নেয় অন্তর্বর্তী সরকার।
বাংলাদেশে আর কোনও সরকার প্রধানের মাথাতেই এভাবে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঝুলেনি। টানা ১৫ বছর দেশ চালানো শেখ হাসিনা ২০২৪ এ নতুন করে ক্ষমতায় আসার পরও কখনও হয়তো ভাবেননি এভাবে তাকে ফাঁসির দড়ি তাড়িয়ে বেড়াবে। শেখ হাসিনা আজ দিল্লির কোনও এক জায়গায় হয়তো নীরবে আছেন, ঠিক এই ট্রাইব্যুনালের মতই।
এখন দেখার বিষয় আগামি কয়েকদিনে এ রায় নিয়ে কি প্রতিক্রিয়া দেয় শেখ হাসিনা ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ দল আওয়ামী লীগ।
বার্তাবাজার/এমএইচ





