প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা কমানো এবং রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বাড়ানোর প্রস্তাবের বিরোধিতা করেন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক। সূত্র জানায়, তিনি বলেছেন, সংসদীয় সরকারব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা কমানোর উদ্যোগ নেওয়া উচিত নয়। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়েও এভাবে আলোচনা করা সমীচীন নয়। নোট অব ডিসেন্টসহ জুলাই সনদ যেভাবে স্বাক্ষরিত হয়েছে, সেভাবেই তা বাস্তবায়নের পক্ষে মত দেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, জনগণ বিএনপিকে নির্বাচিত করেছে এবং সংবিধান সংশোধনের জন্য দলটিকে ৫০ শতাংশের বেশি ভোট দিয়েছে।
সভায় সংবিধান সংশোধনসংক্রান্ত আলোচনা জনগণের সামনে উন্মুক্ত রাখার দাবি জানান এক ছাত্রনেতা। জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আলোচনার মতো বিশেষ কমিটির বৈঠকও সরাসরি সম্প্রচারের প্রস্তাব দেন তিনি। এতে কমিটির আলোচনার বিষয়গুলো জনগণ জানতে পারবে বলে মনে করেন তিনি।
সূত্র জানায়, সভায় কমিটির সভাপতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, গণভোটের প্রশ্নে শুধু জুলাই সনদের পক্ষে বা বিপক্ষে মত দেওয়ার সুযোগ রাখা উচিত ছিল। বিএনপির পক্ষ থেকেও এ ধরনের প্রশ্ন রাখার প্রস্তাব ছিল। তবে গণভোটে একাধিক প্রশ্ন রাখায় বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।
সংসদ সচিবালয় থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সভায় সংবিধানে শিক্ষা ও চিকিৎসাকে মৌলিক অধিকার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা, জুলাই যোদ্ধাদের আইনি সুরক্ষা, গণ-অভ্যুত্থানের দাবি যথাযথভাবে বাস্তবায়ন, জুলাই সনদের টেকসই বাস্তবায়ন, প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা, নারী ও শিশুর সুরক্ষা, জরুরি অবস্থা ঘোষণার বিধান, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতা এবং গণভোটসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে যুগে যুগে তরুণেরাই জাতিকে পথ দেখিয়েছেন উল্লেখ করে তাঁদের কল্যাণে জনবান্ধব ও যুগোপযোগী সংবিধান প্রণয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে সময়োপযোগী সংবিধান প্রণয়নের বিষয়েও আলোচনা হয়। বৈঠকে আরও বলা হয়, জুলাই সনদে স্পষ্টভাবে ‘সংবিধান সংশোধন সাপেক্ষে সংস্কার’-এর কথা উল্লেখ রয়েছে। জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে সরকার আন্তরিক। এ বিষয়ে বিরোধী পক্ষের অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হতে তরুণদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়।
কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বৈঠকে আরও অংশ নেন কমিটির সদস্য চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, জয়নুল আবেদীন, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নূরুল হক, ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন এবং সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন।





