সভাপতির বক্তব্যে সুব্রত চৌধুরী বলেন, ৫৪ বছর ধরে আমরা আন্দোলন সংগ্রাম করছি বিচার বিভাগের স্বাধীনতার জন্য। এক এগারো সরকার কিছুটা করেছে। সচিবালয় (সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়) এখান থেকে তুলে নিয়ে তালা লাগিয়ে দিয়েছে। তারপরে বিচারপতিদের নিয়োগের যে বিধি সেটার জন্য বহুবছর আমরা অপেক্ষা করেছি। সুপ্রিম কোর্টের বিভিন্ন রায়েও বলেছে যে বিধি করতে হবে। যেনতেনভাবে বিচারপতি নিয়োগ করা যাবে না। এখন দেখছি সেই বিধিটাও বাতিল করে দিয়েছে। তাহলে আমরা যেখানে ছিলাম সেখানেই রয়ে গেছি। আমরা শুধু ঘুরপাক খাচ্ছি। এরকম বিভক্তি থাকলে ভবিষ্যতে আবার আমরা হোঁচট খাবো। এই সরকারকে বলতে চাই, অনেক চড়াই উতারায়ের মধ্য দিয়ে সর্বশেষ জুলাই অভ্যত্থানের মধ্য দিয়ে আমরা এখন একটা জায়গায় এসেছি। আপনারা জাতিকে আর বিভক্তি করবেন না।
সুব্রত চৌধুরী আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০-এর গণঅভ্যুত্থান এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করতে হবে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম লক্ষ্য ছিল বৈষম্যহীন ও মানবিক রাষ্ট্র গঠন। সেই জায়গায় আমাদের থাকতে হবে। কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি মাঠে ময়দানে বিরোধী দল এখন ৪৭কে নিয়ে আসতে চায়। তাঁরা মুক্তিযুদ্ধকে মুছে দিতে চায় এবং তাঁদের সহযোগী ছিল প্রফেসর ইউনুস। অন্তবর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের ‘বাংলাদেশকে রিসেট’ করার মধ্য দিয়ে ১৯৫২, ১৯৬২, ১৯৬৯, ১৯৭১ ও ১৯৯০ সালের ইতিহাসকে বাতিল করার কথা বলা হয়েছিল। ওই সময়ে দেশে মবতন্ত্র ও মৌলবাদের উত্থান ঘটেছে, যার প্রভাব এখনো মানুষকে ভোগাচ্ছে। মৌলবাদী গোষ্ঠী বাংলাদেশে আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠলে জাতির ভবিষ্যৎ অন্ধকার হবে। যে কোনো মূল্যে ঐক্যবদ্ধভাবে মৌলবাদী গোষ্ঠিকে নিশ্চিহ্ন করতে হবে।
সভায় আরও বক্তব্য দেন অধ্যাপক আবু সাইয়িদ, ব্যারিস্টার সারা হোসেন প্রমুখ। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আইনজীবী হাসান তারিক চৌধুরী।





