মিয়ানমারে শান্তি প্রতিষ্ঠায় জাপানের বিশেষ দূত ও নিপ্পন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ইয়োহেই সাসাকাওয়া অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে আজ মঙ্গলবার সাক্ষাৎ করেছেন।
মিয়ানমারে শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং দেশটির চলমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য ইউনূস সেন্টারে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বর্তমান পরিস্থিতি, মিয়ানমারের সংকট, বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ক এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। এর আগে সোমবার বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ক, বাংলাদেশের সাম্প্রতিক গণতান্ত্রিক উত্তরণ, রোহিঙ্গা মানবিক সংকট ও দুই দেশের সম্ভাব্য সহযোগিতা নিয়েও মতবিনিময় করেন সাসাকাওয়া।
সাক্ষাতে সাসাকাওয়া জাপান ও বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন। তিনি অধ্যাপক ইউনূসের দর্শন ও নেতৃত্বের প্রশংসা করে বলেন, সম্পদের কেন্দ্রীভবন এখন বৈশ্বিক সমস্যা এবং কোনো একক দেশের পক্ষে এ সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়। এ জন্য বিভিন্ন দেশের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
মিয়ানমারে দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ করে সাসাকাওয়ার মানবিক ও শান্তি প্রতিষ্ঠার অভিজ্ঞতাও বৈঠকে গুরুত্ব পায়। অধ্যাপক ইউনূস আশা প্রকাশ করেন, মিয়ানমারে শান্তি ও সংলাপ প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় সাসাকাওয়া ভবিষ্যতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আলোচনায় বাংলাদেশে থাকা রোহিঙ্গা শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য মৌলিক সহায়তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন অধ্যাপক ইউনূস। তিনি সতর্ক করে বলেন, স্পষ্ট আত্মপরিচয় ও ভবিষ্যৎ সম্পর্কে ধারণা ছাড়া একটি প্রজন্ম বেড়ে উঠলে তাদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সাসাকাওয়া জানান, তিনি রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করবেন এবং সেখানে মানবিক সহায়তার সম্ভাব্য ক্ষেত্রগুলো খুঁজে দেখবেন।
বৈঠকে বাংলাদেশের কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান ও যোগাযোগ অবকাঠামোর গুরুত্ব নিয়েও আলোচনা হয়। অধ্যাপক ইউনূস বাংলাদেশের উপকূলীয় সম্ভাবনা এবং গভীর সমুদ্রবন্দর উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, উন্নত বন্দর অবকাঠামো ও আঞ্চলিক যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে উঠলে বাংলাদেশ প্রতিবেশী দেশগুলোর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার হয়ে উঠতে পারে। একই সঙ্গে নেপাল, ভুটান ও ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে বিশ্ববাজারের সঙ্গে যুক্ত করার ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
আলোচনায় সামাজিক ব্যবসা, উদ্যোক্তা উন্নয়ন ও শিক্ষা নিয়েও মতবিনিময় হয়। অধ্যাপক ইউনূস চাকরিপ্রার্থী তৈরির পরিবর্তে তরুণদের উদ্যোক্তা ও চাকরিদাতা হিসেবে গড়ে তোলার উপযোগী নতুন শিক্ষাপদ্ধতি উদ্ভাবনের ওপর গুরুত্ব দেন। এ সময় গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রমের বিষয়টিও উঠে আসে।
বৈঠক শেষে বাংলাদেশ ও জাপানের সহযোগিতা অব্যাহত রাখা এবং সামাজিক ব্যবসা, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, শিক্ষা, মানবিক সহায়তা ও আঞ্চলিক শান্তির মতো ক্ষেত্রে বাস্তবভিত্তিক সহযোগিতার নতুন সুযোগ খুঁজে বের করার বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হয়।





