ঢাকা   মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Logorb
রেডিও বার্তা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
খুঁজছি: বিভাগীয় প্রধান

তামিম ইকবালের রাজনীতিতে যোগদান: সময়ের দাবি না কি ভুল সিদ্ধান্ত

Authorরেডিও বার্তা অনলাইন

আপডেট: ১৩ মে ২০২৫, ০৫:২৩ পিএম

তামিম ইকবালের রাজনীতিতে যোগদান: সময়ের দাবি না কি ভুল সিদ্ধান্ত

বাংলাদেশের জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও অন্যতম সফল ব্যাটসম্যান তামিম ইকবাল যদি বিএনপির রাজনীতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেন, তাহলে তা নিঃসন্দেহে দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দেবে। দেশের অন্যতম জনপ্রিয় ক্রীড়াবিদের রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রবেশ নিয়ে প্রশ্ন উঠবেই এটা কি তাঁর জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত, নাকি একপ্রকার ভুল পথে পা বাড়ানো?

ক্রিকেট কিংবা যেকোনো খেলার মাঠে অর্জিত জনপ্রিয়তা অনেক সময় রাজনীতির মঞ্চেও মানুষকে এগিয়ে দেয়। তামিম ইকবালের মতো তারকারা মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন মাঠের পারফরম্যান্স দিয়ে। কিন্তু রাজনীতি এমন এক জগত, যেখানে মাঠের পারফরম্যান্স নয়, বরং আদর্শ, কৌশল, দূরদর্শিতা, এবং জনগণের দীর্ঘমেয়াদী কল্যাণের প্রতি দায়বদ্ধতাই মুখ্য। তাই এই অঙ্গনে পা বাড়ানোর আগে প্রত্যেক তারকার উচিত সতর্কতা, পর্যালোচনা, এবং পরিপূর্ণ প্রস্তুতি।

এর আগেও অনেক তারকা রাজনীতিতে যোগ দিয়েছেন। কেউ কেউ তা সফলভাবে সামাল দিয়েছেন, কেউ হয়েছেন সমালোচনার শিকার, আবার কেউ কেউ হয়তো শাসক দলের পতনের পরে দেশে টিকতে না পেরে বিদেশে আশ্রয় নিয়েছেন। তাই তারকাদের রাজনীতিতে আসাটা নতুন নয়, কিন্তু সবসময় নিরাপদ বা সফলও নয়।

তামিম ইকবালের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো তিনি কী উদ্দেশ্য নিয়ে রাজনীতিতে আসছেন? জনগণের কল্যাণে কাজ করার মানসিকতা থাকলে এবং তিনি যদি রাজনীতিকে পুরোপুরি বুঝে তাতে সম্পৃক্ত হতে চান, তাহলে অবশ্যই এটা একটি ইতিবাচক উদ্যোগ হতে পারে। কিন্তু যদি শুধুমাত্র জনপ্রিয়তা কাজে লাগিয়ে ক্ষমতার রাজনীতিতে প্রবেশের চিন্তা করেন, তাহলে তা তাঁর জন্যও হুমকি এবং দেশের জন্যও বিভ্রান্তির কারণ হতে পারে।

আরেকটি প্রশ্ন হলো, কেন বিএনপি? কেন কোনো নির্দলীয় সামাজিক প্ল্যাটফর্ম বা রাজনৈতিক বিকল্প নয়? বিএনপি বর্তমানে কঠিন সময় পার করছে, দলটির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত এই অবস্থায় তামিমের মতো তারকার দলটিতে যোগদান নিঃসন্দেহে দলকে সাময়িক সুবিধা দেবে, তবে এতে তাঁর নিজস্ব ভাবমূর্তি কতটা অটুট থাকবে, তা ভবিষ্যতেই বোঝা যাবে।

একজন ক্রীড়াবিদ যখন রাজনীতিতে আসেন, তখন তাঁর আচরণ, বক্তব্য এবং সিদ্ধান্ত জনগণের কাছে আরও বেশি মনোযোগ আকর্ষণ করে। সেখানে ভুল হলে তা শুধরে নেওয়ার সুযোগ কম থাকে। একইসাথে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে তৈরি হতে পারে বিতর্ক, ঘৃণা, এমনকি হুমকিও। এসব দিক বিবেচনা না করে যদি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তাহলে তা কেবল ব্যক্তির নয়, বরং দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্যও ক্ষতির কারণ হতে পারে।

তামিম যদি সত্যিই জনগণের স্বার্থে, জাতীয় উন্নয়নের লক্ষ্যে রাজনীতিতে আসতে চান, তাহলে তাঁর উচিত হবে খোলামেলা বক্তব্য দেওয়া, স্বচ্ছ পরিকল্পনা প্রকাশ করা এবং রাজনীতিকে দায়িত্ব হিসেবে নেওয়া, সুযোগ হিসেবে নয়। আমাদের উচিত হবে তাঁকে গালমন্দ না করে, বরং উৎসাহ ও সহনশীল মনোভাব নিয়ে পর্যবেক্ষণ করা কেননা সত্যিকারের নেতৃত্ব অভিজ্ঞতা, নিষ্ঠা এবং ত্যাগ দিয়ে গড়ে উঠে।

শেষ কথা হলো তারকা থেকে নেতা হওয়া সহজ নয়। আর তামিমের মতো জাতীয় গর্বের প্রতীক যদি রাজনীতিতে পা রাখেন, তাহলে তা হতে হবে দায়িত্বশীলতা, সততা ও দেশপ্রেমের মিশেলে গড়া এক নতুন অধ্যায়। সময়ই বলে দেবে, এটা তাঁর জীবনের ভুল সিদ্ধান্ত ছিল নাকি একটি সাহসী পদক্ষেপ।

নিয়োগ চলছে
সংবাদকর্মী আবশ্যক
রেডিও বার্তা টিমে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ুন
পরবর্তী সংবাদ আসছে...
লিংক কপি হয়েছে!