ঢাকা   বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Logorb
রেডিও বার্তা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
খুঁজছি: বিভাগীয় প্রধান

নির্বাচন ও গণতন্ত্র নির্বাচনী সহিংসতা: গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি

Authorরেডিও বার্তা ডেস্ক

আপডেট: ৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ০৬:৫৭ পিএম

<span class="nhu-kicker" style="--nhu-color:#ff0000;">নির্বাচন ও গণতন্ত্র</span><span class="nhu-sep">•</span> নির্বাচনী সহিংসতা: গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি
ছবি: রেডিও বার্তা গ্রাফিক্স

গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথে এখন আর মাত্র দুই সপ্তাহ বাকি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফলের মধ্য দিয়ে ঠিক হবে কার হাতে উঠছে ক্ষমতার মসনদ। নির্বাচন যে গণতন্ত্রের প্রাণ, তা নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। আর নির্বাচনের প্রাণশক্তি হলো নির্বাচনী প্রচারণা—যেখানে প্রার্থী ও রাজনৈতিক দলগুলো জনগণের সামনে নিজেদের আদর্শ, কর্মসূচি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে।

কিন্তু এই প্রচারণাই যদি সহিংসতা, ভয়ভীতি, হামলা-মামলা ও সংঘর্ষে কলুষিত হয়, তা কেবল নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করে না, বরং জনগণের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ওপর আস্থা হ্রাস করে। এ কারণেই বাংলাদেশে চলমান নির্বাচনী প্রচারণায় সহিংসতার ঘটনা গভীর উদ্বেগের কারণ।

নির্বাচনী মাঠে উত্তেজনা ও সহিংসতার ছবি

গত ২২ জানুয়ারি থেকে নির্বাচনী প্রচারণা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়ার পর থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, প্রচারণায় বাধা, অগ্নিসংযোগ ও রাজনৈতিক মামলার ঘটনা প্রকাশ পেয়েছে। নির্বাচন ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে, যা একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য কোনোভাবেই সহায়ক নয়। বরং এটি একটি অশনিসংকেত, যেখানে রাজনীতির প্রতিযোগিতা নীতি ও যুক্তির জায়গা ছেড়ে শক্তি প্রদর্শনের দিকে ঝুঁকে পড়েছে।

শেরপুরে ২৮ জানুয়ারি রাতে ঘটানো সহিংসতার ঘটনা এ বাস্তবতার উদাহরণ। ঝিনাইগাতী উপজেলা পরিষদ মাঠে ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে চেয়ারে বসা নিয়ে বাগবিতণ্ডা থেকে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। শেরপুর-৩ আসনের জামায়াত প্রার্থী রাশেদুল ইসলামের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলায় দেশীয় অস্ত্র ব্যবহৃত হলে ৫০ জনের বেশি জামায়াত সমর্থক আহত হন। গুরুতর আহত তিনজনকে ময়মনসিংহ নেওয়ার পথে একজনের মৃত্যু ঘটে।

এই ধরনের ঘটনা প্রমাণ করে—নির্বাচনী সহিংসতা কতটা ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে। সহিংসতার শিকার মূলত সাধারণ ভোটার, যারা উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দেওয়ার কথা ভাবেন। যখন ভোট কেন্দ্রে বা প্রচারণায় অংশ নেওয়া বিপজ্জনক হয়ে ওঠে, তখন গণতন্ত্রই বিপন্ন হয়।

সহিংসতার মূল কারণ

নির্বাচনী সহিংসতা কেবল আইনশৃঙ্খলার সমস্যা নয়, এটি মূলত একটি নৈতিক ও রাজনৈতিক সংকট। প্রতিপক্ষকে মাঠছাড়া করা, ভয় দেখানো, মিথ্যা মামলা দিয়ে নেতাকর্মীদের হয়রানি—এসব এখন নির্বাচনী কৌশলের অংশ হয়ে উঠেছে। ফলস্বরূপ, ভোটাররা নিরাপদ বোধ করেন না।

এটি নতুন কোনো সমস্যা নয়। স্বাধীনতার পর থেকে বিভিন্ন নির্বাচনে সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। তবে সময়ের সঙ্গে রাজনৈতিক সংস্কৃতির উন্নতি হওয়া উচিত হলেও বাস্তবে সহিংসতা অনেক ক্ষেত্রে আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিয়েছে।

দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দল ও প্রশাসনের ভূমিকা

রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃত্ব যদি দৃঢ়ভাবে সহিংসতার বিরুদ্ধে অবস্থান না নেন, তবে মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীরা আগ্রাসী আচরণে জড়িয়ে পড়ে। দলগুলোর উচিত কঠোর আচরণবিধি প্রণয়ন ও তা বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা। কোনো কর্মী সহিংসতায় জড়ালে দলীয় পরিচয় নির্বিশেষে ব্যবস্থা নিতে হবে।

প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা অপরিসীম। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নিরপেক্ষ ও পেশাদারভাবে কাজ করতে হবে। আচরণবিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে দ্রুত ও দৃশ্যমান শাস্তি নিশ্চিত না করলে সহিংসতা আরও বাড়বে। নির্বাচন কমিশন যদি রাজনৈতিক চাপের ঊর্ধ্বে থেকে ন্যায়সংগত সিদ্ধান্ত নেয়, তবে নির্বাচনী মাঠে শক্তিশালী বার্তা যাবে—এখানে সহিংসতার কোনো স্থান নেই।

গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজের দায়িত্ব

দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা সহিংসতার ঘটনা তুলে ধরতে এবং গুজব ও উসকানিমূলক তথ্য রোধ করতে সাহায্য করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুল তথ্য ও উস্কানিমূলক ভিডিও সহিংসতা বাড়াতে পারে। তাই সচেতনতা ও দায়িত্বশীলতা অপরিহার্য। নাগরিক সমাজ, মানবাধিকার সংগঠন ও পেশাজীবী সংগঠনগুলোও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পক্ষে সোচ্চার হওয়া উচিত।

শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের উপসংহার

একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নির্ভর করে সবার দায়িত্বশীল আচরণের ওপর। রাজনৈতিক নেতা, কর্মী, প্রশাসন, গণমাধ্যম ও সাধারণ নাগরিক—সবাই যদি নিজের জায়গা থেকে দায়িত্ব পালন করেন, সহিংসতা অনেকাংশেই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

গণতন্ত্রের সৌন্দর্য হলো প্রতিযোগিতা এবং মতপার্থক্য। তবে প্রতিযোগিতা হতে হবে যুক্তি, কর্মসূচি ও আদর্শের ভিত্তিতে; লাঠি, ককটেল বা আগুনের মাধ্যমে নয়। নির্বাচনী সহিংসতা বন্ধ না হলে ভোটের ফলাফল কখনোই জনগণের প্রকৃত মনোবাঞ্ছাকে প্রতিফলিত করবে না।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আমাদের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ। এটি শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক হলে দেশের গণতন্ত্র নতুন গতি পাবে। অন্যথায় ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করবে না। সুতরাং নির্বাচনী সহিংসতা বন্ধ করা এখন সময়ের দাবি।

নিয়োগ চলছে
সংবাদকর্মী আবশ্যক
রেডিও বার্তা টিমে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ুন
পরবর্তী সংবাদ আসছে...
লিংক কপি হয়েছে!