ছোটবেলা থেকেই সিনেমা ভালোবাসতেন রাশেদুজ্জামান রাকিব। তবে, সেই সময় সিনেমা দেখার সুযোগ ছিল কম। টেলিভিশনে সাধারণত বিটিভি ও একুশে টিভির সিনেমাগুলোই দেখা হতো। রাকিবের মতে, তখন তাঁর সিনেমা নিয়ে ধারণা খুব সীমিত ছিল এবং তিনি ওইসব সিনেমাকে দুনিয়ার সেরা সিনেমা মনে করতেন। প্রথম আলোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘‘সিনেমা দেখার সুযোগ ছিল কম, তবে যখনই দেখতাম, সেগুলোই আমার কাছে ছিল সেরা।’’
বর্তমানে দেশের শীর্ষ কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের একজন হিসেবে পরিচিত রাকিব। তিনি বাংলায় সিনেমা নিয়ে নিজস্ব ঢংয়ে ভিডিও তৈরি করে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছেন। গত সোমবার প্রথম আলো কার্যালয়ে এসে শেয়ার করেছেন তার কনটেন্ট ক্রিয়েটর হয়ে ওঠার গল্প।
রাকিব কুড়িগ্রামের একজন যুবক। সেখানে তাঁর শৈশব কাটে, যেখানে সিনেমা দেখার একমাত্র মাধ্যম ছিল টেলিভিশন। ২০০৭ সালে নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় তাঁর বাবা তাঁকে একটি কম্পিউটার কিনে দেন। এর ফলে সিনেমা দেখার দুনিয়াটি আরও বিস্তৃত হতে থাকে। তিনি জানান, ‘‘তখন নাটকের সিডি ভাড়া পাওয়া যেত মাত্র পাঁচ টাকায়। হুমায়ূন আহমেদের নাটকের সিডি আনতাম এবং সাত দিন ধরে একেকটি নাটক দেখে ফেলে মুখস্থ হয়ে যেতাম।’’
একসময় রাকিব দেখতে থাকেন “জানে তু ইয়া জানে না”, “রব নে বানা দি জোড়ি” এবং “গজনি” মতো সিনেমা। এরপর সিনেমার খোঁজে তিনি আইএমডিবির সেরা ২৫০ সিনেমার তালিকা সংগ্রহ করেন। কিন্তু কুড়িগ্রামে একটিরও দেখা মেলে না। তখন তিনি রংপুরের এক দোকানে গিয়েছিলেন এবং সেখানে ঢাকা থেকে সিডি এনে দেওয়ার জন্য দোকানিকে অনুরোধ করেন। প্রথমে ১৫টি সিনেমার নাম দেন এবং পরে সেগুলো ৫০ টাকায় ডিভিডি পেয়ে যান।
রাকিব তার যাত্রা শুরু করেন ২০১৬ সালে ইউটিউবে ‘‘আরএনএআর’’ নামের একটি চ্যানেল খুলে। চ্যানেলের নামটি কেন এমন রেখেছিলেন? রাকিব বলেন, ‘‘আমি চেয়েছিলাম, একটা ইউনিক নাম দিতে। আর-এ বলতে আমার এবং মায়ের নাম, এন-এ ভাই এবং স্ত্রীর নাম, আর-এ বাবা ও বোনের নাম।’’
ঢাকায় এসে, রাকিব বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থবিদ্যা নিয়ে পড়াশোনা করলেও, তার মনে ছিল সিনেমার প্রতি আগ্রহ। তিনি জানালেন, ‘‘বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পরই বুঝেছিলাম, আমি ফিজিকস নিয়ে কিছু করব না, সিনেমা নিয়েই কিছু একটা করব।’’ এবং সেখান থেকেই কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে তার পথচলা শুরু হয়।





