ঢাকা   বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Logorb
রেডিও বার্তা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
খুঁজছি: বিভাগীয় প্রধান

ডেঙ্গুর কবলে ঢাকা! ১৩ ওয়ার্ডে বিপদের ঘণ্টা

Authorস্টাফ রিপোর্টার

আপডেট: ১৮ জুন ২০২৫, ০৪:১১ পিএম

ডেঙ্গুর কবলে ঢাকা! ১৩ ওয়ার্ডে বিপদের ঘণ্টা

দেশে এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু রোগ পর্যবেক্ষণে নিয়মিত তিনটি মৌসুমি জরিপ পরিচালনার রেওয়াজ থাকলেও বর্তমান সরকারের আমলে সেই ধারাবাহিকতা ব্যাহত হয়েছে। এক বছরে মাত্র একটি জরিপ চালিয়েছে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)। ওই জরিপে রাজধানীর ১৩টি ওয়ার্ডকে ডেঙ্গুর উচ্চঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। তবে চাঞ্চল্যকর তথ্য থাকা সত্ত্বেও মৌসুম শুরুর আগেই জরিপ প্রকাশ না করায় জনসচেতনতা তৈরির সুযোগ নষ্ট হয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

জনস্বাস্থ্য বিশ্লেষকরা বলছেন, নিয়মিত ও বিস্তারিত জরিপ পরিচালনা না করলে সংক্রামক রোগের বিস্তার রোধ করা কঠিন হয়ে পড়ে। সঠিক সময়ে গবেষণা ও বিশ্লেষণ না থাকলে রোগ নিয়ন্ত্রণে সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণ অসম্ভব হয়ে পড়ে।

তিন ধাপের জরিপ ছিল পূর্বের রেওয়াজ

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. বে-নজির আহমেদ জানান, অতীতে মৌসুমের আগে, চলাকালীন ও পরে—এই তিন ধাপে জরিপ চালানো হতো। এতে এডিস মশার বিস্তার ও ডেঙ্গুর প্রকৃতি বুঝে নেওয়া সহজ হতো এবং তা অনুযায়ী নিয়ন্ত্রণ কৌশল নির্ধারণ করা যেত। কিন্তু বর্তমান প্রশাসনের অধীন ওপি (অপারেশনাল প্ল্যান) বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শুধু ডেঙ্গুই নয়, অন্যান্য সংক্রামক রোগেরও ঝুঁকি বেড়ে গেছে বলে তিনি সতর্ক করেন।

উত্তর ও দক্ষিণ সিটি—উভয় জায়গাতেই ঝুঁকি চরমে

আইইডিসিআরের জরিপে দেখা গেছে, ঢাকা উত্তর সিটির ছয়টি ওয়ার্ডে এডিস মশার লার্ভা ঘনত্ব ২০-এর ওপরে, যা উচ্চঝুঁকির ইঙ্গিত দেয়। আরও সাতটি ওয়ার্ডে রয়েছে মধ্যম ঝুঁকি। অন্যদিকে দক্ষিণ সিটিতে সাতটি ওয়ার্ড রয়েছে উচ্চঝুঁকিতে এবং ১৮টি মধ্যম ঝুঁকিতে। তবে কিছু ওয়ার্ডে মশার উপস্থিতি না থাকায় সেগুলোকে স্বল্পঝুঁকির তালিকায় রাখা হয়েছে।

লার্ভা সবচেয়ে বেশি বহুতল ভবনে

জরিপে দেখা যায়, এডিস মশার লার্ভার সবচেয়ে বড় আবাসস্থল এখন বহুতল ভবন—প্রায় ৫৯ শতাংশ। এরপর ২০ শতাংশ পাওয়া গেছে নির্মাণাধীন ভবনে, একক বাড়িতে প্রায় ১০ শতাংশ, সেমিপাকা বাড়িতে ৯ শতাংশ এবং খোলা জায়গায় ৩ শতাংশের নিচে।

জরিপ ও নিয়ন্ত্রণে ঢিলেমির পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. আবু জাফর জানান, স্থানীয় সরকার বিভাগ ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তবে এডিস নিয়ন্ত্রণে সচেতনতা ও জনগণের অংশগ্রহণ ছাড়া সাফল্য সম্ভব নয় বলেও তিনি সতর্ক করেন।

বিগত বছরের পরিসংখ্যান জানাচ্ছে সতর্ক বার্তা

২০২৩ সালে দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছিল ৩ লাখ ২১ হাজারের বেশি মানুষ, মৃত্যুবরণ করেছিলেন ১ হাজার ৭০০ জনের বেশি। ২০২৪ সালে আক্রান্ত হন ১ লাখ ১ হাজারের বেশি, আর মৃত্যু হয় ৫৭৫ জনের। চলতি বছরে (২০২৫) ১৭ জুন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ৬ হাজার ৪৬৬ জন এবং মারা গেছেন ৩০ জন।

বয়সভিত্তিক তথ্য বলছে, ২১ থেকে ৩০ বছর বয়সীরা সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত এবং মৃতের সংখ্যাও এদের মধ্যেই সবচেয়ে বেশি।

সতর্ক না হলে সামনে বড় বিপর্যয়

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পর্যবেক্ষণ ও জরিপ কার্যক্রমে ধীরগতির কারণে চলতি বছর ডেঙ্গুর প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট নয়। এতে করে কার্যকর প্রস্তুতি নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। ইতিমধ্যেই বরিশালসহ কয়েকটি এলাকায় সংক্রমণ আশঙ্কাজনকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে। দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

নিয়োগ চলছে
সংবাদকর্মী আবশ্যক
রেডিও বার্তা টিমে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ুন
পরবর্তী সংবাদ আসছে...
লিংক কপি হয়েছে!
✕
Radio Barta App Screen 1
Radio Barta App Screen 2
রেডিও বার্তার সব নিউজ পেতে ডাউনলোড করুন মোবাইল অ্যাপ
ক্লিক করুন