ঢাকা   বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Logorb
রেডিও বার্তা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
খুঁজছি: বিভাগীয় প্রধান

ঘুমের মাঝে অতিরিক্ত ঘাম: ক্যানসারের আশঙ্কা কি সত্যিই আছে?

Authorস্টাফ রিপোর্টার

আপডেট: ১৮ জুন ২০২৫, ০৫:১০ পিএম

ঘুমের মাঝে অতিরিক্ত ঘাম: ক্যানসারের আশঙ্কা কি সত্যিই আছে?

দিনভর পরিশ্রমের শেষে বাড়ি এসে সবাই একটু আরামের খোঁজে থাকে। রাতে পরিবারের সঙ্গে খাবার সেরে, ছোট ছোট গল্পের মাঝে সময় কাটিয়ে সবাই বিশ্রামের জন্য বিছানায় গা এলিয়ে দেন। ক্লান্ত শরীরে দ্রুত ঘুমে তলিয়ে যাওয়াটা স্বাভাবিক হলেও অনেকের ক্ষেত্রে রাতের অন্ধকারে ঘুমের সময় অতিরিক্ত ঘাম হয়, যা বিশ্রামের স্বস্তি নষ্ট করে দেয়।

রাতে ঘুমের মধ্যে শরীর ঘামে ভিজে গেলে স্বাভাবিক ঘুমের গভীরতা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। আরামদায়ক ঘুমে ব্যাঘাত ঘটে, ফলে সকাল হয় ক্লান্তিকর। এমন অবস্থায় অনেকেই ভাবেন—এই অতিরিক্ত ঘামের পেছনে কী কোনো গুরুতর রোগ লুকিয়ে আছে? বিশেষ করে ক্যানসারের কোনো সংকেত তো নয়?

স্বাস্থ্য বিষয়ক ওয়েবসাইট হেলথ লাইনের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাতে অতিরিক্ত ঘাম হওয়া বিভিন্ন কারণে হতে পারে এবং এটি সবসময় ক্যানসারের লক্ষণ নয়। তবে কিছু ক্ষেত্রে এটি ক্যানসারের প্রাথমিক উপসর্গ হিসেবে দেখা দিতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, কার্সিনয়েড টিউমার, লিউকেমিয়া, ফিওক্রোমোসাইটোমা, হাড় ও লিভারের ক্যানসার, এবং মেসোথেলিওমা রোগের সঙ্গে এটি সম্পর্কিত হতে পারে।

কিন্তু রাতের ঘাম সবসময় ক্যানসারের পরিচায়ক নয়; এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা সক্রিয় থাকার লক্ষণও হতে পারে। এছাড়াও, হরমোনের পরিবর্তন—বিশেষ করে পেরিমেনোপজ বা মেনোপজের সময়ে—রাতের ঘামের অন্যতম কারণ। গর্ভাবস্থার সময়ও হরমোনের পরিবর্তন এবং রক্ত সঞ্চালনের বৃদ্ধি ঘাম বাড়াতে পারে।

ক্যানসারের সঙ্গে যুক্ত জ্বর থাকলে শরীর অতিরিক্ত ঘাম উৎপাদন করে তাপ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। ক্যানসারের চিকিৎসায় ব্যবহৃত কেমোথেরাপি, হরমোন পরিবর্তনকারী ওষুধ বা মরফিনের কারণে ঘামের পরিমাণ বাড়তে পারে। এছাড়া ক্যানসারজনিত অন্যান্য লক্ষণ যেমন জ্বর, হঠাৎ ওজন কমে যাওয়া প্রভৃতি লক্ষণও দেখা যেতে পারে।

রাতের ঘামের পেছনে অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যা যেমন যক্ষ্মা, এন্ডোকার্ডাইটিস (হার্টের সংক্রমণ) বা ইডিওপ্যাথিক হাইপারহাইড্রোসিস (অতিরিক্ত ঘামের অজানা কারণ) থাকতে পারে। থাইরয়েড গ্রন্থির অতিরিক্ত সক্রিয়তা, মানসিক চাপ ও উদ্বেগও ঘাম বাড়াতে ভূমিকা রাখে।

তাছাড়া, ঘুমানোর আগে গরম পানীয়, মদ্যপান বা মশলাদার খাবার গ্রহণ করলে রাতের ঘামের পরিমাণ বৃদ্ধি পেতে পারে।

যদি ঘুমের সময় ঘামের সমস্যা নিয়মিত ও বেশি হয়, তাহলে অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি, কারণ অনেক সময় রাতের অতিরিক্ত ঘাম নানা গুরুতর বা স্বল্পমাত্রার স্বাস্থ্য সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে।

নিয়োগ চলছে
সংবাদকর্মী আবশ্যক
রেডিও বার্তা টিমে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ুন
পরবর্তী সংবাদ আসছে...
লিংক কপি হয়েছে!
✕
Radio Barta App Screen 1
Radio Barta App Screen 2
রেডিও বার্তার সব নিউজ পেতে ডাউনলোড করুন মোবাইল অ্যাপ
ক্লিক করুন