জার্মানিতে এক নারীর বিরুদ্ধে মায়ের মরদেহ বছরের পর বছর লুকিয়ে রেখে পেনশন তোলার অভিযোগ উঠেছে। দেশটির জাতীয় দৈনিক বিল্ডের প্রতিবেদনে বলা হয়, জার্মান পুলিশের অভিযানে ১০০ বছরের বেশি বয়সী এক নারীর মমি করা দেহ উদ্ধার হয়েছে। তিনি তার ৮২ বছর বয়সী কন্যার সঙ্গে একই বাসায় বসবাস করতেন।
পুলিশের সন্দেহ, মাসে প্রায় ১ হাজার ৫০০ ইউরো (প্রায় ২ লাখ ১৭ হাজার ৬২০ টাকা) পেনশন তুলতে দীর্ঘদিন ধরে মায়ের মৃত্যুর তথ্য গোপন করে রেখেছিলেন ওই কন্যা। বাভারিয়ার ছোট শহর রাহমানসফেলডেনের মেয়র কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করেন। তিনি জানান, ১৯২২ সালে জন্ম নেয়া সোফি বি.-কে প্রতি বছর জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানাতে গত আট বছর ধরে তিনি বাসায় যাওয়ার চেষ্টা করতেন। মেয়র ভার্নার ট্রয়িবার বিল্ডকে বলেন, প্রতিবারই বাড়ির দরজা বন্ধ পাওয়া যেত অথবা সোফির মেয়ে ক্রিস্টা বি. তাকে ভেতরে ঢুকতে না দেয়ার জন্য বিভিন্ন অজুহাত দিতেন।
অবশেষে ২০২৫ সালের শেষের দিকে একদিন ক্রিস্টা বি. দাবি করেন যে তার মা দুই বছর আগে চেক প্রজাতন্ত্রে মারা গেছেন। পরে পাবলিক প্রসিকিউটরের দপ্তরকে বিষয়টি জানান তিনি। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শুরুর দিকে পুলিশ বাড়িটিতে তল্লাশি চালিয়ে মায়ের মমি করা দেহ উদ্ধার করে। গত সপ্তাহে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে পুলিশ জানায়, ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হলেও মৃত্যুর সঠিক কারণ বা সময় নির্ধারণ করা যায়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, কয়েক বছর আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ হত্যাকাণ্ডের সম্ভাবনা নাকচ করলেও পেনশন জালিয়াতির অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছে।
সূত্র: এনডিটিভি





