ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ত্রাণ পরিবহনের সময় ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ছয় জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতরা সবাই ওই ত্রাণ বহনকারী টিমের সদস্য ছিলেন, যারা জরুরি সামগ্রী লুটপাট থেকে রক্ষা করার দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন।
বৃহস্পতিবার (২২ মে) ইসরায়েলি সেনারা জানায়, কেরেম শালোম সীমান্ত দিয়ে গাজার মধ্যে ঢুকেছে ১০৭টি ত্রাণবাহী ট্রাক, যার মধ্যে রয়েছে খাদ্যদ্রব্য, ওষুধ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী। তবে বাস্তবে এই ত্রাণ সঠিকভাবে মানুষের কাছে পৌঁছানো এখনো সমস্যায় পড়েছে।
হামাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গাজায় ত্রাণ সরবরাহের এই চ্যালেঞ্জের মাঝে নিরাপত্তাকর্মীদের ওপর হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। তারা অভিযোগ করেছেন, ত্রাণ সামগ্রী লুটপাটের শিকার হচ্ছে এবং লুটপাটকারীদের হাতে অস্ত্র থাকার কারণে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
ত্রাণ সংগঠনগুলোর মতে, লুটপাটকারীরা শিশু ও অভাবগ্রস্ত পরিবারের জন্য পাঠানো খাদ্যদ্রব্য জবরদখল করছে। তারা এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলা ত্রাণ কার্যক্রমকে বিপদে ফেলেছে বলেও উল্লেখ করেছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, গত রাতে গাজার বিভিন্ন স্থানে ৭৫টি অভিযান চালানো হয়েছে। ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানায়, এসব হামলায় অন্তত ২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। যদিও ইসরায়েল দাবি করে, তারা গাজায় ৩০০টিরও বেশি ত্রাণবাহী ট্রাক প্রবেশের অনুমতি দিয়েছে। তবে ত্রাণ সংগঠনগুলো বলছে, অনেক ট্রাক এখনও কেরেম শালোম সীমান্তেই আটকা রয়েছে এবং ত্রাণ সরবরাহ প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
মার্চের শুরুতে ইসরায়েল হামাসের বিরুদ্ধে ত্রাণ আত্মসাতের অভিযোগ এনে গাজায় অবরোধ আরোপ করে। যদিও হামাস এই অভিযোগ অস্বীকার করে এবং তাদের দাবি, বহু যোদ্ধা ত্রাণবাহী ট্রাকের নিরাপত্তায় জীবন দিয়েছে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ইসরায়েল-হামাস সংঘাত শুরু হয়। ওইদিন হামাসের হামলায় ইসরায়েলে ১,২০০ জন নিহত হন বলে দাবি করা হয়। এর পর থেকে ইসরায়েল গাজায় একতরফা সামরিক অভিযান চালাচ্ছে, যার ফলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে নিহতের সংখ্যা ৫৩ হাজারের বেশি।
ত্রাণ সংস্থাগুলো বলছে, গাজার মানুষ খাদ্য, ওষুধ ও নিরাপদ আশ্রয়ের অভাবে মানবিক সংকটের মুখে পড়েছে, বিশেষত শিশুদের মধ্যে অপুষ্টির মাত্রা ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
আন্তর্জাতিক মহলে ত্রাণ কর্মীদের ওপর হামলার বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং অবরুদ্ধ গাজায় নিরাপদ ও কার্যকর মানবিক করিডর গড়ার দাবি জোরদার হচ্ছে, যাতে সহায়তা দ্রুত ও নিরাপদে পৌঁছানো যায়।





