ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সাময়িক যুদ্ধবিরতির স্বস্তি উধাও হয়ে আবারও হামলা পাল্টা-হামলা শুরুর আভাস পাওয়া যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শান্তি প্রচেষ্টাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে পুনরায় বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। শুধু তাই নয়, ওই এলাকায় চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার খবরও পাওয়া গেছে।
মূলত ইরানি বন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ প্রত্যাখ্যান করে হরমুজ বন্ধ করে দিয়েছে বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)। শনিবার (১৮ এপ্রিল) আইআরজিসির এ ঘোষণায় বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আর এখন সেই হরমুজ খোলা নিয়ে ট্রাম্পের যত মাথাব্যাথা।
সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি পুনরায় চালু হওয়া নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিজয়োল্লাস ব্যর্থ হয়েছে।
শনিবার সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে ট্রাম্প জানান, ইরানের সঙ্গে শতভাগ পরিপূর্ণ চুক্তি না হওয়া অব্দি শুধুই ইরানের ক্ষেত্রে এই নৌ-অবরোধ কার্যকর থাকবে। এই প্রক্রিয়াটি খুব দ্রুত শেষ হওয়া উচিত।
তবে ট্রাম্পের এ অবরোধ প্রত্যাখ্যান করে শনিবার তেহরান তেল পরিবহনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক একটি সামুদ্রিক সংস্থা জানিয়েছে, শনিবার হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার চেষ্টাকালে একটি ট্যাংকার লক্ষ্য করে আইআরজিসি গুলি চালিয়েছে।
রয়টার্স আলাদাভাবে জানিয়েছে, ওই জলপথে একটি ভারতীয় পতাকাবাহী অপরিশোধিত তেলের জাহাজও হামলার শিকার হয়েছে।
সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস-এর প্রতিবেদন বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালি নিয়ে তৈরি হওয়া নতুন সংকট এবং ইরানের সঙ্গে পুনরায় আলোচনার বিষয়ে ট্রাম্প শনিবার সকালে হোয়াইট হাউসের সিচুয়েশন রুমে একটি জরুরি বৈঠক করেছেন। উর্ধ্বতন কর্মকর্তার বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শান্তি আলোচনায় কোনো বড় অগ্রগতি না হলে মনে হচ্ছে কয়েক দিনের মধ্যেই যুদ্ধ আবার শুরু হয়ে যেতে পারে।
তবে তা আগের দিনের পরিস্থিতির সম্পূর্ণ বিপরীত। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) ডোনাল্ড ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া একের পর এক পোস্টে দাবি করেছিলেন, ইরান এই কৌশলগত জলপথ আর কখনোই বন্ধ না করার বিষয়ে সম্মত হয়েছে। সে সময় তিনি একে বিশ্বের জন্য একটি মহান এবং উজ্জ্বল দিন বলে অভিহিত করেছিলেন।
পরবর্তীতে তিনি বলেছিলেন, হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত এবং দ্রুত খুলে দেওয়ায় চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং অত্যন্ত খুশি। আর এ খবর চীনে তাদের আসন্ন শীর্ষ বৈঠকের জন্য ভালো সংকেত।
কিন্তু মার্কিন অবরোধ পাত্তা না দিয়ে যখন ইরান আবারও হরমুজ বন্ধ করে দিল তখন ট্রাম্পের আশা গুড়ে বালি হয়ে গেল। সেই সাথে পরাশক্তিগুলোর মধ্যকার কূটনীতিও নতুন সংকটে পড়ল।






