বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাতে ইরানের ‘চূড়ান্ত কৌশল’ বলে ঘোষণা দিয়েছে দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং এর প্রতিরোধমূলক প্রভাব যুক্তরাষ্ট্র ও তার আঞ্চলিক সমর্থকদের ওপর বজায় রাখাই ইরানের নির্ধারক কৌশল।
আইআরজিসির টেলিগ্রাম চ্যানেলে প্রকাশিত ওই বিবৃতিতে বলা হয়, হরমুজ প্রণালি কেবল একটি নৌপথ নয়; এটি যুক্তরাষ্ট্রের ওপর কৌশলগত চাপ প্রয়োগের একটি কার্যকর হাতিয়ার। উল্লেখ্য, এই প্রণালি দিয়ে বিশ্বের বিপুল অংশের তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন হয়, ফলে এর যেকোনো অস্থিতিশীলতা বৈশ্বিক বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলে।
এই ঘোষণার মধ্যে হোয়াইট হাউস নিশ্চিত করেছে, ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য আলোচনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূতদের পাকিস্তান সফর বাতিল করা হয়েছে। আল জাজিরাকে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট মনে করেছেন—১৮ ঘণ্টার দীর্ঘ ভ্রমণ করে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া সম্ভব নয়। এজন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ওয়াশিংটনের অবস্থান এখনো অপরিবর্তিত। যুক্তরাষ্ট্র চায়, ইরান তার পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের পরিকল্পনা পরিত্যাগ করুক এবং যেসব কর্মকাণ্ডকে ওয়াশিংটন ‘সন্ত্রাসী তৎপরতা’ বলে অভিহিত করে—সেগুলো বন্ধ করুক, বিশেষ করে ইসরায়েলকে হুমকির বিষয়টি।
একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তারা ইরানের বন্দরগুলোতে প্রবেশ ও প্রস্থানকারী জাহাজের ওপর আরোপিত মার্কিন নৌ অবরোধ কার্যকর রাখবে এবং এই অবরোধ ইরানের অর্থনীতিকে আরও চাপে ফেলতে সক্ষম হচ্ছে বলে তাদের বিশ্বাস।
হোয়াইট হাউসের আরও স্পষ্ট বার্তা—ইরান যদি আলোচনায় আসতে চায়, তাহলে নিজ উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র কথা বলতে প্রস্তুত থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে আলোচনার দায়ভার পুরোপুরি তেহরানের ওপরই চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।






