ঢাকা   বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Logorb
রেডিও বার্তা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
খুঁজছি: বিভাগীয় প্রধান

হাজিদের ব্যবহৃত ইহরামের কাপড় নিয়ে সৌদির অনন্য উদ্যোগ

Authorরেডিও বার্তা ডেস্ক

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ১২:৫৮ এএম

হাজিদের ব্যবহৃত ইহরামের কাপড় নিয়ে সৌদির অনন্য উদ্যোগ

পবিত্র হজের মৌলিক আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পর বিপুল পরিমাণ ব্যবহৃত ইহরামের কাপড় সাধারণত উদ্বৃত্ত হিসেবে থেকে যায়। এই কাপড়কে বর্জ্যে পরিণত না করে পরিবেশবান্ধব সম্পদে রূপান্তরের এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে সৌদি আরব। ‘টেকসই ইহরাম’ নামে পরিচিত এই প্রকল্পের আওতায় গত এক বছরে হাজিদের ব্যবহৃত ইহরামের কাপড় পুনর্ব্যবহার করে ৫ হাজারেরও বেশি নতুন পণ্য তৈরি করা হয়েছে।

সৌদি আরবের জাতীয় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রের মুখপাত্র সুলতান আল-হার্থি এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই উদ্যোগটি সৌদি ভিশন ২০৩০-এর লক্ষ্য বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে জাতীয় রূপান্তর কর্মসূচি এবং জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন প্রকল্পের সঙ্গে এটি সরাসরি সামঞ্জস্যপূর্ণ।

ইহরামের সাদা কাপড় ইসলামে সাম্য, পবিত্রতা এবং বিনয়ের প্রতীক। হজ পালনকালে পুরুষ হাজিদের জন্য সেলাইবিহীন দুটি সাদা সুতি কাপড় পরিধান করা আবশ্যক, যা সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্যের সব বিভেদ মুছে দিয়ে সবাইকে এক কাতারে দাঁড় করায়। হজের নিয়ম অনুযায়ী ১০ জিলহজ জামারাতে পাথর নিক্ষেপ এবং চুল কাটার পর হাজিরা প্রথম ধাপে ইহরামের অবস্থা থেকে বের হয়ে আসেন। এরপর তাওয়াফে ইফাদাহ সম্পন্ন করার মাধ্যমে তারা স্বাভাবিক পোশাকে ফিরে যান। ফলে বিপুল পরিমাণ ইহরামের কাপড় উদ্বৃত্ত হয়ে পড়ে।

সুলতান আল-হার্থি বলেন, এই প্রকল্প শুধু পরিবেশ সংরক্ষণেই অবদান রাখছে না, বরং জাতীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করছে এবং অলাভজনক খাতের বিকাশেও সহায়তা করছে। বিশেষ করে উৎপাদনমুখী পরিবারের নারীদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি হাজিদের সেবার মানও আরও উন্নত হয়েছে।

প্রকল্পটির অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত সুফল তুলে ধরে তিনি জানান, ফেলে দেওয়া ইহরামের কাপড় ব্যবহার করে ৫ হাজারের বেশি পণ্য তৈরি করায় পরিবহন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে ৩০টি খণ্ডকালীন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে এবং ২৫ জন প্রান্তিক নারী দর্জি আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। এটি চক্রাকার অর্থনীতি (Circular Economy)-এর একটি সফল উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

পরিবেশগত দিক থেকেও প্রকল্পটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। এর মাধ্যমে ২১১ টনের বেশি কাপড়ের বর্জ্য ল্যান্ডফিলে জমা হওয়া থেকে রক্ষা পেয়েছে, যা হজ মৌসুমে কার্বন নিঃসরণ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এছাড়া বিভিন্ন সচেতনতামূলক প্রচারণার মাধ্যমে প্রায় ২ লাখ হাজি পরিবেশ সংরক্ষণ কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হয়েছেন।

প্রকল্পের বাস্তবায়ন পদ্ধতি সম্পর্কে আল-হার্থি জানান, প্রথমে পবিত্র স্থানগুলোতে স্থাপিত নির্দিষ্ট বুথ থেকে ব্যবহৃত ইহরামের কাপড় সংগ্রহ করা হয়। এরপর কঠোর বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কাপড়গুলো নির্বাচন করে আধুনিক প্রযুক্তিতে জীবাণুমুক্ত করা হয়, যাতে কোনো ধরনের ময়লা বা ত্রুটি না থাকে। শতভাগ স্বাস্থ্যসুরক্ষা নিশ্চিত হওয়ার পর সেগুলো দিয়ে নতুন পণ্য উৎপাদন শুরু করা হয়। বর্তমানে এসব কাপড় ব্যবহার করে আকর্ষণীয় ব্যাগ, বালিশ, বিভিন্ন ধরনের কভার এবং উপহারসামগ্রী তৈরি করা হচ্ছে।

এই প্রকল্পের সাফল্যের পেছনে সরকারি, বেসরকারি এবং অলাভজনক খাতের ২২টি প্রতিষ্ঠানের যৌথ অংশীদারিত্বকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন আল-হার্থি। তিনি জানান, প্রতি বছর হাজিদের মধ্যে ব্যবহৃত ইহরামের কাপড় দান করার প্রবণতা বাড়ছে, যা পরিবেশ সচেতনতার ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করে।

শুধু ইহরামের কাপড় পুনর্ব্যবহারেই সীমাবদ্ধ নয় সৌদির পরিকল্পনা। জাতীয় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র হজের সময় উদ্বৃত্ত খাবারকে জৈব সারে রূপান্তরের কাজও করছে। ভবিষ্যতে এই সফল মডেলটি সৌদি আরবের অন্যান্য বৃহৎ প্রকল্পেও প্রয়োগ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তর করে আরও টেকসই, পরিবেশবান্ধব এবং দায়িত্বশীল ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে দেশটি।

সূত্র: আরব নিউজ

নিয়োগ চলছে
সংবাদকর্মী আবশ্যক
রেডিও বার্তা টিমে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ুন
পরবর্তী সংবাদ আসছে...
লিংক কপি হয়েছে!