সৌদি আরবের ওপর হামলা মানেই পাকিস্তানের ওপর হামলা: ইরানকে জানাল পাকিস্তান
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : চলতি সপ্তাহে সৌদি আরবের ওপর ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় উদ্বেগ জনিয়েছে ইসলামাবাদ। এরইমধ্যে পাকিস্তান ইরানকে জানিয়ে দিয়েছে যে, সৌদি আরবে হুতিদের হামলাকে খোদ পাকিস্তানের ওপর হামলা হিসেবে গণ্য করা হবে।
সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ ২০২৫ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর সৌদি আরবের রিয়াদে সাক্ষাৎ করেন। ছবি: রয়টার্স
সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ ২০২৫ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর সৌদি আরবের রিয়াদে সাক্ষাৎ করেন।
একজন পাকিস্তানি কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, ‘আমাদের শীর্ষ বেসামরিক ও সামরিক নেতারা সর্বোচ্চ পর্যায়ে ইরানকে জানিয়ে দিয়েছেন, সৌদি আরবের ওপর হামলা মানেই পাকিস্তানের ওপর হামলা। এটাই আমাদের রেড লাইন।’
পারমাণবিক অস্ত্রধারী পাকিস্তান, যারা গত মাসে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার যুদ্ধে একটি অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তিতে মধ্যস্থতা করতে সাহায্য করেছিল, তারা গত বছর সৌদি আরবের সাথে একটি পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করে।
এই চুক্তিতে উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে যেকোনো আগ্রাসনকে নিজেদের ওপর আগ্রাসন বিবেচিত করবে বলে অঙ্গীকার করে।
সোমবার হুতিরা তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকা একটি বিমানবন্দরে বোমা হামলার অভিযোগ আনে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে। এই অভিযোগে হুতিরা দেশটিতে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। এই আন্তঃসীমান্ত গোলাগুলি চার বছরের যুদ্ধবিরতি ভঙ্গ করেছে, তবে এখন পর্যন্ত তা একটিমাত্র ঘটনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।
এই প্রতিবেদনের জন্য সাক্ষাৎকার দেয়া সূত্র এবং অন্যান্য পাকিস্তানি কর্মকর্তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে কথা বলেছেন, কারণ তাদের প্রকাশ্যে কথা বলার অনুমতি ছিল না।
‘পাকিস্তান আশা করেনি যে উত্তেজনা এত আকস্মিকভাবে বেড়ে যাবে,’ বলেছেন একজন নিরাপত্তা বিশ্লেষক।
দুইজন পাকিস্তানি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সৌদি আরবের ইয়েমেন সীমান্তের কাছে পাকিস্তানি সেনা মোতায়েন করা হয়েছে, যা তাদের সরাসরি ঝুঁকি বাড়িয়েছে।
ইসলামাবাদে এই উদ্বেগও রয়েছে যে, হুতিদের নেতৃত্বে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেলে লোহিত সাগরে নৌচলাচল ব্যাহত হতে পারে, যা পাকিস্তান ও অন্যান্য অনেক দেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য পথ।
আরেকজন বিশ্লেষক বলেছেন, আপাতত পাকিস্তানের শীর্ষ নেতারা এখনও সকল পক্ষকে শান্ত রাখার চেষ্টায় নিয়োজিত আছেন। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, যদি হুতিরা সৌদি আরবে তাদের আক্রমণের পরিধি বাড়ায় তবে এই পরিস্থিতি পাল্টে যেতে পারে।
গত সেপ্টেম্বরে যখন সৌদি আরবের সাথে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা চুক্তি ঘোষণা করা হয়, তখন এটিকে ব্যাপকভাবে এই ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হয়েছিল যে, উপসাগরীয় আরব রাষ্ট্রগুলো নিরাপত্তা নিশ্চয়তাকারী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের নির্ভরযোগ্যতা সন্দিহান হয়ে উঠছে এবং সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে পাকিস্তান ও অন্যান্য দেশের দিকে তাকাচ্ছে।
প্রতিবেদন বলছে, বিশ্লেষক ও কর্মকর্তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতার মূল উদ্দেশ্য যতটা কূটনৈতিক প্রভাব খাটানো, ঠিক ততটাই এই সরবরাহ পথগুলো পুনরায় চালু করা।
‘যুদ্ধ শেষ হওয়াটাই সবার জন্য মঙ্গলজনক, কিন্তু সৌদি যদি আমাদের ডাকে, আমরা তাদের পাশেই থাকব এবং এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।’ মধ্যস্থতা সম্পর্কে অবগত পাকিস্তানের একটি ভিন্ন সূত্র জানায়। সূত্র: জিও নিউজ






