ট্রাম্প মিডিয়া অ্যান্ড টেকনোলজি গ্রুপ চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে ২৩৮ মিলিয়ন বা ২৩ কোটি ৮০ লাখ ডলার নিট লোকসান করেছে। আগের বছরের একই সময়ে প্রতিষ্ঠানটির লোকসানের তুলনায় এবারের পরিমাণ ১০ গুণেরও বেশি।
প্রতিষ্ঠানটির মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল। গণমাধ্যম ব্যবসার বাইরে ক্রিপ্টোকারেন্সিসহ বিভিন্ন নতুন খাতে সম্প্রসারণের কারণে এবার প্রতিষ্ঠানটির বড় ধরনের লোকসান হয়েছে।
সোমবার প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, দ্বিতীয় প্রান্তিকে তাদের আয় হয়েছে ১৭ লাখ ডলার। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় আয় ৮৯ শতাংশ বেড়েছে। তবে ক্রিপ্টোকারেন্সির মূল্য কমে যাওয়ায় সামগ্রিকভাবে বড় লোকসান হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, দ্বিতীয় প্রান্তিক শেষে তাদের মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ২০০ কোটি ডলার। এর মধ্যে নগদ অর্থ, স্বল্পমেয়াদি বিনিয়োগ ও ডিজিটাল মুদ্রাসহ আর্থিক সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১৯০ কোটি ডলার।
ট্রাম্প মিডিয়া জানিয়েছে, তারা এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকেন্দ্রিক ব্যবসায় আবারও বেশি গুরুত্ব দিতে চায়। এর অংশ হিসেবে ট্রুথ সোশ্যালে প্রভাবশালী ব্যবহারকারীদের বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে এমন পোস্ট দ্রুত পাওয়ার একটি বিতর্কিত সেবা চালু করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
জুলাইয়ে ট্রাম্প মিডিয়া ঘোষণা দেয়, ওয়াল স্ট্রিটের ব্যবসায়ীদের ট্রুথ সোশ্যালে প্রকাশিত পোস্ট অন্যদের তুলনায় দ্রুত পাওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে। ট্রাম্প এই প্ল্যাটফর্মে প্রায়ই শুল্কনীতি, আন্তর্জাতিক সংঘাতসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ঘোষণা দেন। এসব বক্তব্য শেয়ার ও অন্যান্য ব্যাপকভাবে লেনদেন হওয়া সম্পদের বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে নতুন সেবাটি গ্রাহকদের লেনদেনে বাড়তি সুবিধা দেওয়ার সুযোগ তৈরি করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
ট্রুথএপিআই নামের এই সেবার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি নতুন একটি আয়ের উৎস তৈরি করতে চায়। ট্রাম্প মিডিয়ার ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কেভিন ম্যাকগার্ন বলেন, বিজ্ঞাপন ও ডিজিটাল সম্পদের পাশাপাশি এই সেবা ভবিষ্যতে প্রতিষ্ঠানের জন্য ‘অর্থবহ’ ও ‘টেকসই’ আয়ের উৎস হয়ে উঠতে পারে।
প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, এরই মধ্যে ১০টির বেশি গ্রাহক এই সেবায় যুক্ত হয়েছেন। তারা প্রতি মাসে ৬০ হাজার থেকে ১ লাখ ডলার পর্যন্ত ফি দিচ্ছেন।
ট্রাম্প মিডিয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বাইরেও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, সংবাদ সংস্থা এবং বাজি বা পণবাজারের সঙ্গে ব্যবসার সুযোগ খুঁজছে।
তবে প্রতিষ্ঠানটি এখনো লাভের মুখ দেখেনি। গণমাধ্যম ব্যবসার পাশাপাশি ক্রিপ্টোকারেন্সি মজুত এবং পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে বিনিয়োগসহ বিভিন্ন খাতে সম্প্রসারণ করলেও এসব উদ্যোগ থেকে এখনো উল্লেখযোগ্য আয় আসছে না।
টেনএক্স রিসার্চের বিশ্লেষক মার্কাস থিলেন বিবিসিকে বলেন, ট্রাম্প মিডিয়া এখন অনেকটা গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে থাকা একটি ক্রিপ্টোকারেন্সি মজুতকারী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। আর প্রতিষ্ঠানটির বড় অংশের লোকসানই এই ব্যবসায়িক কৌশল থেকে এসেছে।
তিনি বলেন, ক্রিপ্টোকারেন্সির ব্যবসার বাইরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মতো অন্যান্য খাতেও প্রতিষ্ঠানটি ব্যবসা ছড়িয়ে দিচ্ছে। তবে এসব উদ্যোগ এখনো উল্লেখযোগ্য আয় তৈরি করতে পারেনি।
এর আগে চলতি মাসের শুরুতে ট্রাম্প মিডিয়া ট্রুথ সোশ্যালে ভবিষ্যদ্বাণীভিত্তিক বাজার চালুর পরিকল্পনা বাতিল করে। এ প্রকল্পটি ক্রিপ্টো ডটকমের সঙ্গে যৌথভাবে চালুর কথা ছিল।
ট্রাম্প মিডিয়ার এমন ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড ঘিরে আইনি ও নৈতিক প্রশ্নও উঠেছে। বিশেষ করে ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্পের বক্তব্য বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে এবং তার পরিবারের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান এতে আর্থিকভাবে লাভবান হতে পারে বলে স্বার্থের সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
পরিবারভিত্তিক মালিকানা ও ট্রাম্পের রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে এ নিয়ে উদ্বেগ আরও জোরালো হয়েছে। ট্রাম্প নিয়মিত ট্রুথ সোশ্যালে বিভিন্ন ঘোষণা দেন, যা শেয়ারবাজারসহ বিভিন্ন সম্পদের দামে প্রভাব ফেলতে পারে।
বার্তা বাজার/ আইকে






