পূর্ব লিবিয়ার স্বঘোষিত লিবিয়ান ন্যাশনাল আর্মির (এলএনএ) সামরিক গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান মেজর জেনারেল ফাওজি আল-মানসুরি গাড়িবোমা হামলায় নিহত হয়েছেন। সোমবার (১০ আগস্ট) রাতে বেনগাজির হাওয়ারি এলাকায় নিজ বাড়ির বাইরে গাড়িতে ওঠার সময় বিস্ফোরক ডিভাইস (আইইডি) বিস্ফোরিত হলে তিনি নিহত হন। দুটি নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
পূর্ব লিবিয়ার সরকারের প্রধানমন্ত্রী ওসামা সাদ হাম্মাদ এ হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়েছেন। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে তিনি ঘটনাটিকে ‘বিশ্বাসঘাতকতাপূর্ণ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ হিসেবে উল্লেখ করে এর পেছনের কারণ ও জড়িতদের শনাক্ত করার প্রতিশ্রুতি দেন।
তিনি বলেন, রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অস্ত্রধারীদের জন্য লিবিয়ায় কোনো জায়গা নেই। যারা হত্যাকাণ্ড ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন, অর্থায়ন বা উসকানি দেয়, তাদের কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না।
২০২৪ সালে বেনগাজিতে সামরিক গোয়েন্দা বিভাগের পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পান আল-মানসুরি। একই সঙ্গে তাকে মেজর জেনারেলের পদমর্যাদা দেয়া হয়। তার হত্যাকাণ্ড লিবিয়ার দীর্ঘস্থায়ী নিরাপত্তা সংকটকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। ২০২০ সালে একটি যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে দেশটিতে বড় ধরনের সংঘাত বন্ধ হলেও প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক প্রশাসন ও বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী এখনো দেশটির বিভিন্ন এলাকায় প্রভাব ধরে রেখেছে।
২০১১ সালে ন্যাটো-সমর্থিত বিদ্রোহে দীর্ঘদিনের নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফি ক্ষমতাচ্যুত ও নিহত হওয়ার পর থেকেই লিবিয়ায় রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সশস্ত্র সংঘাত অব্যাহত রয়েছে। ২০১৪ সালে দেশটি কার্যত পূর্ব ও পশ্চিম—দুই প্রতিদ্বন্দ্বী শিবিরে বিভক্ত হয়ে পড়ে।
খলিফা হাফতারের নেতৃত্বাধীন এলএনএ বর্তমানে পূর্ব ও দক্ষিণ লিবিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করে। সংগঠনটি বেনগাজিভিত্তিক পূর্বাঞ্চলীয় প্রশাসনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত লিবিয়ার গভর্নমেন্ট অব ন্যাশনাল ইউনিটি বা জাতীয় ঐক্যের সরকার রাজধানী ত্রিপোলিতে অবস্থান করছে এবং দেশটির পশ্চিমাঞ্চলের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করে।






