দিল্লির নারাইনায় ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) স্বেচ্ছাসেবীদের নির্ধারিত একটি বৈঠক আজ বুধবার বাতিল হয়ে গেছে। শেষ মুহূর্তে ব্যাংকোয়েট হল কর্তৃপক্ষ বুকিং প্রত্যাহার করে নেয়ায় এই ঘটনা ঘটেছে। দলটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের অভিযোগ, ক্ষমতাসীন বিজেপির চাপের মুখে ভেন্যুটি তাদের বুকিং বাতিল করেছে।
আজ বুধবার টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
দীপকে বলেন, আয়োজকেরা আগে থেকেই ভেন্যু বুকিং করে রেখেছিলেন। তবে সেখানে পৌঁছানোর পর তাদের জানানো হয়, হলটি ব্যবহার করতে দেয়া সম্ভব নয়। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমরা দিল্লিতে আমাদের স্বেচ্ছাসেবীদের বৈঠক করতে যাচ্ছিলাম। আমাদের বৈঠক করতে দেয়া হয়নি। তারা বলেছে, তাদের ওপর চাপ রয়েছে; তারা আমাদের হল দিতে পারবে না।’
দীপকের অভিযোগ, একই এলাকার অন্য ভেন্যুগুলোতেও একই ধরনের প্রত্যাখ্যানের মুখে পড়তে হয়েছে তাদের। এমনকি সিজেপির বৈঠক আয়োজন করতে না দেয়ার জন্য হল মালিকদের ভয় দেখানো হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। ডিপকের ভাষ্য, শেষ পর্যন্ত তারা যে ভেন্যুটি পেতে সক্ষম হন, বৈঠকের সকালেই সেটিকেও হুমকি দেয়া হয়। তিনি বলেন, ‘তাদের বলা হয়েছে, যদি এখানে সিজেপির বৈঠক হতে দেয়, তবে তাদের উল্টো করে ঝুলিয়ে দেয়া হবে।’
এই হুমকির পেছনে বিজেপির হাত রয়েছে বলে অভিযোগ করে দীপকে বলেন, এই ধরনের চাপ তাদের দমাতে পারবে না। তিনি বলেন, ‘এসবই বিজেপি করছে। তাদের কাজ ও কথায় স্পষ্ট যে তারা দেশের যুবসমাজকে ভয় পাচ্ছে। যদি তারা মনে করে যে এই ছোট ছোট পদক্ষেপ আমাদের ভয় দেখাবে, তবে তারা মারাত্মক ভুল করছে।’
সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা এ সময় ঘোষণা দেন যে দলটি শিগগিরই আরেকটি প্রতিবাদ কর্মসূচি শুরু করবে, যেটিকে তিনি ‘যন্তর মন্তরের সিজন টু’ হিসেবে বর্ণনা করেন। দীপকে বলেন, ‘অনেকেই ইনস্টাগ্রামে যন্তর মন্তরের সিজন টু কবে শুরু হবে তা নিয়ে মন্তব্য করছিলেন। আমি তাদের বলতে চাই, যন্তর মন্তরের সিজন টু খুব শিগগিরই শুরু হতে যাচ্ছে।’
এর কয়েক সপ্তাহ আগে সিজেপি গত ২৫ জুলাই যন্তর মন্তরে চলা ৩৭ দিনের আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেয়। তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং আন্দোলনকারীদের অন্যান্য দাবির বিষয়ে আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এই আন্দোলন মূলত নিট পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে। দেশজুড়ে ছাত্র ও তরুণ স্বেচ্ছাসেবকদের পাশাপাশি বিরোধী নেতারাও এতে সমর্থন জানান।গত ২৮ জুন এই আন্দোলনে যোগ দেন সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক এবং অনির্দিষ্টকালের অনশন শুরু করেন। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে সফদরজং হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। গত ২০ জুলাই আন্দোলনকারীরা যখন সংসদ ভবনের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করেন, তখন পুলিশ ব্যবস্থা নেয়। এরপর কংগ্রেসসহ অন্যান্য বিরোধী দলগুলো সংসদে বিষয়টি তুলে ধরে, যা অধিবেশনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে।
নয়াদিল্লির যন্তর মন্তর আন্দোলনের পর সাংগঠনিক কাঠামো গড়ে তোলার অংশ হিসেবে সিজেপি সম্প্রতি তাদের জাতীয় দল ঘোষণা করেছে; যেখানে দীপকে জাতীয় আহ্বায়ক হিসেবে মনোনীত হয়েছেন। সিজেপির প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস জানিয়েছেন, দলটি এখন জনগণের মতামত জানতে জাতীয় পর্যায়ে ‘লিসেনিং ট্যুর’ শুরু করবে এবং প্রাথমিকভাবে শিক্ষাকেন্দ্রিক একটি প্রচারণা শুরু করবে। তার ভাষ্য, ‘এটিই সিজন টু। এই ধরনের অযোগ্য সরকার ও কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সারা দেশে বিক্ষোভ চলছে। সিজেপির পক্ষ থেকে আমরা এখন জনগণের কথা শুনতে জাতীয় পর্যায়ে লিসেনিং ট্যুরে বের হচ্ছি।’ তিনি আরও জানান, স্বাধীনতা দিবস থেকে এই প্রচারণায় শিক্ষা সংক্রান্ত বিষয়কে অগ্রাধিকার দেয়া হবে।
বার্তা বাজার/এআর






