যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের অর্থনৈতিক সংকট আরও তীব্র হয়েছে বলে জানিয়ছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি বলেছেন, তেল বিক্রি কমে আসার পাশাপাশি বিভিন্ন কারখানা ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
আজ শনিবার ইরানি গণমাধ্যমে প্রকাশিত বক্তব্যে পেজেশকিয়ান উল্লেখ করেন, তেল বিক্রি কমে যাওয়ায় রাষ্ট্রীয় আয় কমে যাওয়ার কারণে সামগ্রিক খরচ বেড়ে যাওয়ার ফলে পণ্যের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি বলেন, আগে আমদানিকৃত পণ্যগুলো সরাসরি পথে ইরানে আসত, কিন্তু এখন সেগুলো বিকল্প পথে আসায় চূড়ান্ত খরচ বেড়ে যাচ্ছে।
পেজেশকিয়ান বলেন, আমাদের আয় কমে গেছে। আগে আমরা তেল বিক্রি করতে পারতাম, কিন্তু এখন আর তা পারছি না। পেজেশকিয়ান জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধের সময় দেশের শিল্প-কারখানাগুলোর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
তিনি বলেন, তারা বিপুল সংখ্যক কারখানা লক্ষ্য করে সেগুলো ধ্বংস করেছে। এই ক্ষতির প্রভাব কর আদায়ের ওপরও পড়েছে। প্রেসিডেন্ট বলেন, আমরা এখন আর কারখানাগুলো থেকে কর আদায় করতে পারছি না। শুধু তাই নয়, বরং কারখানাগুলোর কার্যক্রম সচল রাখার জন্য আমাদেরই তাদের অর্থ সহায়তা দিতে হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের সমস্যা বহুগুণ বেড়ে গেছে, অথচ একই সময়ে আমাদের আয় কমে গেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে একযোগে হামলা করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এর জবাবে তেহরান মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়।
১৮ জুন পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে, যার ফলে সরাসরি সংঘাতের অবসান ঘটে এবং চূড়ান্ত চুক্তির লক্ষ্যে আলোচনা শুরু হয়। তবে পরবর্তীতে হরমুজ প্রণালি নৌ-নিরাপত্তা ও অবাধ চলাচলের অধিকার নিয়ে মতপার্থক্যের জেরে সেই আলোচনা থমকে যায়। উল্লেখ্য, উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল ও গ্যাস রপ্তানির জন্য এই প্রণালিটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পথ। এরপর থেকে সমুদ্রপথটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এক ধরনের অস্থিরতা বিরাজ করছে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
বার্তা বাজার/এআর






