বর্ষা থেকে শীতে প্রবেশের সময় যেমন নিজের ও পোশাকের বাড়তি যত্ন নিতে হয়। তেমন আপনার বাসার লাইব্রেরিতে রাখা সারি সারি বইয়েরও যত্ন দরকার হয়। বই ভালো রাখার জন্য কয়েকটা সহজ কিন্তু কার্যকর নিয়ম মানলে বইগুলো অনেকদিন টিকে থাকবে।
রোদে রাখবেন না
বই শুকনো ও বাতাস চলাচল হয় এমন জায়গায় রাখুন। আর্দ্রতা হলে ছত্রাক ধরতে পারে। সরাসরি রোদে বই রাখবেন না। তাতে পাতা হলদেটে হয়ে যাবে ও ভেঙে যেতে পারে।
নিয়মিত ঝাড়পোছ
নিয়মিত বই ঝাড়ুন, ধুলো জমতে দেবেন না। বছরে অন্তত একবার বুকশেলফ খালি করে সব বই পরিষ্কার করুন। পাতায় দাগ পড়লে নরম শুকনো কাপড় বা ব্রাশ দিয়ে মুছুন, ভিজা কাপড় ব্যবহার করবেন না।
পোকা-মাকড় প্রতিরোধ
বইয়ের মধ্যে নিমপাতা, লবঙ্গ বা শুকনো নিমকাঠি রাখলে পোকা আসবে না। স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ এড়িয়ে চলুন, কারণ সিলভারফিশ ও টার্মাইট ভিজে বই নষ্ট করে। আলমারি/শেলফে মাঝে মাঝে সূর্যের আলো ও বাতাস ঢুকতে দিন।
প্রতিটি উপাদান আলাদা ছোট কাপড়ে (সুতির বা মসলার ব্যাগে) ভরে নিন। শেলফে, আলমারির কোনে বা বইয়ের ফাঁকে ফাঁকে রাখুন। ২–৩ মাস পরপর এগুলো বদলান।
ভেষজ কৌশল
লবঙ্গের গন্ধ অনেক পোকা ও ছত্রাক দূরে রাখে। কয়েকটা লবঙ্গ কাপড়ে বেঁধে বইয়ের আলমারিতে রেখে দিন। প্রাকৃতিক ক্যাম্ফর ছোট কৌটায় রেখে শেলফে রাখলে আর্দ্রতা কমে ও পোকা আসতে পারে না। সরাসরি বইয়ের পাতায় না রাখাই ভালো, ছোট কাপড়ে বেঁধে রাখুন। লেবুর শুকনো খোসা সূর্যে শুকিয়ে আলমারিতে রাখলে গন্ধ ভালো হয় এবং ছোট পোকা দূরে থাকে। তেজপাতা/দারুচিনি এগুলো শেলফে রাখলে বইয়ে একটা মিষ্টি গন্ধ থাকবে এবং কীটপতঙ্গ কমে। ল্যাভেন্ডার বা পুদিনা শুকনো পাতা কাপড়ে বেঁধে শেলফে রাখলে ছত্রাক ও পোকা কমে যায়, বইতে সুন্দর সুবাসও থাকবে।
বিশেষ বইয়ের যত্ন
খুব পুরনো ও দামী বই আলাদা করে অ্যাসিড-ফ্রি কাগজ/ফাইল দিয়ে মুড়ে রাখুন। যদি সম্ভব হয় প্লাস্টিকের বদলে কাপড়ের কভার ব্যবহার করুন—প্লাস্টিক আর্দ্রতা আটকায়। ভারী বই শেলফের নিচের দিকে আর হালকা বই উপরের দিকে রাখুন।
বই পড়ার সময় খেয়াল রাখুন
বই পড়ার সময় পাতার কোণ ভাঁজ করবেন না, বুকমার্ক ব্যবহার করুন। বই খোলার সময় বাধাইয়ের জায়গা যেন ভেঙে না যায় খেয়াল রাখুন। খাবার বা চা–কফি নিয়ে পড়তে বসলে দাগ পড়ে যেতে পারে—সতর্ক থাকুন।





