ঢাকা   বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
রেডিও বার্তা
রেডিও বার্তা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
খুঁজছি: বিভাগীয় প্রধান

বিজয়ের মাসে অনন্তের পথে মুক্তিবাহিনীর উপপ্রধান

Authorডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ: ২১ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৮:০৪ এএম

বিজয়ের মাসে অনন্তের পথে মুক্তিবাহিনীর উপপ্রধান

বিজয়ের মাস ডিসেম্বরেই অনন্তে পাড়ি জমালেন মহান মুক্তিযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও মুক্তিবাহিনীর উপপ্রধান (ডেপুটি চিফ অব স্টাফ) এ কে খন্দকার বীর-উত্তম। গতকাল শনিবার সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে এই বীর মুক্তিযোদ্ধা ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন বলে জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)।

এ কে খন্দকারের বয়স হয়েছিল ৯৫ বছর। তিনি এক মেয়ে, দুই ছেলে ও অনেক গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

আইএসপিআর জানিয়েছে, বাংলাদেশ বিমানবাহিনী ঘাঁটি বাশার প্যারেড গ্রাউন্ডে আজ রবিবার দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় মরহুমের জানাজা ও গার্ড অব অনার অনুষ্ঠিত হবে।

স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম বিমানবাহিনী প্রধান এবং সাবেক মন্ত্রী এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আবদুল করিম খন্দকারের (এ কে খন্দকার) মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। এ কে ইউনূস। এ কে খন্দকারকে বাংলাদেশের স্বাধীনতাসংগ্রামের এক অবিস্মরণীয় সৈনিক হিসেবে উল্লেখ করে শোকবার্তায় প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধকালে মুক্তিবাহিনীর ডেপুটি চিফ অব স্টাফ হিসেবে তাঁর কৌশলগত সিদ্ধান্ত, সাংগঠনিক দক্ষতা ও অটল দেশপ্রেম স্বাধীনতার সংগ্রামকে আরো সুসংহত করেছিল।

স্বাধীনতার পর এ কে খন্দকার বাংলাদেশ বিমানবাহিনী গঠনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন এবং দেশের প্রথম বিমানবাহিনী প্রধান হিসেবে এই বাহিনীকে একটি সুসংগঠিত ও কার্যকর প্রতিষ্ঠান হিসেবে দাঁড় করাতে অসামান্য অবদান রাখেন।’
এ কে খন্দকারের কর্ম, চিন্তা ও আদর্শ নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, তিনি রণাঙ্গনের একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে দেশের স্বাধীনতার ইতিহাস নিয়ে গ্রন্থ রচনা করে পতিত ফ্যাসিবাদী শাসনামলে ব্যাপক রোষানলে পড়েন। মহান স্বাধীনতাযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরাই ছিল পতিত শাসনের দৃষ্টিতে তাঁর অপরাধ। তিনি ছিলেন একজন দৃঢ়চেতা মুক্তিযোদ্ধা, সৎ ও সাহসী এবং আদর্শনিষ্ঠ দেশপ্রেমিক।

এ কে খন্দকারের মৃত্যুতে আরো শোক প্রকাশ করেছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম বীরপ্রতীক। শোকবার্তায় তিনি বলেন, এ কে খন্দকারের নেতৃত্বেই সেপ্টেম্বর ১৯৭১-এ বিমানবাহিনীর ঐতিহাসিক কিলোফ্লাইটের অপারেশনগুলো পরিচালিত হয়েছিল। পরে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং বাংলাদেশ সরকারের পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবেও সাফল্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। এই বীর মুক্তিযোদ্ধা অত্যন্ত সততা, নিষ্ঠা ও দক্ষতার সঙ্গে অর্পিত দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করেছেন। তাঁর অবদান জাতি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।

বীর মুক্তিযোদ্ধা এ কে খন্দকারের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে এবং শোকার্ত পরিবার, গুণগ্রাহী ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘দেশমাতৃকার মুক্তির জন্য একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে তাঁর অসামান্য অবদানের জন্য তিনি জাতির নিকট চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন। দেশের প্রতি মমত্ববোধ ও দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য তাঁর নিবেদিতপ্রাণ ভূমিকা অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।’

এ কে খন্দকারের অসামান্য অবদান জাতি গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে জানিয়ে এক শোকবার্তায় আইএসপিআর বলেছে, তিনি শুধু একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাই ছিলেন না, ছিলেন একজন দূরদর্শী নেতাও। তিনি বাংলাদেশ বিমানবাহিনী গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে তাঁর অটুট নিষ্ঠা, কৌশলগত বুদ্ধি এবং অদম্য চেতনা জাতির জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে আছে।

এ কে খন্দকার ১৯৩০ সালে পিতার কর্মস্থল রংপুরে জন্মগ্রহণ করেন। তবে তাঁর আদি নিবাস পাবনা জেলার বেড়া উপজেলার ভারেঙ্গা গ্রামে। তিনি ১৯৪৭ সালে ম্যাট্রিকুলেশন এবং ১৯৪৯ সালে ইন্টারমিডিয়েট পাস করেন। ১৯৫২ সালে তিনি পাকিস্তান বিমানবাহিনীতে কমিশন লাভ করেন।

এ কে খন্দকার গ্রুপ ক্যাপ্টেন (পরে এয়ার ভাইস মার্শাল হন) হিসেবে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন এবং ডেপুটি চিফ অব স্টাফ (উপপ্রধান) নিযুক্ত হন। তিনি প্রধান সেনাপতি কর্নেল এম এ জি ওসমানীর সার্বক্ষণিক সহকারী ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেওয়া চাকরিরত বাঙালি সামরিক কর্মকর্তাদের মধ্যে তিনি ছিলেন জ্যেষ্ঠ। যুদ্ধের প্রায় সব নীতিনির্ধারণী কর্মকাণ্ডেই তিনি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছিলেন।

১৯৭১ সালে ১৬ ডিসেম্বর ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) পাকিস্তানি সেনাদের আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে মুক্তিবাহিনীর প্রতিনিধিদের একজন হিসেবে তিনিও উপস্থিত ছিলেন। স্বাধীনতার পর থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত বিমানবাহিনীর প্রধান ছিলেন তিনি।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার প্রতিবাদে এ কে খন্দকার বিমানবাহিনী প্রধানের পদ থেকে পদত্যাগ করেন। তিনি ১৯৭৬ থেকে ১৯৮২ সাল পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়া এবং ১৯৮২ থেকে ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত ভারতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ছিলেন। পরে রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীও হন তিনি।

১৯৯৮ সালে প্রথম তিনি পাবনা-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য হন। ২০০৮ সালেও একই আসনে তিনি আওয়ামী লীগ থেকে দ্বিতীয়বারের মতো জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন। রাষ্ট্রপতি এইচ এম এরশাদের আমলে প্রথম তিনি বাংলাদেশ সরকারের পরিকল্পনামন্ত্রী (১৯৮৬-৯০) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দ্বিতীয় দফায় আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ২০০৯ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত পরিকল্পনামন্ত্রী ছিলেন তিনি।

এ কে খন্দকার সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে জনমত তৈরিতে ভূমিকা রাখেন। মুক্তিযুদ্ধে অনন্য অবদান রাখার জন্য তিনি ১৯৭৩ সালে বীর-উত্তম খেতাব এবং ২০১১ সালে স্বাধীনতা পদক লাভ করেন। মুক্তিযুদ্ধের অভিজ্ঞতা নিয়ে তাঁর লেখা বই ‘১৯৭১ : ভেতরে বাইরে’। ২০১৪ সালে প্রথম প্রকাশের পরই ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয় বইটি।

 

বার্তাবাজার/এমএইচ

নিয়োগ চলছে
সংবাদকর্মী আবশ্যক
রেডিও বার্তা টিমে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ুন
আরও সংবাদ লোড হচ্ছে...
✕
Radio Barta App Screen 1
Radio Barta App Screen 2
রেডিও বার্তার সব নিউজ পেতে ডাউনলোড করুন মোবাইল অ্যাপ
ক্লিক করুন