সংসদে সরকারি দলের (বিএনপি) সদস্যদের আক্রমণাত্মক আচরণের সমালোচনা করে বিরোধীদলীয় উপনেতা ড. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেছেন, তাদের কথা ও ভঙ্গি দেখে মনে হচ্ছে ওরাই আওয়ামী লীগ আর আমরা বিএনপি-জামায়াত।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
ড. তাহের বলেন, “আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতায় ছিল, তারা যে ভঙ্গিতে জামায়াতের বিরুদ্ধে বলত এবং কমেন্ট করত, ঠিক আজকে সরকারি বেঞ্চ থেকে একই আচরণ লক্ষ্য করছি। অথচ আমরা সবাই মিলে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছিলাম। আজ ক্ষমতায় যাওয়ার পর বিএনপি কেন আওয়ামী লীগের মতো আচরণ করছে, তা আমাদের বোধগম্য নয়।”
তিনি আরও বলেন, “সংসদে আমাদের ‘রাজাকার-আলবদর’ বলা হচ্ছে। গতকাল স্বাস্থ্যমন্ত্রীও এমন শব্দ ব্যবহার করেছেন যা অত্যন্ত অ-সংসদীয়। অতীতের কাদা ছোড়াছুড়ি বন্ধ করে গুণগত পরিবর্তনের রাজনীতি শুরু করা দরকার। শুধু মুখে ভালো কথা বললে হবে না, মানসিকতার পরিবর্তন চাই।”
ইসলামী ব্যাংক জামায়াতে ইসলামীর নয় এবং এই ব্যাংকের পরিচালক পদে বর্তমানে জামায়াতের কোনো এমপি নেই বলে সংসদকে জানিয়েছেন ড. আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। তিনি বলেন, “ইসলামী ব্যাংক কতিপয় সৎ ও উদ্যোগী মানুষের ফসল ছিল, যা একসময় দক্ষিণ এশিয়ার এক নম্বর বেসরকারি ব্যাংক হয়েছিল।”
তাহের বলেন, “সততা, দক্ষতা ও গুড ম্যানেজমেন্টের কারণেই ইসলামী ব্যাংক সফল হয়েছে। এখন সুদি ব্যাংকগুলোও তাদের উইন্ডো খুলে ইসলামী ব্যাংকিং করছে। এটা কোনো দলের ব্যাংক নয়। যদি বলেন পরিচালনার ক্ষেত্রে আমাদের ভূমিকা ছিল, তবে সেটি ইতিবাচক। কারণ আমরা ভালো ম্যানেজমেন্টে বিশ্বাস করি। অর্থমন্ত্রী একজন বিজ্ঞ মানুষ, আমি আশা করব তিনি রেকর্ড দেখে আগামী সংসদে এই বিভ্রান্তি দূর করবেন।”
খালেদা জিয়া কারাগারে থাকাকালীন জামায়াতে ইসলামী কোনো বিবৃতি দেয়নি—গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের এমন বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন ড. আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।
তিনি বলেন, “এটি একেবারেই অসত্য কথা। আমরা শুধু বিবৃতি নয়, উনার মুক্তির জন্য রাজপথে মিছিলও করেছি।”
তাহের বলেন, “১৯৯১ সালে জামায়াতের সহযোগিতায় বিএনপি সরকার গঠন করেছিল। তখন আমাদের মন্ত্রিত্ব নিতে বলা হলেও আমরা নেইনি। আমাদের ম্যাডামের (খালেদা জিয়া) প্রতি গভীর শ্রদ্ধা আছে। আব্দুল কাদের মোল্লার ফাঁসির আদেশের দিনও আমি ম্যাডামের বাসায় গিয়েছিলাম একটি বিবৃতির অনুরোধ নিয়ে। যদিও পরে সেটি দেওয়া হয়নি, কিন্তু ম্যাডামের জামায়াতের প্রতি সবসময় সিমপ্যাথি ছিল।”
তিনি আরও বলেন, অতীতে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে বিবাদ সম্পর্কের হানি ঘটিয়েছে। ৯৬ সালে আমরা আলাদা নির্বাচন করেছিলাম যার পরিণতি সবার জানা। বর্তমানেও কিছু ক্যাম্পাসে উত্তেজনা দেখা যাচ্ছে, সরকার ও বিরোধী দল উভয় পক্ষকেই এ ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে যাতে সুস্থ ধারার রাজনীতি বজায় থাকে।
বার্তা বাজার/এমএমএইচ






