ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজায় ত্রাণ পৌঁছে দিতে যাওয়া ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’তে ইসরায়েলি হামলা ও মানবাধিকারকর্মীদের আটকের ঘটনায় এবার সরব হয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশসহ ১৩ দেশের দেয়া যৌথ এক বিবৃতিতে ত্রাণবাহী জাহাজে হামলায় তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে।
একইসঙ্গে এই ঘটনাকে আন্তর্জাতিক আইন ও সামুদ্রিক কনভেনশনের ‘স্পষ্ট লঙ্ঘন’ বলা হয়েছে এবং আটককৃত কর্মীদের অবিলম্বে ও নিঃশর্ত মুক্তির দাবিও জানানো হয়েছে।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, তুরস্ক, স্পেন ও দক্ষিণ আফ্রিকাসহ ১৩ দেশের একটি জোট গাজামুখী ত্রাণবাহী ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’তে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর হামলা এবং এতে অংশ নেয়া কর্মীদের আটক করার ঘটনায় যৌথ বিবৃতি দিয়েছে।
১৩ দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এক বিবৃতিতে বলেন, তারা ‘সবচেয়ে কঠোর ভাষায়’ ইসরায়েলের এই হামলার নিন্দা জানাচ্ছেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ফ্লোটিলাটি ছিল একটি ‘শান্তিপূর্ণ বেসামরিক উদ্যোগ’ এবং এর উদ্দেশ্য গাজায় বর্তমানে যে ‘মানবিক বিপর্যয়’ চলছে তা বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরা।
বিবৃতিতে বলা হয়, গত ৩০ এপ্রিল গ্রিস উপকূলের আন্তর্জাতিক জলসীমায় ফ্লোটিলাটির ওপর হামলা এবং এতে থাকা কর্মীদের আটক করা আন্তর্জাতিক আইন ও সামুদ্রিক কনভেনশনের ‘স্পষ্ট লঙ্ঘন’।
পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বলেন, ‘আন্তর্জাতিক জলসীমায় মানবিক সহায়তাকর্মীদের বেআইনিভাবে আটক করা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের গুরুতর লঙ্ঘন।’
এছাড়া এখনও যেসব কর্মী আটক রয়েছেন, তাদের নিরাপত্তা নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দেশগুলো। একই সঙ্গে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের প্রতি তাদের ‘তাৎক্ষণিক ও নিঃশর্ত মুক্তি’ নিশ্চিত করার আহ্বানও জানানো হয়েছে।
যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী দেশগুলো হলো— তুরস্ক, বাংলাদেশ, ব্রাজিল, কলম্বিয়া, ইন্দোনেশিয়া, জর্ডান, লিবিয়া, মালয়েশিয়া, মালদ্বীপ, মৌরিতানিয়া, পাকিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকা ও স্পেন।
এসব দেশ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছে, আন্তর্জাতিক আইন রক্ষা, বেসামরিক মানুষের সুরক্ষা নিশ্চিত এবং এসব ঘটনার জবাবদিহি নিশ্চিত করতে বিশ্ব সম্প্রদায়কে তাদের ‘নৈতিক ও আইনি দায়িত্ব’ পালন করতে হবে।
বার্তা বাজার/এমএমএইচ






