ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) বিশাল বিজয়ে দলটির নেতা এবং নবনিযুক্ত মুখ্যমন্ত্রী উগ্র হিন্দুত্ববাদী শুভেন্দু অধিকারীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন সাবেক স্বৈরাচার ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। শনিবার (৯ মে) এক বার্তায় এই অভিনন্দন জানান দিল্লির এই সেবাদাসী।
অভিনন্দন বার্তায় ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা বলেন, “পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির ভূমিধস বিজয় এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করায় আমি ব্যক্তিগতভাবে এবং বাংলাদেশের জনগণের পক্ষ থেকে শুভেন্দু অধিকারীকে আন্তরিক অভিনন্দন ও উষ্ণ শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।”
তিনি উল্লেখ করেন যে, পশ্চিমবঙ্গের জনগণের এই রায় শুভেন্দু অধিকারীর “বলিষ্ঠ এবং জনমুখী নেতৃত্বের প্রতি তাদের গভীর আস্থা ও শ্রদ্ধারই প্রতিফলন।”
চরম বাংলাদেশ ও মুসলিম-বিদ্বেষী শুভেন্দুর জয়ে উল্লসিত খুনি হাসিনা অদ্ভুত আশা প্রকাশ করে বলেন, “বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার অকৃত্রিম বন্ধুত্বের ইতিহাসে পশ্চিমবঙ্গের একটি অনন্য স্থান রয়েছে। আমাদের মধ্যে অভিন্ন ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের বন্ধন বিদ্যমান। আমি বিশ্বাস করি, তার (শুভেন্দু) নেতৃত্বে এই সম্পর্ক ভবিষ্যতে নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।”
ভারত পলাতক হাসিনা তার বার্তায় আরও বলেন, প্রতিবেশী হিসেবে আমরা সব সময় পশ্চিমবঙ্গের শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করি। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, শুভেন্দু অধিকারীর কার্যকালে দুই দেশের মধ্যকার পারস্পরিক সহযোগিতার দীর্ঘ ঐতিহ্য আরও সুদৃঢ় হবে এবং দুই বাংলার মানুষের কল্যাণ ও উন্নয়নে যৌথভাবে কাজ করার ধারা অব্যাহত থাকবে। গণহত্যার দায়ে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত হাসিনা শুভেন্দু অধিকারী ও তার মন্ত্রিসভার সকল সদস্যের সাফল্য, দীর্ঘায়ু ও সুস্বাস্থ্য কামনা করেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে গণ-অভ্যুত্থানের মুখে পদত্যাগ করে ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পর থেকেই হাসিনা সেখানে অবস্থান করছেন। সম্প্রতি ভারত সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে যে, ঢাকা থেকে হাসিনাকে প্রত্যর্পণের জন্য করা আনুষ্ঠানিক আবেদনটি তারা আইনগতভাবে পর্যালোচনা করছে।
দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এক সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে বলেন, “শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের অনুরোধটি আমাদের অভ্যন্তরীণ বিচারিক ও আইনি প্রক্রিয়ার অধীনে পর্যালোচনাধীন রয়েছে। আমরা সব পক্ষের সাথে গঠনমূলকভাবে এই বিষয়ে যোগাযোগ রক্ষা করছি এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি।”
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ভারতের প্রক্সি সংগঠন আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করার জন্য ভারতের ওপর কূটনৈতিক চাপ বৃদ্ধি করেছে। তবে নয়াদিল্লি জানিয়েছে, বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থ, স্থিতিশীলতা এবং গণতন্ত্রকে অগ্রাধিকার দিয়ে তারা পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।






