এবার কোরবানির পশুর দাম কেমন হবে, যে ভবিষ্যদ্বাণী
এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : চলতি মাসের শেষের দিকেই পালিত হবে মুসলমান ধর্মাবলম্ভীদেরদের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ। এই উৎসব উপলক্ষে বসবে কোরবানির পশুর হাট। এরই মধ্যে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্নস্থানে পশুর হাটের ইজারা প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
এদিকে, ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি সারছেন রাজধানীর খামারিরা। রাজধানীর পশুর হাটগুলোতে যেমন বিভিন্ন জেলা শহর থেকে গরু আসে তেমনি রাজধানীতেও রয়েছে গরু খামারি। তারা নিজেদের খামার থেকেই গরু বিক্রি করে থাকেন। আসন্ন ঈদে বরাবরের মত এবারও তারা সেই প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
রাজধানীর খামারিদের ভাষ্যমতে, এবারের কোরবানি চাহিদা বেশি থাকবে ছোট ও মাঝারি সাইজের গরুর। এমনকি, অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় দামও বেশি থাকবে। দাম বাড়ার কারণ হিসেবে তারা বলছেন গোখাদ্য ও পরিবহন খরচ বৃদ্ধির কথা।
শুক্রবার (৮ মে) রাজধানীর বেশ কয়েকটি খামার পরিদর্শন ও মালিকদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
রাজধানীর মেরাদিয়া বাজার পার হয়েই পশ্চিম ত্রিমোহিনী। সেখান থেকে হাতের বামপাশের চিকন সরু গলি। সামনে গেলেই চোখে পড়বে হাজী আক্তার রোড। আর সেখানেই আদিল ডেইরি ফার্ম। আসন্ন কোরবানির জন্য গরু আনা হয়েছে এই খামারে। ইতোমধ্যে ১০ থেকে ১২টি গরু আনা হয়েছে।
কথা হয় খামারটির মালিক আদিল হোসেনের সঙ্গে। তিনি জানান, কুষ্টিয়া থেকে গরু এনে কিছুদিন রেখে বিক্রি করেন। খামার থেকেই বিক্রি হয় গরু। আদিল বলেন, “প্রথম চালান নিয়ে এসেছে। কয়েকদিন পর আরও দুই থেকে তিনটি চালান আসবে। সবমিলিয়ে ১৫০ থেকে ২০০ গরু আনবো।”
গরুর দাম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমার খামারে মাঝারি সাইজের গরু থাকবে। এগুলো এক লাখ ২০ হাজার থেকে দেড় লাখের মধ্যে। তবে, এবার এই সাইজের গরুর দাম অন্যান্য বারের তুলনায় বেশি হবে।”
ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টারের ত্রিমোহীনি ব্রিজ সংলগ্ন বাণিজ্যিকভাবে গড়ে উঠা সামারাই ক্যাটল ফার্ম লিমিটেড। সেখানেও লালন পালন করা হচ্ছে কোরবানির গরু। এখানেই কথা হয় সামারাই ক্যাটল ফার্মের মালিক ও বাংলাদেশ ডেইরি ফার্মাস অ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়র সহসভাপতি নিলয় হোসেনের সঙ্গে।
তিনি বলেন, “আমার খামারে এখন ২০০ এর বেশি গরু রয়েছে। ২০০ কেজি থেকে ১১০০ কেজি ওজনের গরু এখানে রয়েছে। এছাড়াও আর কয়েকদিন পর দুম্বা ও উট আসবে।” নিলয় খান বলেন, “বড় গরুর চাহিদা এবার সেই রকম থাকবে না।”
বাংলাদেশ ডেইরি ফার্মাস অ্যাসোসিয়েশনের এই সিনিয়র সহসভাপতি বলেন, “বাজারে এবার কোরবানি গরুর সংকট থাকবে, দামও বেশি হবে।” কারণ হিসেবে এ খামারি বলেন, “গরুর খাদ্যের দাম অনেক বেশি। পাশাপাশি গরু ঢাকায় নিয়ে আসতে পরিবহন খরচ আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি। গরুর যে রাখাল আনা হয় তাদের মজুরিও বেশি। সবকিছু হিসাবে করলে আগে যে মাঝারি সাইজের একটি গরু যেখানে এক লাখ থেকে কিছু বেশি বিক্রি হতো সেটি এখন দেড় লাখের মত পড়বে।”






