হঠাৎ উল্টো চিত্র মুরগির বাজারে
এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : দেশের বিভিন্ন বাজারে মুরগির দাম বেড়েছে। ব্রয়লার ও সোনালি উভয় প্রজাতির মুরগির কেজিতে বেড়েছে ৩০-৪০ টাকা পর্যন্ত। বৃহস্পতিবার (০৭ মে) প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ২০০-২১০, সোনালি মুরগির কেজি মানভেদে ৩৫০ থেকে ৪৩০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। যা ১৫ দিন আগেও ৩০-৪০ টাকা কেজিতে কম ছিল। খুচরা বাজারে বাড়লেও খামারে কেজিতে অন্তত ১০-১৫ টাকা কমেছে বলে জানিয়েছেন খামারিরা। অথচ উল্টো চিত্র বাজারে। হঠাৎ এই উল্টো চিত্রের কারণ কী, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন খোদ মুরগির খামারিরাও।
নারায়ণগঞ্জের খামারে কেজিতে কমেছে ১৫-১৭ টাকা
জেলার মুরগির খামারিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আগের তুলনায় লোডশেডিং অনেকাংশে কমেছে। ফলে মুরগির উৎপাদন আগের তুলনায় কিছুটা বেড়েছে। হিটস্ট্রোকে মুরগির মৃত্যুও কমেছে।
বন্দর উপজেলার মা-বাবার দোয়া পোলট্রি খামারি জুয়েল মাহমুদ বলেন, ‘১৫ দিন আগের তুলনায় লোডশেডিং অনেকটা কমেছে। তখন দৈনিক ১০-১২ ঘণ্টা লোডশেডিং ছিল, এখন তিন-চার ঘণ্টা দেখা যাচ্ছে। এ কারণে আগের তুলনায় মুরগির উৎপাদন কিছুটা বেড়েছে। এ ছাড়া বৃষ্টি হওয়ায় আবহাওয়া অনেকটা শীতল হয়েছে। ফলে মুরগির হিটস্ট্রোকে মৃত্যুর প্রবণতা কমেছে। ১২০০ মুরগির মধ্যে ৫০টি মারা গেছে। যেখানে ২০ আগেও দুই শতাধিক মুরগি হিটস্টোকে মারা গিয়েছিল। ফলে উৎপাদন কিছুটা বেড়েছে। এতে করে কেজি প্রতি মুরগির দাম ১৫-১৭ টাকা কমে এখন ১৪৮ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ‘গরমে বেশ কয়েকটি সমস্যায় পড়তে হয়। প্রথমত গরমে মুরগি খাবার কম গ্রহণ করে। ফলে ওজন কম হয় ও রোগ প্রতিরোগ ক্ষমতা কমে যায়। দ্বিতীয়ত মুরগির হিটস্ট্রোক প্রবণতা কমাতে স্প্রে করে পানি ছিটিয়ে দিতে হয়। কিন্তু তাতে মুরগির ঠান্ডা লেগে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সবমিলিয়ে নানা সংকট তৈরি হয় তীব্র গরমে। এখন বৃষ্টি হওয়ায় আবহাওয়া অনুকূলে আছে বলে উৎপাদন বেড়ে দাম কমেছে। কিন্তু এরপরও বাজারে কেন বেড়েছে, তা আমার জানা নেই। মূলত খামারে বাড়লে বাজারে বাড়ার কথা ছিল।’
একই কথা বলেছেন বন্দরের নবীগঞ্জ পোলট্রি ফার্মের খামারি মো. শহীদ মিয়া। তিনি বলেন, ‘এখন লোডশেডিং অনেকটা কমে যাওয়ায় মুরগির হিটস্ট্রোক প্রবণতা কমেছে। ১৩০০ মুরগির মধ্যে ৭০টি মারা গেছে গত ১৫ দিনে, তার আগের ১৫ দিনে যেখানে ১৫০-২০০টির মতো মুরগি মারা যেতো গরমে। ফলে লোকসানের প্রবণতা কমেছে। এজন্য দাম কমে ১৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছি আমরা। যা ১৫ দিন আগেও ১৬০-১৬৫ টাকায় বিক্রি করেছি। তবে এখন বাজারে দাম কমার কথা। অথচ শুনছি ২০০ টাকা।’
লেয়ার মুরগি উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছি উল্লেখ করে শহীদ মিয়া বলেন, ‘প্রায় এক মাস আগে লেয়ার মুরগি এক ধরনের ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। ফলে বিশাল লোকসান গুনতে হয়েছে। অনেক খামারে এমন হয়েছে। এজন্য ডিমের উৎপাদন কমেছে। ফলে দাম বেড়েছে ডিমের। আবার লোডশেডিং ও খরচ বাড়ায় ডিমের দাম বেড়েছে। ফলে লেয়ার মুরগি পালন বাদ দিয়েছি। এখন শুধু ব্রয়লার পালন করছি।’
রাজশাহীতে মুরগির দাম কমলেও বেড়েছে ডিমের দাম
দুই সপ্তাহ আগে রাজশাহীতে ঘন ঘন লোডশেডিং ও তীব্র গরমে হিটস্ট্রোকের কারণে প্রতিদিনই পোলট্রি খামারের অনেক মুরগি মারা গিয়েছিল। সেইসঙ্গে মুরগির ওজন ও ডিমের সরবরাহ কমে গিয়েছিল। বর্তমানে লোডশেডিং কম ও বৃষ্টিতে আবহাওয়া ঠান্ডা থাকায় আগের দুই সপ্তাহের তুলনায় পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে পোলট্রি খামারে। এতে করে বর্তমানে হিটস্টোকে মারা যাচ্ছে কম। উৎপাদন বাড়ায় দাম কেজিতে ১০ টাকা কমেছে। তবে বেড়েছে ডিমের দাম।
নগরীর মোল্লাপাড়া এলাকার খামারি আরিফুজ্জামান বলেন, ‘বৃহস্পতিবার খামার থেকে পাইকারিতে ১৫০ টাকা কেজিতে ব্রয়লার বিক্রি করেছি। সোনালি ২৬৫ থেকে ২৭০ টাকায় পাইকারিতে বিক্রি করেছি। আর সাদা ডিম আট টাকা ও লাল ডিম ৯ টাকায় বিক্রি করেছি। কিন্তু খুচরা বাজারে দামে এত পার্থক্য কেন, তা আমারও প্রশ্ন। ১৫০ টাকার মুরগি তো ১৯০-২০০ টাকা হতে পারে না। এটা ভয়াবহ অবস্থা। কেজিতে অন্তত ১০ টাকা বেশি থাকতে পারে। কেজিতে ব্যবসায়ীদের ৪০-৫০ টাকা লাভ করা উচিত নয়।’
বৃহস্পতিবার রাজশাহীর খুচরা বাজারে ব্রয়লার মুরগি ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। আর সোনালি ৩০০ থেকে ৩৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। সাদা ডিম ১০ টাকা ও লাল ডিম ১১ টাকায় বিক্রি হয়। যা দুই সপ্তাহ আগে ছয় থেকে সাত টাকায় বিক্রি হয়েছিল।
রাজশাহী পোলট্রি খামার ব্যবসায়ী এনামুল হক বলেন, ‘আগের চেয়ে মুরগির দাম কেজিতে ১০ টাকা কমেছে। কারণ উৎপাদন কিছুটা বেড়েছে। তবে ডিমের উৎপাদন কমায় দাম কিছুটা বেড়েছে।’
রাজশাহী পোলট্রি অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক বলেন, ‘লোডশেডিং ও গরমের কারণে মুরগির ওজন কমে গিয়েছিল। সেটার রেশ এখনও রয়ে গেছে। সরকারকে তৃণমূল পর্যায়ের পোলট্রি খামারিদের বাঁচানোর জন্য নজর দিতে হবে। পোলট্রি নীতিমালা আছে। কিন্তু বাস্তবায়ন নাই। এতে করে ক্ষুদ্র পোলট্রি শিল্প ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। তাই এ বিষয়ে সরকারকে উদ্যোগী হতে হবে। তা না হলে খামারিদের টিকে থাকা সম্ভব হবে না।’






