যৌন হয়রানি ও একাডেমিক দুর্নীতির অভিযোগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক প্রভাস কুমারকে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেটের ৫৪৮তম সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
রোববার (১৬ আগস্ট) সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তদন্ত প্রক্রিয়া ও শাস্তির বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ইফতিখারুল আলম মাসউদ বলেন, এক শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানি ও একাডেমিক দুর্নীতির অভিযোগে অধ্যাপক প্রভাস কুমারের বিরুদ্ধে দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কমিটি দুটি তাকে অব্যাহতির সুপারিশ করে। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী একটি উচ্চতর কমিটি গঠন করা হয়।
তিনি বলেন, উচ্চতর কমিটিতে অধ্যাপক প্রভাস কুমারের একজন প্রতিনিধি দেওয়ার কথা থাকলেও তিনি তা দেননি। তবে বিভিন্ন সময়ে নিজের বক্তব্য লিখিতভাবে পাঠিয়েছেন। উচ্চতর কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই সিন্ডিকেট তার শাস্তির অনুমোদন দিয়েছে।
উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম বলেন, তার বিরুদ্ধে অভিযোগের ভিত্তিতে একাধিক তদন্ত কমিটি করা হয়েছিল। কমিটির প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুযায়ী গত সিন্ডিকেট সভায় তাকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
এর আগে গত বছরের ৪ আগস্ট অধ্যাপক প্রভাস কুমার নিজ বিভাগের এক ছাত্রীকে তার চেম্বারে ডেকে শারীরিকভাবে ও মানসিকভাবে লাঞ্ছিত করেন বলে অভিযোগ ওঠে। ক্লাস উপস্থিতির নম্বর ও পরীক্ষার প্রস্তুতির বিষয়ে জানতে ওই শিক্ষার্থী অভিযুক্ত শিক্ষকের চেম্বারে যান। পরবর্তীতে শিক্ষকের কক্ষে গেলে শিক্ষক তাকে সাজেশনের কথা বলে পরীক্ষার প্রশ্ন দেন এবং ছবি তুলতে নিষেধ করে খাতায় উত্তর লিখতে বলেন। এ সময় অভিযুক্ত শিক্ষক ওই শিক্ষার্থীর শরীরের একাধিক স্থানে স্পর্শ করেন এবং কুপ্রস্তাব দেন।
পরে ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চেয়ে ওই বছরের ১৩ আগস্ট বিভাগের সভাপতি বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মা। এ ঘটনা তদন্তে বিভাগের শিক্ষকদের দ্বারা গঠিত একটি ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি গঠিত হয়। তাদের তদন্ত রিপোর্ট বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে জমা দেওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অধিকতর তদন্ত করে। পরে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মুখে গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর তাকে একাডেমিক ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
বার্তা বাজার/ আইকে






