ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন (কায়কোবাদ) আজ শনিবার রাজধানীর আশকোনায় হজ অফিসে আয়োজিত ‘সরকারি মাধ্যমের হজ গাইড পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান-২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে বললেন, শুধু বক্তব্যের মাধ্যমে নয়, দায়িত্বশীলতা, আন্তরিকতা ও ভালো কাজের মাধ্যমে মানুষের আস্থা ও মন জয় করতে হবে।
হজ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের আরও আন্তরিক ও দায়িত্বশীল হয়ে হাজীদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন বলেন, হজ ব্যবস্থাপনার সাফল্য শুধু হাজীদের নিবন্ধন কিংবা সৌদি সরকারের সঙ্গে চুক্তি সম্পাদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। হাজীদের নিরাপদে সৌদি আরবে পৌঁছানো, মিনা, আরাফাহ ও মুজদালিফায় হজের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে সহযোগিতা করা এবং তাঁদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনাই হজ ব্যবস্থাপনার মূল সাফল্য। বিগত হজ ব্যবস্থাপনার বড় অংশ আগের সরকারের সময় সম্পন্ন হয়েছে-এমন দাবি সঠিক নয়। তাঁর মতে, হাজীদের নিবন্ধন ও সৌদি সরকারের সঙ্গে চুক্তি করা নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ। মূল চ্যালেঞ্জ হলো হাজীদের সার্বিক নিরাপত্তা, সুযোগ-সুবিধা ও সেবা নিশ্চিত করা।
ধর্মমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান হজ ব্যবস্থাপনার গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমগুলো সুন্দরভাবে সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন। রিয়াদে সৌদি হজ মন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সাক্ষাতের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সৌদি হজ মন্ত্রী বাংলাদেশের হজ ব্যবস্থাপনার প্রশংসা করেছেন।
তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে হাজীদের জন্য এক লাখ বোতল পানি বিনামূল্যে সরবরাহ করা হয়েছে। পাশাপাশি বিনামূল্যে লাগেজ র্যাপিং এবং নারী হাজীদের জন্য পৃথক টয়লেটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সরকারি ব্যবস্থাপনায় কোনো হাজীর লাগেজ হারায়নি বলেও দাবি করেন তিনি।
হজযাত্রীদের সেবায় সংশ্লিষ্টদের ভূমিকার প্রশংসা করে ধর্মমন্ত্রী বলেন, পুলিশ, ইমিগ্রেশন, বিমান, আনজুমানে মফিদুল ইসলাম ও স্কাউটসহ বিভিন্ন সংস্থার সদস্যরা ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁদের আন্তরিকতা ও পরিশ্রমের প্রশংসা করে তিনি বলেন, হাজীদের সেবা করা একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। নিজেকে জনগণের ‘খাদেম’ হিসেবেও উল্লেখ করেন তিনি।
ধর্মমন্ত্রী একটি ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, হজে যাওয়ার ফ্লাইটের শেষ দিনে হজ ক্যাম্প প্রায় শূন্য হয়ে যাওয়ার পর এনএসআইয়ের একজন কর্মকর্তা তাঁকে ফোন করে জানান, ভিসা থাকা সত্ত্বেও এক নারী ও এক পুরুষ হজযাত্রী সৌদি আরবে যেতে না পেরে কান্নাকাটি করছেন। পরে তিনি নিজে টিকিটের টাকা পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ওই কর্মকর্তাকে দ্রুত তাঁদের নিয়ে বিমানবন্দরে যাওয়ার নির্দেশ দেন। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শেষ পর্যন্ত ওই দুই হজযাত্রীকে হজ পালনের জন্য সৌদি আরবে পাঠানো সম্ভব হয় বলে জানান তিনি।
হজ গাইডদের আরও দায়িত্বশীল ও আন্তরিক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে ধর্মমন্ত্রী বলেন, ভালো কাজের স্বীকৃতি হিসেবে গাইডদের পুরস্কৃত করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে আরও ভালো কাজের জন্য তাঁদের পুরস্কৃত করার সুযোগ বাড়ানো হবে।






