‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল’ নিয়ে জাতীয় সংসদে আলোচনার সময় স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা খোঁচা দিয়ে বলেন, ‘উনি (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী) ব্যস্ত মানুষ, পত্রিকা পড়ার সময় পান কিনা, কে জানে।’ এর জবাবে জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, তিনি রুমিন ফারহানার ফেসবুক পোস্টও দেখেছেন।
রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’ পাসের আগে আলোচনায় অংশ নিয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, গত সাত মাসে, জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ১৫ হাজার ৭১৭ শিশু নিখোঁজ হয়েছে। এর মধ্যে এখনও ২ হাজারের বেশি শিশুর খোঁজ পাওয়া যায়নি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এখানে উপস্থিত আছেন। সে কারণেই তাকে বিষয়টি আবারও একটু মনে করিয়ে দিলাম।’
রুমিন ফারহানা বলেন, গুমকে স্বতন্ত্র অপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া এবং গোপন বন্দিশালা নিষিদ্ধ করার উদ্যোগকে তিনি নীতিগতভাবে সমর্থন করেন। তবে আইনটি তাড়াহুড়ো করে পাস না করে আরও নিবিড় যাচাই-বাছাইয়ের দাবি জানান তিনি।
তিনি বলেন, অতীতে যারা গুমের শিকার হয়েছেন এবং এখনও যাদের সন্ধান মেলেনি, তাদের ক্ষেত্রে আইনের তামাদি ও ভূতাপেক্ষ কার্যকারিতা জটিলতা তৈরি করতে পারে। অতীতে সংঘটিত প্রতিটি গুমের বিচারের পথ নিশ্চিত করারও দাবি জানান তিনি।
প্রমাণ উপস্থাপনের ক্ষেত্রেও প্রশ্ন তোলেন রুমিন। তার ভাষ্য, রাষ্ট্রের প্রশিক্ষিত বাহিনী কাউকে তুলে নিয়ে গেলে অসহায় পরিবার কীভাবে আদালতে প্রমাণ উপস্থাপন করবে, সেটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কোনও নাগরিককে সর্বশেষ কোনও বাহিনীর হেফাজতে দেখা গেলে তাকে নিজেদের হেফাজতে না থাকার বিষয়টি প্রমাণের প্রাথমিক দায়িত্ব ওই বাহিনীর ওপর থাকা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এ ছাড়া সামরিক ও বেসামরিক বিচারব্যবস্থার দ্বন্দ্ব এড়াতে বিলটিতে স্পষ্ট বিধান না থাকার কথা বলেন তিনি। গোপন আটক বন্ধে কাউকে আটকের দুই ঘণ্টার মধ্যে জাতীয় কেন্দ্রীয় ডিজিটাল ডাটাবেজে তথ্য অন্তর্ভুক্তির বাধ্যবাধকতা এবং অনুপস্থিতির সনদ দেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা রাখারও দাবি জানান রুমিন।
জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমি ধন্যবাদ জানাচ্ছি মাননীয় সদস্য রুমিন ফারহানাকে, কারণ তিনি বলেছেন আমার পত্রিকা পড়ার সময় নাই। তার ফেসবুক ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্টে যে স্ট্যাটাস দিয়েছে, আমার নামের বিকৃতি করে, তাও আমি দেখেছি।’
রুমিন ফারহানার বক্তব্যে বিলটিতে ‘নন-অবস্ট্যান্টিভ ক্লজ’ না থাকার যে অভিযোগ করা হয়েছে, তার জবাবও দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিলের তৃতীয় ধারায় বলা হয়েছে, ‘আপাতত বলবৎ অন্য কোনও আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের বিধানাবলি প্রাধান্য পাইবে।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমি তো জানি তিনি ব্যারিস্টার। নন-অবস্ট্যান্টিভ ক্লজ ইহাকেই বলে। একটু তিন নম্বর সেকশনটা পড়ে দেখতে বলবো।’
তিনি আরও বলেন, আগের ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ, ২০২৫’-এ গুমের শিকার ব্যক্তি, প্রত্যক্ষদর্শী বা সাক্ষীকে প্রথমে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কিংবা এখতিয়ারসম্পন্ন প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে অভিযোগ করার বিধান ছিল। পরে অভিযোগটি সাধারণ ডায়েরি বা মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করে কমিশনের কাছে পাঠানো এবং কমিশনের তদন্তের বিধান ছিল।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষ্য, এভাবে গুমের শিকার ব্যক্তিকে একাধিক ধাপ পেরিয়ে ট্রাইব্যুনালে যেতে হতো। এ কারণে সরকার আগের অধ্যাদেশের ত্রুটি দূর করে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে নতুন বিলটি এনেছে।
রবিবার জাতীয় সংসদে ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল, ২০২৬’, ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’ এবং ‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ পাস হয়।






