ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় চমক নিয়ে এলেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের তথ্য উপদেষ্টা এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম মাস্টারমাইন্ড মাহফুজ আলম। দীর্ঘ জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে আত্মপ্রকাশ করল তাঁর উদ্যোগে গঠিত নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ‘অল্টারনেটিভস’।
শুক্রবার (৬ মার্চ) রাতে এই প্ল্যাটফর্মের ১৭ সদস্যবিশিষ্ট ‘ন্যাশনাল অর্গানাইজিং কমিটি’ বা জাতীয় সাংগঠনিক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। চমকপ্রদ বিষয় হলো, এই কমিটিতে জায়গা করে নিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক তিন হেভিওয়েট নেতাও।
ফেসবুকে ঘোষণা ও কমিটিতে যারা আছেন
শুক্রবার রাত সোয়া ৯টার দিকে ‘অল্টারনেটিভস’-এর অফিশিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই নতুন কমিটির নাম প্রকাশ করা হয়। এর মাত্র ৫ মিনিট পরেই মাহফুজ আলম তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্টটি শেয়ার করে দেশবাসীকে নতুন এই রাজনৈতিক উদ্যোগের কথা নিশ্চিত করেন।
রেডিও বার্তা-র হাতে আসা তথ্য অনুযায়ী, মাহফুজ আলম ছাড়া ১৭ সদস্যের এই কমিটিতে রয়েছেন— আহমদ ইবনে আরিফ (অনি), ইমন সৈয়দ, ইমরান আহমেদ, জাহিন ফারুক আমিন, তানভীর চৌধুরী, তাজনূভা জাবীন, দুর্জয় দাশ গুপ্ত, ফরহাদুল আলম সবুজ, মায়িদা তানহা বিদুষী, মুতাসিম বিল্লাহ, মনিরুজ্জামান, মো. রায়হানুর রহমান (রাবি), মোহাম্মাদ এরফানুল হক, সাজ্জাদ হোসেন শহীদুল্লাহ, শেখ ফরিদ এবং হাসান আলী।
এই কমিটিতে থাকা তাজনূভা জাবীন ও হাসান আলী এনসিপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এবং ইমন সৈয়দ দলটির দক্ষিণাঞ্চলের সাবেক যুগ্ম মুখ্য সংগঠক ছিলেন।
এনসিপির সাথে দূরত্ব ও নতুন মেরুকরণ
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। এই অভ্যুত্থানের নেপথ্যের অন্যতম কারিগর ছিলেন মাহফুজ আলম। পরবর্তীতে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের তালিকা তৈরিতেও লিয়াজোঁ কমিটির সদস্য হিসেবে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।
জুলাই অভ্যুত্থানের পর তরুণদের বড় একটি অংশ জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দেয়। শুরুতে এনসিপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে মাহফুজ আলমের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকলেও, পরবর্তীতে নীতিগত ও বেশ কিছু সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে তাঁদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়। সেই দূরত্বের কারণেই এনসিপিতে যোগ না দিয়ে আগামী নির্বাচনের আগে সম্পূর্ণ নতুন একটি রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ‘অল্টারনেটিভস’ গঠনের পথে হাঁটলেন তিনি।
লক্ষ্য ‘পুনর্গঠন’ ও আগামী দিনের রূপরেখা
‘অল্টারনেটিভস’-এর সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, তাদের মূল লক্ষ্য দেশের রাজনীতিতে তরুণদের ইতিবাচক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। জুলাই বিপ্লবের হারানো স্বপ্ন পুনরুদ্ধার করে একটি দায় ও দরদশীল বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে সারা দেশের ছাত্র-নাগরিকদের পুনর্গঠন করতে চায় তারা।
নবগঠিত এই কমিটির প্রধান কাজ হবে সারা দেশের রাজনীতি-সচেতন তরুণ সমাজের সঙ্গে গভীর সংযোগ স্থাপন করা। পাশাপাশি জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদ পরিবার, আহত যোদ্ধা এবং নীরবে কাজ করে যাওয়া সক্রিয় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে নিয়ে নতুন নেতৃত্ব গড়ে তোলা।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, একটি দায়িত্বশীল ও অংশগ্রহণমূলক রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তারা দেশব্যাপী সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে। পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন জেলায় সংলাপের মাধ্যমে ছাত্র, শ্রমিক, কৃষক ও সাধারণ জনতাকে এক ছাতার নিচে এনে শক্তিশালী কাঠামো গড়ে তোলাই ‘অল্টারনেটিভস’-এর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা। সাংগঠনিক প্রয়োজনে এই কমিটির আকার আগামীতে আরও বাড়ানো হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
সার্বিক বিশ্লেষণে বলা যায়, প্রথাগত রাজনীতির বাইরে গিয়ে তরুণদের নিয়ে মাহফুজ আলমের এই ‘অল্টারনেটিভস’ দেশের আগামী দিনের রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে যাচ্ছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।






