ঢাকা   সোমবার, ০৩ আগস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Logorb
রেডিও বার্তা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
খুঁজছি: বিভাগীয় প্রধান

হাসিনার চলে যাওয়া আমাদের কাছে অলৌকিক মনে হচ্ছিল: মির্জা ফখরুল

Authorডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ: ০৩ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৫৫ পিএম

হাসিনার চলে যাওয়া আমাদের কাছে অলৌকিক মনে হচ্ছিল: মির্জা ফখরুল

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের দিনটিকে নিজের রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম তাৎপর্যপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, শেখ হাসিনার দেশত্যাগের খবর পেয়ে ঘটনাটি তাদের কাছে অনেকটা অলৌকিক বলে মনে হয়েছিল।

সোমবার (৩ আগস্ট) দৈনিক প্রথম আলোতে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে মির্জা ফখরুল এ কথা বলেন।

প্রথম আলোতে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মির্জা ফখরুল বলেন, ৫ আগস্ট সকালে আমি বাসায় ছিলাম। আগে থেকেই ছাত্রদের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ ছিল এবং বেশ ধারাবাহিকভাবেই চলছিল। বেলা ১১টার দিকে আমাদের জেনারেল আকবর (অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল ফজলে এলাহি আকবর) আমাকে ফোন করে জানালেন, চিফ (সেনাপ্রধান) আপনাকে ফোন করবেন, আপনি ধরবেন। তারপর বোধ হয় দুপুর ১২টার দিকে চিফ ফোন করলেন, বললেন যে আমি একটু আপনাদের সঙ্গে কথা বলতে চাই। প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করতে চান, আমি সে বিষয়টা নিয়ে আপনাদের সঙ্গে একটু কথা বলতে চাই; তারপর কী হবে।

আমি বললাম, আপনি আর কাকে কাকে ডাকছেন। উনি বললেন, তিনি বেশির ভাগ রাজনৈতিক দলকে ডেকেছেন। এরপর আমি বললাম, এখন তো বাইরে যাওয়ার উপায় নেই। গাড়ি তো চলবে না, এখন রাস্তায় সব মানুষ। উনি বললেন, আমি গাড়ি পাঠিয়ে দিচ্ছি।

মির্জা ফখরুল জানান, সেনাসদরে যাওয়ার আগে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে লন্ডনে যোগাযোগ করে আলোচনার বিষয় ও দলের অবস্থান নিয়ে কথা বলেন। পরে সেনাবাহিনীর পাঠানো গাড়িতে চড়ে সেনাসদরে যান তিনি।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, বৈঠকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগের পরবর্তী পরিস্থিতি এবং দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা হয়। তিনি বলেন, বৈঠকে জাতীয় সরকারের প্রস্তাব উঠলেও বিএনপি অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষে অবস্থান নেয়।

বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, সেনাপ্রধান সক্রিয়ভাবে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং সংকটের রাজনৈতিক সমাধান চেয়েছিলেন। বৈঠকের একপর্যায়ে শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে চলে গেছেন বলে সেনাপ্রধান তাদের জানান।

মির্জা ফখরুল বলেন, তখন তো দারুণ একটা উত্তেজনা। হাসিনা চলে যাচ্ছে, এটা তো একটা আমাদের কাছে অলৌকিক ঘটনা মনে হচ্ছিল। এ জন্য যে ১৭টা বছর আমরা এটার জন্য লড়াই করছি। আর এত বড় একটা কঠিন আন্দোলন, এটা রিয়েলি বর্ণনা করা যাবে না তখনকার সেই অভিব্যক্তি। আমি কিন্তু ওখান থেকে মাঝে মাঝে আমাদের চেয়ারম্যানের সঙ্গে যোগাযোগ করছিলাম। তারপর তো আমাদের সবাইকে নিয়ে যাওয়া হলো বঙ্গভবনে। রওনা হয়েছি আমরা বিকেলে, কিন্তু পৌঁছাতে পৌঁছাতে সন্ধ্যা। প্রায় তিন ঘণ্টা লেগে গেছে ওখানে যেতে। সারা রাস্তায় তো মানুষ আর মানুষ এবং সবাই অত্যন্ত আনন্দিত। সমস্ত ছেলেমেয়ে, কেউ ঘাড়ের মধ্যে বাচ্চাদের নিয়ে হাঁটছে।

তিনি বলেন, আমরা যখন ক্যান্টনমেন্টের গেট থেকে বের হবো, দেখি গাড়ি বের হওয়ার কোনো উপায় নেই। রাস্তা একদম ব্লক। মানুষের দ্বারা ব্লক। ওইখানেই তখন কতগুলো ওই ড্রাম, সেগুলোর ওপর প্রথমেই আমাদের মান্না দাঁড়াল, আমি দাঁড়ালাম, তারপর জামায়াতে ইসলামের শফিকুর রহমান দাঁড়ালেন। আমরা অনুরোধ জানালাম, এখন আমাদের শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা করতে হবে, দেশকে চালাতে হবে। আমরা বঙ্গভবনে যাচ্ছি। আমরা যখন বঙ্গভবনে পৌঁছালাম, প্রায় সন্ধ্যা হয়ে গেছে। ছাত্রদের নেতারা তখনো এসে পৌঁছায়নি। কয়েকজন এসেছে, এক্সাক্টলি নামগুলো আমার মনে নেই। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, তিন বাহিনীর প্রধান, ডিজিএফআই, এনএসআইয়ের কর্মকর্তারা ছিলেন। আসিফ নজরুল ওয়াজ নেগোশিয়েটিং, ইনফ্যাক্ট উনি তখন এই যে কথাবার্তাগুলো হচ্ছিল, সেটার ব্রিজিং (সেতুবন্ধ) করছিলেন আসলে। উনি সেনাসদরেও ছিলেন এবং দেয়ার অলসো হি ওয়াজ প্লেয়িং লিডিং রোল। ওখানে (বঙ্গভবনে) আসার পর আলোচনা হচ্ছিল। প্রথমেই আমি বললাম, আলোচনার আগে বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে। তখন আর্মি চিফ বললেন, হ্যাঁ, এটা অবশ্যই করা উচিত।

বার্তা বাজার/আইকে

নিয়োগ চলছে
সংবাদকর্মী আবশ্যক
রেডিও বার্তা টিমে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ুন
পরবর্তী সংবাদ আসছে...
লিংক কপি হয়েছে!
Radio Barta App Screen 1
Radio Barta App Screen 2
রেডিও বার্তার সব নিউজ পেতে ডাউনলোড করুন মোবাইল অ্যাপ
ক্লিক করুন