রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের সওগাত নিয়ে আমাদের মাঝে উপস্থিত হয় পবিত্র মাহে রমজান। আত্মশুদ্ধি আর আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের শ্রেষ্ঠ সময় এটি। সাহরি থেকে শুরু করে ইফতার পর্যন্ত—রোজাদারের প্রতিটি মুহূর্তই ইবাদতের গণ্য হয়। বিশেষ করে ইফতারের সময়টি মুমিনের জন্য অত্যন্ত আবেগের এবং দোয়া কবুলের এক সুবর্ণ সুযোগ।
রেডিও বার্তার আজকের আয়োজনে আমরা জানব ইফতারের সময় পঠিত দোয়া, বাংলা উচ্চারণ, অর্থ এবং ইফতার করানোর ফজিলত সম্পর্কে।
ইফতারের সময় দোয়া কবুলের গুরুত্ব
সারাদিন উপবাস থাকার পর ইফতারের আগ মুহূর্তে আল্লাহর দরবারে হাত তোলা মুমিনের জন্য পরম সৌভাগ্যের। হাদিস শরিফে এসেছে, তিন ব্যক্তির দোয়া মহান আল্লাহ কখনোই ফিরিয়ে দেন না। এর মধ্যে অন্যতম হলো—রোজাদার ব্যক্তি, যখন সে ইফতার সামনে নিয়ে অপেক্ষা করে। (সুনানে তিরমিজি: ৩৫৯৮, ইবনে মাজাহ: ১৭৫২)
তাই ইফতারের সময় গল্প-গুজবে না কাটিয়ে বেশি বেশি ইসতেগফার ও দোয়া করা উচিত।
ইফতারের দোয়া (আরবি, বাংলা উচ্চারণ ও অর্থ)
ইফতার শুরু করার সময় রাসুলুল্লাহ (সা.) মহান আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে একটি বিশেষ দোয়া পড়তেন। হযরত মুয়াজ ইবনে জোহরা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস অনুযায়ী দোয়াটি হলো:
আরবি দোয়া:
اَللَّهُمَّ لَكَ صُمْتُ وَ عَلَى رِزْقِكَ اَفْطَرْتُ
বাংলা উচ্চারণ:
আল্লাহুম্মা লাকা ছুমতু ওয়া আলা রিজক্বিকা আফতারতু।
বাংলা অর্থ:
হে আল্লাহ! আমি একমাত্র তোমারই সন্তুষ্টির জন্য রোজা রেখেছি এবং তোমারই দেওয়া রিজিক দিয়ে ইফতার করছি। (আবু দাউদ: ২৩৫৮)
ইফতারের পরের দোয়া (তৃষ্ণা মেটানোর পর)
ইফতারের মাধ্যমে তৃষ্ণা মেটানোর পর বিশ্বনবী (সা.) আরেকটি সুন্দর দোয়া পড়তেন বলে হাদিসে উল্লেখ আছে। আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) ইফতার শেষে বলতেন:
আরবি দোয়া:
ذَهَبَ الظَّمَاءُ وَابْتَلَّتِ الْعُرُوْقُ وَ ثَبَتَ الْأَجْرُ اِنْ شَاءَ اللهُ
বাংলা উচ্চারণ:
জাহাবাজ জামাউ ওয়াবতাল্লাতিল উ’রুকু, ওয়া সাবাতাল আজরু ইনশাআল্লাহ।
বাংলা অর্থ:
(ইফতারের মাধ্যমে) পিপাসা দূর হলো, শিরা-উপশিরা সিক্ত ও সতেজ হলো এবং আল্লাহ চাইলে রোজার সওয়াবও নিশ্চিত হলো। (আবু দাউদ: ২৩৫৭)
রোজাদারকে ইফতার করানোর অকল্পনীয় সওয়াব
নিজে ইফতার করার পাশাপাশি অন্য রোজাদারকে ইফতার করানো ইসলামে অত্যন্ত পুণ্যের কাজ। এ বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.) সুসংবাদ দিয়ে বলেছেন:
“যে ব্যক্তি কোনো রোজাদারকে ইফতার করাবে, সে ওই রোজাদারের সমান সওয়াব পাবে। তবে এতে মূল রোজাদারের সওয়াব থেকে বিন্দুমাত্র কমানো হবে না।” (তিরমিজি: ৮০৭)
মাহে রমজানের প্রতিটি আমল আমাদের পরকালীন মুক্তির পাথেয় হোক—এটাই আমাদের কামনা।





