রমজান মাস বা সিয়াম সাধনার মূল ভিত্তি হলো নিয়ত। ইসলামি শরিয়তে যেকোনো ইবাদত কবুল হওয়ার পূর্বশর্ত হলো সঠিক নিয়ত বা সংকল্প। ‘নিয়ত’ একটি আরবি শব্দ, যার শাব্দিক অর্থ হলো মনের দৃঢ় ইচ্ছা। অর্থাৎ, আপনি যে কাজটি করছেন, তা একমাত্র মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই করছেন—এই মানসিক প্রস্তুতিই হলো নিয়ত।
অনেকেই সেহরির সময় রোজার নিয়ত নিয়ে দ্বিধায় থাকেন। কেউ কেউ মনে করেন মুখে আরবি নিয়ত পড়া জরুরি, আবার কারও প্রশ্ন—মনে মনে ভাবলে কি রোza হবে? আজকের এই আয়োজনে থাকছে রোজার নিয়ত, আরবি-বাংলা উচ্চারণ এবং এ সংক্রান্ত হাদিসের নির্দেশনা।
ইবাদতে নিয়তের গুরুত্ব: হাদিস কী বলে?
ইসলামে নিয়ত ছাড়া কোনো ইবাদত পূর্ণাঙ্গ হয় না। বিখ্যাত হাদিস গ্রন্থ বুখারি শরিফে হজরত আলক্বামাহ ইবনু ওয়াক্কাস আল-লায়সী (রহ.) হতে বর্ণিত, হজরত ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) মিম্বারের ওপর দাঁড়িয়ে বলেছেন:
“আমি নবীজিকে (সা.) বলতে শুনেছি, ‘নিশ্চয়ই সব কাজের ফলাফল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল। মানুষ তার নিয়ত অনুযায়ীই প্রতিফল পাবে’।” (বুখারি: ০১)
সিলেটের চিকনাগুল (আজিজিয়া) মাদ্রাসার সিনিয়র মুহাদ্দিস মাওলানা কয়েছ আহমদ এ প্রসঙ্গে বলেন, “উক্ত হাদিসটি প্রমাণ করে যে, লোক দেখানো ইবাদত বা অসৎ উদ্দেশ্যের আমল আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। রোজার ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। রোজা সহিহ হওয়ার জন্য অন্তরের দৃঢ় সংকল্প থাকা ফরজ।”
রোজার নিয়ত কি মুখে উচ্চারণ করা জরুরি?
অনেকের ধারণা, রোজার জন্য নির্দিষ্ট আরবি বাক্য মুখে উচ্চারণ করতেই হবে। তবে ইসলামি স্কলারদের মতে, নিয়ত মূলত অন্তরের বিষয়। আপনি যে আগামীকাল রোজা রাখবেন, এই সংকল্প মনে মনে থাকাই যথেষ্ট।
মাওলানা কয়েছ আহমদ আরও জানান, “রোজার নিয়ত মুখে উচ্চারণ করা জরুরি নয়, তবে উত্তম। আমাদের সমাজে প্রচলিত আরবি নিয়তটি সরাসরি হাদিসে বর্ণিত না হলেও, এটি পড়লে কোনো ক্ষতি নেই। তবে মনে রাখতে হবে, কেবল তোতাপাখির মতো মুখে আউড়ে গেলে হবে না, অন্তরে রোজার সংকল্প থাকাই মূল বিষয়।”
পাঠকদের সুবিধার্থে নিচে রোজার প্রচলিত আরবি নিয়ত, বাংলা উচ্চারণ ও অর্থ দেওয়া হলো:
রোজার আরবি নিয়ত (প্রচলিত)
نَوَيْتُ اَنْ اُصُوْمَ غَدًا مِّنْ شَهْرِ رَمْضَانَ الْمُبَارَكِ فَرْضَا لَكَ يَا اللهُ فَتَقَبَّل مِنِّى اِنَّكَ اَنْتَ السَّمِيْعُ الْعَلِيْم
বাংলা উচ্চারণ:
নাওয়াইতু আন আছুমা গাদাম মিন শাহরি রমজানাল মুবারাক; ফারদাল্লাকা ইয়া আল্লাহু, ফাতাকাব্বাল মিন্নি ইন্নাকা আনতাস সামিউল আলিম।
বাংলা অর্থ:
হে আল্লাহ! আমি আগামীকাল পবিত্র রমজানের তোমার পক্ষ থেকে নির্ধারিত ফরজ রোজা রাখার ইচ্ছা পোষণ করলাম। অতএব তুমি আমার পক্ষ থেকে (আমার এই রোজা) কবুল করো, নিশ্চয়ই তুমি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞানী।
মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে সহিহ নিয়তের সঙ্গে রমজানের প্রতিটি রোজা পালন করার তৌফিক দান করুন। আমিন।





