ঢাকা   সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Logorb
রেডিও বার্তা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
খুঁজছি: বিভাগীয় প্রধান

অজু বা গোসলে গলার ভেতর পানি গেলে রোজা থাকবে কি? জেনে নিন সঠিক সমাধান

Authorনিউজ রুম

আপডেট: ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০১:১৫ পিএম

অজু বা গোসলে গলার ভেতর পানি গেলে রোজা থাকবে কি? জেনে নিন সঠিক সমাধান
হাদিসে রোজা অবস্থায় অজু-গোসলের সময় বাড়তি সতর্ক থাকার কথা বলা হয়েছে | ছবি : সংগৃহীত

পবিত্র মাহে রমজান প্রতিটি মুমিনের জন্য সংযম ও আত্মশুদ্ধির মাস। এ মাসে মুসলমানরা সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার ও পাপাচার থেকে বিরত থাকেন। রোজাদাররা সবসময় সচেষ্ট থাকেন যেন তাদের রোজাটি সহিহ বা শুদ্ধ হয়। অজান্তে বা অনিচ্ছায় এমন কোনো কাজ যেন না হয়ে যায়, যাতে রোজার ক্ষতি হতে পারে—এ নিয়ে অনেকের মনেই থাকে নানা উদ্বেগ।

বিশেষ করে অজু বা গোসলের সময় একটি সাধারণ প্রশ্ন প্রায়ই সামনে আসে। সেটি হলো— ‘রোজার কথা মনে থাকা অবস্থায় কুলি করা বা নাকে পানি দেওয়ার সময় যদি ভুলবশত পানি গলার ভেতর বা পেটে চলে যায়, তবে কি রোজা ভেঙে যাবে?’

বিষয়টি আপাতদৃষ্টিতে সাধারণ মনে হলেও ইসলামি শরিয়তে এর সুনির্দিষ্ট বিধান রয়েছে। আজকের আয়োজনে আমরা জানব, অনিচ্ছাকৃতভাবে পানি গিলে ফেললে রোজার হুকুম কী।

শরিয়তের নির্দেশনা ও আলেমদের মতামত

ইসলামি ফিকহবিদ ও স্কলারদের মতে, আপনি যদি রোজা রেখেছেন—এই কথাটি স্মরণ থাকা অবস্থায় অজু বা গোসলের সময় অনিচ্ছাকৃতভাবেও গলার নিচে পানি চলে যায়, তবে রোজা ভেঙে যাবে। যদিও আপনি ইচ্ছে করে পানি পান করেননি, তবুও অসতর্কতার কারণে রোজাটি নষ্ট হয়ে যাবে এবং পরবর্তীতে এই রোজার কাজা আদায় করতে হবে। তবে এর জন্য কোনো কাফফারা (জরিমানা) দিতে হবে না।

এ বিষয়ে সুস্পষ্ট হাদিস ও ফিকহের নির্দেশনা রয়েছে।

হাদিসের আলোকে সতর্কতা

রাসুলুল্লাহ (সা.) রোজা অবস্থায় অজু করার সময় নাকে পানি দেওয়ার ক্ষেত্রে অতিরঞ্জন করতে নিষেধ করেছেন। হযরত লাকিত ইবনে সাবিরা (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন:

“তুমি (অজু-গোসলে) ভালোভাবে নাকে পানি দাও, তবে রোজা অবস্থায় নয় (অর্থাৎ রোজা থাকলে খুব বেশি ভেতরে পানি দিও না)।”— (সুনানে আবু দাউদ: ২৩৬৩, তিরমিজি: ৭৮৫)

এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, রোজা অবস্থায় পানি ব্যবহারের ক্ষেত্রে মুমিনদের বাড়তি সতর্ক থাকতে হবে।

বিখ্যাত স্কলারদের অভিমত

প্রখ্যাত ইসলামি চিন্তাবিদ হযরত সুফিয়ান সাওরি (রহ.)-এর মতে, “রোজা অবস্থায় কুলি করতে গিয়ে অনিচ্ছাকৃতভাবেও যদি গলার ভেতর পানি চলে যায়, তবে রোজা ভেঙে যাবে এবং তা কাজা করতে হবে। অজু ফরজ নামাজের জন্য হোক কিংবা নফল নামাজের জন্য—বিধান একই।” — (মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক: ৭৩৮০)

করণীয় কী?

রোজার পবিত্রতা রক্ষায় অজু বা গোসলের সময় গড়গড়া করে কুলি করা বা নাকের খুব গভীরে পানি নেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। স্বাভাবিকভাবে কুলি ও নাকে পানি দিলেই সুন্নত আদায় হয়ে যাবে। তাই এ বিষয়ে রোজাদারদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি।

নিয়োগ চলছে
সংবাদকর্মী আবশ্যক
রেডিও বার্তা টিমে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ুন
পরবর্তী সংবাদ আসছে...
লিংক কপি হয়েছে!
Radio Barta App Screen 1
Radio Barta App Screen 2
রেডিও বার্তার সব নিউজ পেতে ডাউনলোড করুন মোবাইল অ্যাপ
ক্লিক করুন