নারায়ণগঞ্জে থেমে থাকা ফেরি থেকে একটি প্রাইভেটকার শীতলক্ষ্যা নদীতে পড়ে ডুবে গেছে। বৃহস্পতিবার বন্দর উপজেলার নবীগঞ্জ ঘাটে এ ঘটনা ঘটে। পরে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলের প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় সন্ধ্যা ৭টার দিকে গাড়িটি নদী থেকে তীরে তোলা হয়। এ ঘটনায় কেউ হতাহত বা নিখোঁজ হননি। ডুবে যাওয়া প্রাইভেটকারের চালক মো. জাকির হোসেন বেঁচে আছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকাল সোয়া ৫টার দিকে বন্দর উপজেলার নবীগঞ্জ ঘাট থেকে ফেরিতে ওঠে একটি সাদা রঙের প্রাইভেটকার (ঢাকা মেট্রো-ঘ-১৭-৩২২৪)। এ সময় ফেরিতে অন্য গাড়িও ওঠানো হচ্ছিল। হঠাৎ প্রাইভেটকারটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেরির সামনের রশির ব্যারিয়ার ছিঁড়ে নদীতে পড়ে যায়। গাড়িটি কয়েক মিনিট ভেসে থাকে। এ সময় ভেতরে থাকা চালক জাকির হোসেন জানালা খুলে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন। গাড়িটি ৫-৭ মিনিট নদীতে ভেসে থাকা অবস্থায় কয়েকটি নৌকার মাঝি অন্যরা গাড়িটিকে নদীর তীরে ভেড়ানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। একপর্যায়ে প্রাইভেটকারটি নদীতে ডুবে যায়।
গাড়িটি নদীতে পড়ে যাওয়ার এই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। নদীর তীরে শত শত মানুষ ভিড় করেন। খবর পেয়ে হাজীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও বন্দর সার্ভিস এবং নৌ ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিটের ডুবুরি দল পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। ডুবুরি দল দুই ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে সন্ধ্যা ৭টার দিকে ডুবে যাওয়া প্রাইভেটকারটিকে রশি দিয়ে বেঁধে এবং ইঞ্জিনচালিত নৌকা ও স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় তীরে তোলে।
প্রাইভেটকারটির মালিক রাজধানীর বনানী এলাকার বাসিন্দা ব্যবসায়ী মাহমুদ রুদ্র। তিনি একজন ঠিকাদার। মাহমুদ রুদ্র জানান, তিনি ও তার এক বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে ব্যবসায়িক কাজে নারায়ণগঞ্জের বন্দরে একটি ডকইয়ার্ডে এসেছিলেন। বাড়ি ফেরার পথে ফেরিতে তার গাড়ি উঠলে তিনি ও তার বন্ধু গাড়ি থেকে নেমে দাঁড়ান। এ সময় চালক গাড়িটিকে পার্ক করতে গিয়ে সম্ভবত ভুলবশত দুর্ঘটনাটি ঘটে। এতে কারও কোনও গাফিলতি নেই, এটি চালকের অসাবধানতার কারণে ঘটেছে।
হাজীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার নুরুল আলম বলেন, ‘চালকের অসতর্কতার কারণে গাড়িটি ফেরি থেকে নদীতে পড়ে যায়। তবে চালক নিরাপদে বেরিয়ে আসতে পেরেছেন। স্থানীয় লোকজনের দেখানোমতে ডুবুরি দল গাড়ির সঙ্গে রশি বেঁধে ইঞ্জিনচালিত নৌকা ও স্থানীয় লোকজনের সাহায্যে গাড়িটি টেনে ওপরে তোলে। কারও কোনও ক্ষতি হয়নি।’
বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম আশরাফ উদ্দিন বলেন, ‘প্রাইভেটকারের ভেতরে থাকা চালক জানালা খুলে বেরিয়ে এসেছেন। এতে কোনও হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।’






