মাত্র দুই-তিন দিনের ব্যবধানে বদলে গেছে রাজধানী ঢাকার ফিলিং স্টেশনগুলোর চিত্র। গত প্রায় দেড় মাস ধরে জ্বালানি তেল পেতে পাম্পগুলোতে যেখানে গ্রাহকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে, সেখানে এখন বিরাজ করছে সুনসান নীরবতা। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ায় মাত্র কয়েক দিনেই সেই উপচে পড়া ভিড় উধাও হয়ে গেছে।
অনেক স্টেশনে দীর্ঘ সময় কোনো গাড়ি না আসায় কর্মীদের জিরিয়ে নিতে দেখা গেছে। বুধবার (২৯ এপ্রিল) দুপুর ১২টার পর রাজধানীর মুগদা, রাজারবাগ, আরামবাগ, মৎস্য ভবন ও মতিঝিল এলাকার অন্তত আটটি ফিলিং স্টেশন ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
দুপুর ১২টার দিকে মুগদা শান্ত সিএনজি রি-ফুয়েলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, তেল নেওয়ার জন্য মাত্র দুটি মোটরসাইকেল অপেক্ষায় আছে। ওই সময় মেঘনা পেট্রোলিয়ামের একটি গাড়ি থেকে স্টেশনটিতে অকটেন তেল নামানো হচ্ছিল। স্টেশনটির কর্মীরা জানান, গত রোববার থেকেই তারা গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত তেল সরবরাহ করছেন। সোমবার সকালে কিছুটা ভিড় থাকলেও বিকেল থেকে তা কমতে শুরু করে। গতকাল মঙ্গলবার ও আজ এই স্টেশনে বড় কোনো জটলা দেখা যায়নি; সর্বোচ্চ ১০-১২টি গাড়ির বেশি লাইন দীর্ঘ হয়নি।
দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মতিঝিলের মেসার্স পূবালী ফিলিং স্টেশন ও করিম অ্যান্ড সন্স ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, দুটি স্টেশনেই কোনো মোটরসাইকেল নেই। কিছু সময় পরপর দু-একটি গাড়ি এলেও পরক্ষণেই আবার ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে পাম্প। এই সুযোগে স্টেশনের কর্মীরা আশপাশে ঘোরাঘুরি ও বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। কাউকে কাউকে ফুয়েল ডিসপেনসার বা পাম্প মেশিনের পাশে বসে থাকতে দেখা গেছে।
দৈনিক বাংলার নাভানা সিএনজি স্টেশনে দুপুর পৌনে ১টার দিকে দেখা যায়, মোটরসাইকেলের কোনো লাইন নেই। তবে স্টেশনটিতে বেশ কিছু ব্যক্তিগত গাড়ি (প্রাইভেটকার) তেল নিতে অপেক্ষায় ছিল। কর্মীরা জানান, এখানে মোটরসাইকেলের তেল দেওয়া হলেও এখন চাপ না থাকায় অনেকক্ষণ পরপর দু-একটি মোটরসাইকেল আসছে।
অবশ্য দুপুর দেড়টার দিকে রমনা ফিলিং স্টেশনে ৮-১০টি মোটরসাইকেল লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। তবে সেখানে প্রাইভেটকারগুলো কোনো লাইন ছাড়াই সরাসরি তেল নিতে পারছে। আরামবাগের মেসার্স এইচ কে ফিলিং স্টেশনে পৌনে ২টার দিকে মাত্র ৩-৪টি মোটরসাইকেল দেখা গেছে। এছাড়া দুপুর আড়াইটার দিকে শহীদবাগের রাজারবাগ ফিলিং স্টেশনেও কোনো প্রকার জটলা ছাড়াই মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকারে তেল নিতে দেখা গেছে।
ফিলিং স্টেশনগুলোর সংশ্লিষ্ট কর্মীরা জানান, ডিপো থেকে এখন পর্যাপ্ত তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি তেলের দাম বাড়ায় গ্রাহকরা এখন আর বাড়তি তেল কিনে বাসায় মজুত করছেন না। গত কয়েক দিন ধরে গ্রাহকরা চাহিদামতো জ্বালানি নিতে পারছেন। ফলে অধিকাংশ যানবাহনেই এখন পর্যাপ্ত তেল রয়েছে। পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে, স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় এখন ফিলিং স্টেশনগুলো বেশি ফাঁকা থাকছে।
বার্তা বাজার/এস এইচ






