ঢাকা   শনিবার, ০৯ মে ২০২৬, ২৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Logorb
রেডিও বার্তা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
খুঁজছি: বিভাগীয় প্রধান

আলোর মুখ দেখেনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জৈব সার উৎপাদন কেন্দ্র, বাড়ছে জনভোগান্তি

Authorস্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ: ০৮ মে ২০২৬, ০৯:০২ এএম

আলোর মুখ দেখেনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জৈব সার উৎপাদন কেন্দ্র, বাড়ছে জনভোগান্তি

পরিবেশ দূষণ কমানো এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক করার লক্ষ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নির্মাণ করা হয়েছিল বর্জ্য থেকে জৈব সার তৈরির উৎপাদন কেন্দ্র। তবে নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার প্রায় পাঁচ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো চালু হয়নি উৎপাদন কেন্দ্রটি। ফলে প্রায় দেড় কোটি টাকার এই প্রকল্পটি অচল অবস্থায় পড়ে থাকাই জনমনে দেখা দিয়েছে হতাশা ও ক্ষোভ।

জানা যায় , পৌর এলাকার দৈনিক বিপুল পরিমাণ ময়লা-আবর্জনা পরিবেশের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করে জৈব সার উৎপাদনের মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষা ও কৃষিতে সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্যেই প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে জৈব সার উৎপাদন কেন্দ্রটি বন্ধ থাকায় কোনো সুফল পাচ্ছেন না স্থানীয়রা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট-এর অর্থায়নে ২০২১ সালের ৩০ নভেম্বর জেলার ছয়বাড়িয়া এলাকায় “পরিবেশসম্মত আবর্জনা ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র (স্যানিটারি ল্যান্ডফিল্ড)” নির্মাণ করা হয়। প্রকল্পটির আওতায় বর্জ্য শোধন ও জৈব সার উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও যন্ত্রপাতিও স্থাপন করা হয়।

সরেজমিনে দেখা যায়, জৈব সার উৎপাদন কেন্দ্রের ভবন ও যন্ত্রপাতি থাকলেও কার্যক্রমের কোনো প্রস্তুতি নেই। অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকায় অনেক যন্ত্রাংশ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, যথাসময়ে প্রকল্পটি চালু না হওয়ায় সরকারি অর্থের অপচয় হচ্ছে।

এদিকে শহরের বিভিন্ন স্থানে খোলা জায়গায় বর্জ্য ফেলার কারণে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে, বাড়ছে মশা-মাছির উপদ্রব এবং পরিবেশ দূষণ ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। সচেতন মহল বলছেন, কারখানাটি চালু হলে একদিকে শহরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সহজ হবে, অন্যদিকে কৃষকরা কম খরচে জৈব সার পেতে পারেন।

স্থানীয় এক বাসিন্দা জাহাঙ্গীর মিয়া বার্তা বাজার কে বলেন, “এত বড় প্রকল্প নেওয়ার পরও যদি বছরের পর বছর বন্ধ থাকে, তাহলে সাধারণ মানুষের কোনো উপকার হবে না। দ্রুত এটি চালু করা প্রয়োজন।”

পরিবেশ সচেতন নাগরিকরা দ্রুত জৈব সার উৎপাদন কেন্দ্রটি চালুর দাবি জানিয়ে বলেন, উন্নয়ন প্রকল্পের সফল বাস্তবায়ন না হলে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য দুটিই ঝুঁকির মুখে পড়বে।

পরিবেশ নিয়ে কাজ করা সংগঠন তরী বাংলাদেশের আহবায়ক শামীম আহমেদ বার্তা বাজারকে বলেন, শহরের বর্জ্য যথাযথভাবে ব্যবস্থাপনা না হওয়ায় একদিকে যেমন পরিবেশ দূষণ বাড়ছে, অন্যদিকে নদী-খাল ও জনস্বাস্থ্য মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়ছে। দ্রুত জৈব সার উৎপাদন কেন্দ্রটি চালু করা গেলে একদিকে পরিবেশ দূষণ কমবে, অন্যদিকে কৃষকরা পরিবেশবান্ধব জৈব সার পাবে এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

তিনি আরো অভিযোগ করে বলেন , বছরের পর বছর প্রকল্পটি বন্ধ থাকায় জনগণের প্রত্যাশা ভেঙে পড়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গাফিলতি ও সমন্বয়হীনতার কারণেই গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্প আলোর মুখ দেখছে না। জনসাধারণের দুর্ভোগ লাঘবে তরী বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দ্রুত জৈব সার উৎপাদন কেন্দ্রটি চালুর দাবি জানিয়েছেন তিনি।

এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো: কাউসার আহমেদ জানান,এটা ছিলো পরিবেশ অধিদপ্তরের আওতায়,প্ল্যান্ট চালুর বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

 

বার্তা বাজার/এস এইচ

 

নিয়োগ চলছে
সংবাদকর্মী আবশ্যক
রেডিও বার্তা টিমে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ুন
পরবর্তী সংবাদ আসছে...
লিংক কপি হয়েছে!