ঢাকা   বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
রেডিও বার্তা
রেডিও বার্তা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
খুঁজছি: বিভাগীয় প্রধান

"ঝুঁকির ভেলায় ঈদযাত্রা: খোলা ট্রাকে জীবনের বাজি!"

Authorস্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৫, ১০:৪৩ পিএম

"ঝুঁকির ভেলায় ঈদযাত্রা: খোলা ট্রাকে জীবনের বাজি!"

আর মাত্র দুদিন পর পবিত্র ঈদুল আজহা। প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে নাড়ির টানে ছুটে চলেছে মানুষ। তবে ভোগান্তি আর ঝুঁকি নিয়েই চলছে এ যাত্রা। যাত্রীদের অনেকে বাসের অভাবে খোলা ট্রাক, পিকআপভ্যান বা এমনকি বাসের ছাদেও চড়ছেন গন্তব্যে পৌঁছাতে।

বুধবার (৪ জুন) ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে—এলেঙ্গা বাসস্টেশন, রাবনা বাইপাস ও আশেকপুর এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, সাধারণ যাত্রীরা গণপরিবহন সংকটে পড়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন। অনেকেই আবার বেশি ভাড়া দিয়েও কোনোভাবে যাত্রার ব্যবস্থা করছেন।

বাসের তুলনায় সড়কে বেশি দেখা গেছে প্রাইভেটকার, মোটরসাইকেল, মাইক্রোবাস। পাশাপাশি ট্রাক, লোকাল বাস ও লেগুনাতেও চলছে যাত্রী পরিবহন। ঈদের আগে যাত্রীদের কাছ থেকে দ্বিগুণ, কখনো তিনগুণ পর্যন্ত ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ মিলেছে।

ভাড়ার চাপে এবং বাসের সংকটে বাধ্য হয়ে অনেকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে খোলা ট্রাক বা পিকআপে উঠে পড়ছেন। কেউবা বাসের ছাদে চড়ে ফিরছেন প্রিয়জনের কাছে। মিরপুর থেকে আসা যাত্রী সুমন খান ও আবিদ খান জানান, মিরপুর থেকে চন্দ্রা আসতেই তাদের সময় লেগেছে প্রায় ৪ ঘণ্টা। চন্দ্রা থেকে কালিয়াকৈর পর্যন্তও ছিল তীব্র যানজট, যদিও এরপর থেকে টাঙ্গাইল পর্যন্ত যাত্রা ছিল অপেক্ষাকৃত স্বস্তিদায়ক।

অন্যদিকে চন্দ্রা থেকে টাঙ্গাইলগামী যাত্রী জসীমউদ্দীন বলেন, আগে যে ভাড়া ৭০ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল, এখন দিতে হচ্ছে ২০০ টাকা। অনেক সময় দাঁড়িয়ে থেকেও বাস পাওয়া যাচ্ছে না।

টাঙ্গাইলের রাবনা বাইপাসে দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রী কামরুল হাসান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এক ঘণ্টা দাঁড়িয়ে আছি, কিন্তু কোনো গাড়ি থামছে না। বগুড়া যাব, অথচ আগে যে ভাড়া ছিল ২০০ টাকা, এখন চাচ্ছে ৪০০!”

একই অভিজ্ঞতার কথা জানান সিরাজগঞ্জের আবুল কালাম আজাদ এবং বগুড়ার আব্দুল লতিফ। তাঁরা বলেন, “বাস না পেয়ে ট্রাকে উঠেছি। ঈদ তো বছরে একবার আসে, পরিবারকে না দেখে থাকাও যায় না। ভাড়াও চড়া, তাই ট্রাকই ভরসা।”

যদিও এবারের ঈদযাত্রায় যানজট কিছুটা কম, তবুও ভোগান্তি পিছু ছাড়ছে না। ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনীও নিয়োজিত রয়েছে যাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে। প্রায় ৬৫ কিলোমিটারজুড়ে ৬০০-এর বেশি পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন।

জেলা প্রশাসক শরীফা হক জানান, “সার্বিকভাবে মানুষের যাত্রা এখন পর্যন্ত ভোগান্তিমুক্তই বলা যায়। তবে যানবাহনের চাপ অনেক বেড়েছে।”

নিয়োগ চলছে
সংবাদকর্মী আবশ্যক
রেডিও বার্তা টিমে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ুন
আরও সংবাদ লোড হচ্ছে...
✕
Radio Barta App Screen 1
Radio Barta App Screen 2
রেডিও বার্তার সব নিউজ পেতে ডাউনলোড করুন মোবাইল অ্যাপ
ক্লিক করুন