বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সহ-সভাপতি ও বরগুনা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শওকত হাচানুর রহমান রিমনের সব সম্পত্তি জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তার ব্যাংক হিসাব, এফডিআর, সঞ্চয়পত্র, শেয়ার, যানবাহন ও অন্যান্য আর্থিক সম্পদও অবিলম্বে অবরুদ্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দুর্নীতি দমন কমিশনে দায়ের করা একটি মামলার তদন্ত কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য আদালতে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ নির্দেশ দেওয়া হয়।
শুক্রবার (২২ মে) বিকালে আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট নুরুল আমিন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার বরগুনা জেলা জজ আদালতের সিনিয়র স্পেশাল জজ. মো সাইফুর রহমান এ আদেশ দেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, সাবেক সংসদ শওকত হাচানুর রহমান রিমনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, জমিদখল, ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ পূর্বক নিজের এবং পরিবারের সদস্যদের নামে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করা হয়।
ওই মামলার তদন্ত চলমান থাকায়, অভিযুক্ত আসামি নিজের এবং পরিবারের নামে অর্জিত স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি গোপনে হস্তান্তর বা অন্যত্র সরিয়ে ফেলার অপচেষ্টা করছেন। ফলে তদন্ত কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনের বিধিমালা ২০০৭ এর বিধি ১৮ মোতাবেক আসামির স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদগুলো ক্রোক করতে পাবলিক প্রসিকিউটর বরগুনা আদালতে একটি আবেদন করেন।
পরবর্তীতে দায়ের করা আবেদনের বিষয়ে শুনানি এবং সংযুক্ত নথিপত্র পর্যালোচনা করে, সুষ্ঠুভাবে তদন্ত পরিচালনার জন্য অভিযুক্ত আসামি রিমনের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদগুলো ক্রোক করার আবেদন মঞ্জুর করেন আদালত। একই সঙ্গে ওই আবেদনে তফশিলভুক্ত পরিবারের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদও পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাময়িকভাবে ক্রোক করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
এছাড়াও তফসিলভুক্ত অস্থাবর সম্পদ, ব্যাংক হিসাব, এফডিআর, সঞ্চয়পত্র, শেয়ার, যানবাহন ও অন্যান্য আর্থিক সম্পদও দ্রুত সময়ের মধ্যে অবরুদ্ধ করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন আদালত। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট আয়কর কর্তৃপক্ষকে রিমনের আয়কর রিটার্ন সম্পদ বিবরণী ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র জব্দসহ তলব করে আদালতে দাখিল করারও নির্দেশ দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে অ্যাডভোকেট নুরুল আমিন বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশনে দায়ের করা মামলায় তদন্তের প্রয়োজনে তার সম্পদ জব্দের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তের পর যদি অবৈধ প্রমাণ হয় তাহলে তা আদালত বাজেয়াপ্ত করতে পারেন। আর যদি বৈধ প্রমাণিত হয় তার সম্পদ তিনি ফেরত পাবেন।





