🛶 নদীতে ঝাঁপ দিয়ে নিখোঁজ, উদ্ধার অভিযানে ডুবুরি দল
লালমনিরহাটে পুলিশের উপস্থিতি দেখে নৌকা থেকে ধরলা নদীতে ঝাঁপ দেন এক মাদক মামলার আসামি। এরপর থেকে তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। নিখোঁজ যুবকের নাম শান্ত রায় (২২)। রোববার (২০ জুলাই) দুপুরে সদর উপজেলার মোগলহাট ইউনিয়নের ছয়মাতার ঘাট এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
পরে রবিবার রাত ৮টা থেকে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে। তবে সোমবার (২১ জুলাই) দুপুর ১২টা পর্যন্তও তার সন্ধান মেলেনি।
👤 নিখোঁজ যুবকের পরিচয়
নিখোঁজ শান্ত রায় কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ি উপজেলার নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের গোড়কমন্ডল গ্রামের বাসিন্দা। তার পিতার নাম বিন্দ চন্দ্র বর্মন।
পুলিশের ভাষ্যমতে, শান্ত একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী এবং তার বিরুদ্ধে চার্জশিটভুক্ত মামলা রয়েছে।
🕵️♂️ কীভাবে ঘটল ঘটনা?
লালমনিরহাট জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালায়। অভিযোগ অনুযায়ী, ফুলবাড়ি থেকে মোটরসাইকেলের সিটে গাঁজা লুকিয়ে পাচার হচ্ছিল লালমনিরহাটে।
ডিবি সদস্যরা মোগলহাট ইউনিয়নের মেঘারাম এলাকায় সকাল থেকেই অবস্থান করছিল। দুপুরে একদল মাদক পাচারকারী নৌকায় পৌঁছালে অমল চন্দ্র নামে একজনকে মোটরসাইকেলসহ আটক করা হয়, এবং তার কাছ থেকে চার কেজি গাঁজা জব্দ করা হয়।
অমলের সঙ্গে থাকা শান্ত রায় প্রথমে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে সামনে উঁচু স্থানে আশ্রয় নেন। এরপর পুলিশ সেদিকে এগোলে, আবার নদীতে লাফ দিয়ে স্রোতের মধ্যে নিখোঁজ হয়ে যান।
👪 পরিবার বলছে ‘ভয়ে পালিয়েছে’, পুলিশের বক্তব্য ভিন্ন
নিখোঁজ যুবকের ভাই স্বপন রায় জানান,
“আমার ভাই শান্ত মামার বাড়ি যাওয়ার জন্য নৌকায় উঠেছিল। প্রতিবেশী অমল গাঁজাসহ ধরা পড়েছে দেখে ভয়ে নদীতে ঝাঁপ দেয়। সে কারও সহায়তা নেওয়ার চেষ্টা করছিল, কিন্তু পুলিশ তাকে ধাওয়া দিলে সে আবার নদীতে ঝাঁপ দেয় এবং তারপর থেকে নিখোঁজ।”
অন্যদিকে লালমনিরহাট ডিবি পুলিশের ওসি সাদ আহমেদ দাবি করেন,
“আমরা শান্তকে ধাওয়া দিইনি। সে নিজেই পালিয়েছে। আমরা নিশ্চিত, সে অমলের সহযোগী এবং তার কাছেও মাদক ছিল।”
পুলিশ সুপার তরিকুল ইসলাম জানান,
“ঘটনার তদন্তে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ঘটনাস্থলে গিয়েছেন। তদন্ত শেষেই বিস্তারিত জানা যাবে।”
নদীতে ঝাঁপ দিয়ে একজন মাদক ব্যবসায়ীর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা এবং নিখোঁজ যুবকের পরিবারের অভিযোগ—উভয় দিক থেকেই ঘটনাটি গুরুত্বপূর্ণ।
🔎 ঘটনাটি তদন্তাধীন থাকলেও, এতে পুলিশি আচরণ ও অভিযান পরিচালনা পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।






