পাবনার ঈশ্বরদীতে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে জমি ও দোকান দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে পৌর মহিলা দলের সভানেত্রী রোকেয়া সুলতানার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা সংবাদ সম্মেলন করে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও ন্যায়বিচার দাবি করেছেন।
রোকেয়া সুলতানা ঈশ্বরদী পৌর মহিলা দলের সভানেত্রী এবং প্রয়াত বিএনপি নেতা শাহান মণ্ডলের স্ত্রী। আজ বুধবার শহরের রেলগেট এলাকায় নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আনারকলি।
আনারকলি অভিযোগ করেন, ২০২৩ সালে শাহান মণ্ডলের ভাই সাহাব উদ্দিন মণ্ডলের কাছ থেকে বৈধ দলিলের মাধ্যমে সাড়ে তিন কাঠা জমি কেনেন। পরে জমির নামজারি ও খাজনা পরিশোধ করে সেখানে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করে ভাড়া দেন। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর থেকে রোকেয়া সুলতানা কয়েকজন নারী ও সহযোগীদের নিয়ে একাধিকবার ওই দোকান দখলের চেষ্টা করেন। গত এক বছরে কয়েক দফায় দোকান থেকে ২৭ লাখ টাকার মালপত্র চুরি করা হয়েছে।
আনারকলির অভিযোগ, জমি ও মালপত্র চুরির ঘটনায় থানাসহ উচ্চ আদালতে মামলা রয়েছে। আদালত উভয় পক্ষকে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দিলেও তা উপেক্ষা করে দোকানের তালা ভেঙে মালপত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তাদের পরিবারকে বিভিন্নভাবে হুমকি ও হয়রানি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের সদস্য আউয়াল কবির, রাশেদ আলী এবং স্থানীয় বাসিন্দা হাবিবুর রহমান হাবিব উপস্থিত ছিলেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে রোকেয়া সুলতানা বলেন, স্বামী শাহান মণ্ডলের ওয়ারিশ হিসেবে তিনি ওই জমির অংশবিশেষের বৈধ মালিক। জমির মালিকানা নিয়ে আদালতের মাধ্যমে উচ্ছেদ মামলা করা হবে। তবে দোকান থেকে মালপত্র চুরির অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন তিনি।
ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার বলেন, জমি ও দোকান নিয়ে আদালতে মামলা বিচারাধীন থাকায় পুলিশের সরাসরি করণীয় সীমিত।
বার্তা বাজার/এস এইচ






