ঢাকা   মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Logorb
রেডিও বার্তা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
খুঁজছি: বিভাগীয় প্রধান

নেশার টাকার জন্য স্ত্রীকে মারধরের অভিযোগ ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে

Authorস্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৬, ০১:০২ পিএম

নেশার টাকার জন্য স্ত্রীকে মারধরের অভিযোগ ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে

নেশার টাকার জন্য শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র সহসভাপতি মাইদুল ইসলাম বাপ্পির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতির কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তার স্ত্রী উম্মে জেবিন।

সোমবার (১৫ জুন) উম্মে জেবিন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ও ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি বরাবর পৃথক অভিযোগপত্র জমা দেন।

লিখিত অভিযোগে তিনি বলেন, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সিনিয়র সহসভাপতি মাইদুল ইসলাম বাপ্পির সঙ্গে গত ২৬ মার্চ আমার বিয়ে হয়। বিয়ের আগে সে আমার সঙ্গে প্রতারণা করার চেষ্টা করলে আমার পরিবার তাজহাট থানায় তার নামে অভিযোগ করে। সেই অভিযোগ থেকে বাঁচতে মাইদুল ইসলাম আমাকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকে সে আমার ওপর শারীরিক ও অমানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, সে নিয়মিত নেশা করে এবং নেশার টাকার জন্য আমার গায়ে হাত তোলে। বিয়ের পর থেকে এ পর্যন্ত সে কোনো কাজ করে না, সম্পূর্ণ আমার দেওয়া টাকায় চলে এবং জোরপূর্বক আমার কষ্টে উপার্জিত টাকা দিয়ে সে নেশা করে। ছোটখাটো যে কোনো বিষয়ে সে আমায় মারধর করে এবং আমার ওপর চাপ প্রয়োগ করে পরিবার থেকে যেন তাকে টাকা নিয়ে দিই। যৌতুকের টাকা না দিলে নাকি তার পরিবার আমাকে মেনে নেবে না।

অভিযোগে ছাত্রদল নেতার স্ত্রী বলেন, আমাকে ঘরে আটকে রেখে মারধর করে এবং ভয়ভীতি দেখায় যে, কাউকে এ ব্যাপারে বললে আমায় হত্যা করবে। এভাবে দীর্ঘদিন ধরে সে আমাকে নির্যাতন করে আসছে। বিভিন্ন সময়ে সে আমার থেকে টাকাপয়সা নিয়ে আসছে এবং জোরপূর্বক একটি স্মার্টফোনও নিয়েছে যা সে এখন নিজের বলে দাবি করে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মাইদুল ইসলাম বাপ্পি। তিনি বলেন, জেবিন আমার স্ত্রী। ওর সঙ্গে সামান্য ভুল বোঝাবুঝি নিয়ে মনমালিন্য হয়। এটা একান্তই আমাদের ব্যক্তিগত এবং পারিবারিক বিষয়। জেবিন আর আমার মধ্যে কথা হয়েছে, আমাদের আর কোনো সমস্যা নেই। তবে একটা পক্ষ উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে মিথ্যাচার ছড়িয়ে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করছে।

এদিকে অভিযোগের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী ঘটনাটিকে ‘ব্যক্তিগত’ ও ‘পারিবারিক’ বিষয় উল্লেখ করে মাইদুল ইসলাম বাপ্পির পক্ষে ফেসবুকে পোস্ট দেন।

পরে উম্মে জেবিন ওই পোস্টের স্ক্রিনশট নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে শেয়ার করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘ঝগড়া আর ফরমাল অভিযোগের ভেতরের পার্থক্য ভুলে গেছে বেরোবি ছাত্রদল। লিখিত অভিযোগ দেখেও না দেখার ভান করে এটিকে ঝগড়া বা ব্যক্তিগত বিষয় বলে চালিয়ে দিতে চাচ্ছে। চোখ থাকতেও অন্ধ, নাকি ব্রেন থাকতেও ব্রেনলেস?’

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. মো. ফেরদৌস রহমান জানান, অভিযোগের একটি কপি হোয়াটসঅ্যাপে পেয়েছেন। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে যথাযথ প্রক্রিয়ায় অভিযোগ জমা দিতে হবে। অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চলছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

বার্তা বাজার/এস এইচ

 

 

নিয়োগ চলছে
সংবাদকর্মী আবশ্যক
রেডিও বার্তা টিমে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ুন
পরবর্তী সংবাদ আসছে...
লিংক কপি হয়েছে!
Radio Barta App Screen 1
Radio Barta App Screen 2
রেডিও বার্তার সব নিউজ পেতে ডাউনলোড করুন মোবাইল অ্যাপ
ক্লিক করুন