নির্মম এক ট্র্যাজেডি কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায়—ছেলেকে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট অবস্থায় দেখতে পেয়ে তাকে বাঁচাতে ছুটে যান মা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত নিজের জীবনটাও দিতে হলো তাকে। একসঙ্গে প্রাণ গেল মা-ছেলের।
শনিবার (২ আগস্ট) বিকেলে ভেড়ামারা উপজেলার চাঁদগ্রাম ইউনিয়নে এই হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন–জোসনা খাতুন (৫০) এবং তার ছেলে মো. বিপ্লব সরদার।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিকেলে বিপ্লব নিজ জমিতে ট্রাক্টর চালিয়ে কাজ করছিলেন। কাজ শেষে খামারে প্রবেশ করতেই ট্রাক্টরের গায়ে লেগে থাকা একটি ঝুলন্ত বৈদ্যুতিক তারে জড়িয়ে যান তিনি। সঙ্গে সঙ্গেই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মাটিতে পড়ে ছটফট করতে থাকেন।
এই দৃশ্য চোখে পড়ে তার মায়ের। ছেলেকে বাঁচাতে মুহূর্তেই দৌড়ে গিয়ে বিপ্লবকে জড়িয়ে ধরেন তিনি। কিন্তু ছেলেকে আলাদা করতে গিয়ে নিজেও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান জোসনা খাতুন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, একসঙ্গে দুই প্রিয়জন হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন বাবা হাবিল সরদার। কষ্টে বারবার অজ্ঞান হয়ে পড়ছেন তিনি।
বিপ্লবের বোনজামাই বিপুল আহমেদ বলেন, “আমাদের এলাকায় এমন ভয়াবহ দুর্ঘটনা আগে কখনো ঘটেনি। পরিবারটাই যেন মুহূর্তে উজাড় হয়ে গেল।”
ভেড়ামারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল রব তালুকদার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনাটি একটি দুর্ঘটনা হওয়ায় পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এই মর্মান্তিক মৃত্যু এলাকায় গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে। অনেকেই বলছেন, অসতর্কভাবে ঝুলে থাকা বৈদ্যুতিক তারের কারণেই এমন অনাকাঙ্ক্ষিত প্রাণহানি ঘটেছে—যা সহজেই এড়ানো সম্ভব ছিল।






