নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হওয়ায় এক বিএনপি নেতাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে অন্য নেতার বিরুদ্ধে। সোনারগাঁ থানা বিএনপির সহ-যুব বিষয়ক সম্পাদক নোবেল মীরকে এই হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে শম্ভুপুরা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনীতিতে চাঞ্চল্য ও দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
শুক্রবার (৩ জুলাই) বিকেলে উপজেলার উদ্দবগঞ্জ এলাকার একটি রেস্তোরাঁয় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন ভুক্তভোগী নেতা নোবেল মীর।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, বিগত ১৭ বছর স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজপথে থেকে অসংখ্য জেল-জুলুম ও নির্যাতনের শিকার হয়েছি। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, বর্তমান সময়ে এসে আমি নিজের দলেরই একটি প্রভাবশালী চক্রের নোংরা ষড়যন্তের শিকার হচ্ছি। শম্ভুপুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে মাঠে গণসংযোগ করায় ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম দফায় দফায় আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন।
নোবেল মীর আরও বলেন, জাহাঙ্গীর আলম কেবল হুমকি দিয়েই ক্ষান্ত হননি; রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে আমাকে দূরে রাখতে ১৪ বছর আগের একটি পুরোনো চেক আমার বাসা থেকে চুরি করে সাজানো ‘চেক ডিজঅনার’ মামলার ভয় দেখাচ্ছেন। এছাড়া আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির বিতর্কিত ব্যক্তিদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে তিনি দলের ভেতর নিজের একক আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করছেন এবং ত্যাগী নেতাকর্মীদের কোণঠাসা করে রাখছেন।
ভুক্তভোগী এই বিএনপি নেতা জানান, প্রাণনাশের হুমকি পাওয়ার পর জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে তিনি সোনারগাঁ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। কিন্তু জিডি করার পরও পুলিশের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। প্রশাসনের কাছ থেকে প্রতিকার না পাওয়ায় তিনি এখন পরিবারসহ চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে শম্ভুপুরা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ ‘মিথ্যা ও বানোয়াট’ বলে দাবি করেন।
তবে সাংবাদিকের সঙ্গে কথা বলার একপর্যায়ে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে উল্টো হুমকি দিয়ে বলেন, ইউনিয়ন পরিষদে দেখা হলে বিষয়টি বুঝে নেব।






