ঢাকা   শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Logorb
রেডিও বার্তা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
খুঁজছি: বিভাগীয় প্রধান

পুনরায় চালু হচ্ছে শামীম ওসমানের অঘোষিত কার্যালয় রাইফেল ক্লাব

Authorস্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৬, ০৫:৫২ পিএম

পুনরায় চালু হচ্ছে শামীম ওসমানের অঘোষিত কার্যালয় রাইফেল ক্লাব

আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে অবৈধভাবে দখলে নেওয়া সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের অলিখিত রাজনৈতিক কার্যালয়ে পরিণত হওয়া নারায়ণগঞ্জ রাইফেল ক্লাবটি পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, দেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী শুটিং ও ক্রীড়া প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত ছিল নারায়ণগঞ্জ শহরের প্রাণকেন্দ্র চাষাঢ়া এলাকার রাইফেল ক্লাব। এটি সরকারি স্থাপনা হলেও আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে ক্লাবটিকে অলিখিতভাবে নিজের কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করতেন শামীম ওসমান।

এছাড়া বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময়েও ছাত্র-জনতার ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনায়ও আলোচিত ছিল রাইফেল ক্লাবটি। ২০২৫ সালের ১৯ জুলাই শতশত অস্ত্রধারীদের নিয়ে আন্দোলন দমন করতে নামেন শামীম ওসমান। এসময় অত্যাধুনিক সব অস্ত্র ব্যবহার করতে দেখা যায় শামীম ওসমান ও তার অনুসারীদের। এসব অস্ত্র রাইফেল ক্লাব থেকেই নিয়ে আসেন শামীম ওসমান।

পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এসব ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে জনসাধারণের মধ্যে চরম ক্ষোভ দেখা যায়। আন্দোলনের দ্বিতীয় দফায় ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট আন্দোলনকারীরা শহরের রাইফেল ক্লাবে হামলা চালায়। এসময় তারা শামীম ওসমানের ব্যানার, ফেস্টুন ও ছবি ভাঙচুর করে। একপর্যায়ে রাইফেল ক্লাবে অগ্নিসংযোগ করে বিক্ষুব্ধ জনতা। সেই সঙ্গে আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। শামীম ওসমান দেশ ছাড়েন। এরপর থেকেই পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল শহরের ঐতিহ্যবাহী রাইফেল ক্লাবটি।

তবে এবার সেই আলোচিত রাইফেল ক্লাবটি আবারও চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পদাধিকার বলে রাইফেল ক্লাবের সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবিরের অনুমতিতে এবং সিনিয়র কয়েকজন সদস্যের উদ্যোগে ক্লাবটি আবারও চালু হতে যাচ্ছে। সেই সঙ্গে আগের থেকে আরও ভালো অবস্থানে ফিরবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেছেন।

নারায়ণগঞ্জ রাইফেল ক্লাবের সিনিয়র সদস্য ও সাবেক শুটার এম এ সাত্তার ভুট্টু বলেন, আমরা জেলা প্রশাসকের কাছে গিয়েছিলাম। ডিসি আমাদের বলেছেন- ক্লাবটি পরিষ্কার করে বসতে। রোড অ্যান্ড হাইওয়ে যে অংশটুকতু নিয়েছে সেটুক রেখে বাকি জায়গা সংস্কার করার অনুমতি দিয়েছেন। ডিসির কথা অনুযায়ী ক্লাবটি চালু করতে চাই। শুটিং ফেডারেশন আমাদের শর্ত দিয়েছে রাইফেল ক্লাব না থাকলে সদস্যপদ থাকবে না। আমরা বিষয়টি ডিসির কাছে উপস্থাপন করেছি। তিনি আমাদের ক্লাবটি চালুর অনুমতি দিয়েছেন।

তিনি বলেন, রাইফেল ক্লাব আগের থেকে ভালোভাবে চালু হবে। কারণ রাইফেল ক্লাব কোনো রাজনৈতিক ক্লাব না। এটি স্পোর্টস ক্লাব। এখানে যারা আসেন সবাই ভদ্র-শিক্ষিত লোক। আশা করি আগের থেকে ভালো করবো।

শামীম ওসমানের সন্ত্রাসের আখড়া বানানোর বিষয়টি উল্লেখ করে সাত্তার ভুট্টু বলেন, আমি ১৯৭৮ সাল থেকে এই ক্লাবের সঙ্গে জড়িত। আমরা যখন ছিলাম তখন সন্ত্রাস বাহিনী এখানে ঢুকতে সাহস করেনি। এটা প্রথমে নাসিম ওসমান, সেলিম ওসমান, শামীম ওসমান সদস্য হিসেবে ছিলেন। একসময়ে এটাকে সন্ত্রাসের আখড়ায় পরিণত করলেন। আমরাও যেহেতু রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলাম তাই আমাদের তিনি এখানে আসতে দিতেন না। অনেক সময় দেশের বাহিরে থাকতে হয়েছে তাদের ভয়ে।

নারায়ণগঞ্জ রাইফেল ক্লাবের সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির বলেন, অনুমোদন রাখতে হলে শুটিং ফেডারেশন থেকে ক্লাবটি চালু করার ব্যাপারে বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সওজের রাস্তা প্রশস্তকরণের জন্য প্রয়োজনীয় জায়গা রেখে বাকি অংশে ক্লাবের কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিশুরা এবং প্রশিক্ষণার্থীরা যাতে ক্লাবে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে পারে এবং খেলা চালিয়ে যেতে পারে তাই আপাতত ছোট পরিসরে সংস্কার করে ক্লাব চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত হলে অন্য কোথাও ক্লাবের নতুন ভবনে বড় পরিসরে ক্লাবের কার্যক্রম শুরু হবে।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে এখানে বসেই নারায়ণগঞ্জ শহরের রাজনীতি ও নানান অপকর্ম নিয়ন্ত্রণ করতেন শামীম ওসমান। আগে শহরের বালুরমাঠ এলাকায় রাইফেল ক্লাব নামে আরেকটি অফিস ছিল শামীম ওসমানের। ২০০১ সালের ১৬ জুন শামীম ওসমানের ওপর বোমা হামলার হয় এই রাইফেল ক্লাবে। পরবর্তীতে নির্বাচনে হেরে গেলে দেশ ছেড়ে কানাডা পালিয়ে যান শামীম ওসমান।

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে দেশে ফিরে আসেন শামীম ওসমান। ততদিনে রাইফেল ক্লাবের জায়গা পরিবর্তন হয়ে বর্তমানের জায়গায় চলে আসে। আর দেশে ফিরেই পুনরায় রাইফেল ক্লাবের দখল নেন শামীম ওসমান। নারায়ণগঞ্জের ব্যাবসায়ী থেকে শুরু করে সাত খুন মামলায় ফাঁসির আসামি নূর হোসেনের মতো সন্ত্রাসীরাও রাইফেল ক্লাবে শামীম ওসমানের কাছে হাজিরা দিতো।

রাইফেল ক্লাবের ভেতরে ছিল শামীম ওসমানের টর্চারসেল। শামীম ওসমানের মতের বিরোধিতা করলেই রাইফেল ক্লাবে ডেকে নিয়ে টর্চার করা হতো। ২০১১ সালের পর থেকেই নারায়ণগঞ্জ শহর গুম ও খুনের শহর হিসেবে দেশব্যাপী সমালোচিত হতে থাকে। আশিক, চঞ্চল, বুলু, ত্বকী, সাত খুনসহ একের পর এক হাইপ্রোফাইল হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সন্ত্রাসের জনপদে পরিণত হয় নারায়ণগঞ্জ। এসব ঘটনার প্রতিটিতেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল রাইফেল ক্লাব।

এছাড়াও নারায়ণগঞ্জ শহরের ঝুট সেক্টরের নিয়ন্ত্রণ, ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়, ফুটপাতের হকার নিয়ন্ত্রণ, সরকারি বিভিন্ন টেন্ডারসহ পুরো শহর এই রাইফেল ক্লাব থেকেই নিয়ন্ত্রণ করা হতো।

নিয়োগ চলছে
সংবাদকর্মী আবশ্যক
রেডিও বার্তা টিমে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ুন
পরবর্তী সংবাদ আসছে...
লিংক কপি হয়েছে!
Radio Barta App Screen 1
Radio Barta App Screen 2
রেডিও বার্তার সব নিউজ পেতে ডাউনলোড করুন মোবাইল অ্যাপ
ক্লিক করুন