বগুড়ায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা শওকত ইমরানের বিরুদ্ধে এক ব্যাংককর্মীকে জোর করে তুলে নিয়ে মারধর, নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া এবং পরে বিকাশে আরও টাকা দাবি করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মো. আশরাফুল ইসলাম (৩০) বগুড়া সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযুক্ত বগুড়া জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) বগুড়া জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদকের পদে রয়েছেন।
অভিযোগে আশরাফুল ইসলাম উল্লেখ করেন, তিনি ইসলামী ব্যাংক পিএলসি, নওগাঁ শাখায় কর্মরত। শনিবার (১ আগস্ট) দুপুর আড়াইটার দিকে বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজের নতুন ভবনের দক্ষিণ গেটসংলগ্ন ইসলামী ব্যাংকের এটিএম বুথ থেকে বেতন উত্তোলন করে সিএনজিচালিত অটোরিকশাযোগে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন।
পথিমধ্যে তিনমাথা রেলগেট অতিক্রম করে ফ্লাইওভারের নিচে পৌঁছালে অভিযুক্ত শওকত ইমরান ও অজ্ঞাতনামা আরো চারজন দুটি মোটরসাইকেল দিয়ে অটোরিকশার গতিরোধ করে।
এরপর তাকে জোরপূর্বক মোটরসাইকেলে তুলে মহানগরের পুরান বগুড়ার একটি ছাত্রাবাসে নিয়ে আটকে রাখা হয়।
ভুক্তভোগীর দাবি, সেখানে তাকে চড়-থাপ্পড়, কিল-ঘুষি ও লাথি মেরে নির্যাতন করা হয়। চাকু দেখিয়ে প্রাণনাশের ভয় দেখিয়ে তার কাছ থেকে নগদ ৮২ হাজার টাকা, একটি রিয়েলমি ১৫টি মডেলের মোবাইল ফোন, একটি হুয়াওয়ে জিআর৫ মিনি মোবাইল ফোন, ড্রাইভিং লাইসেন্স, জাতীয় পরিচয়পত্র, ইসলামী ব্যাংকের এটিএম কার্ড এবং তিনটি মোবাইল সিম ছিনিয়ে নেওয়া হয়। ঘটনার সাক্ষী হিসেবে দুজনের নাম অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে পরামর্শ করে থানায় অভিযোগ করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলেও জানান তিনি।
অভিযোগে আরো বলা হয়, নির্যাতনের একপর্যায়ে অভিযুক্তরা তাদের ইচ্ছামতো একটি জবানবন্দি ভিডিও রেকর্ড করেন। পরে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে একটি বিকাশ নম্বরে আরো ২০ হাজার টাকা পাঠানোর জন্য চাপ দেওয়া হয়। টাকা না পাঠালে তাকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন আশরাফুল ইসলাম।
তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত এনসিপি নেতা শওকত ইমরানকে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
বগুড়া সদর থানার ওসি ইব্রাহিম হোসেন জানান, জেলা এনসিপি নেতা শওকত ইমরানসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে একটি অপহরণ, নির্যাতন ও ছিনতাইয়ের অভিযোগ পেয়েছি৷ অভিযোগটি তদন্ত করে যদি সত্যতা পাওয়া যায়, তবে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বার্তা বাজার/ আইকে






